আইপিএলের পথেই হাঁটছে বিপিএল! দিনে দিনে বেড়েছে বিপিএলের প্রাইজমানি। এবারের চ্যাম্পিয়ন দল পাচ্ছে ২ কোটি টাকা।
গতবারের চেয়ে এবার বেড়েছে রানার্স আপের আর্থিক মুল্য। প্লেয়ার অব দি টুর্নামেন্ট পাবে ১০ লক্ষ টাকা,যা অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ।
প্রথমদিকে বেশ নিষ্প্রভ থাকলেও শেষের দিকে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিপিএল!
১৬ই ফেব্রুয়ারি অবিস্মরনীয় ফাইনালের মধ্যদিয়ে নবম আসরের বিপিএলের পর্দা নামলো। 2023 সালের বিপিএল অর্থমুল্যের দিক দিয়ে ছাড়িয়ে গেছে আগের ৮ টি বিপিএলকে।
এতে যেমন প্রশংসিত হয়েছে এবারের আয়োজন, তেমনি প্লেয়ারদের মনে অনুপ্রেরনা জাগিয়েছে দারুন কিছু করার। চ্যাম্পিয়নদের জন্য রাখা হয়েছে প্রায় দুকোটি টাকার প্রাইজমানি।
অন্যদিকে রানার্স আপের জন্য থাকছে ১ কোটি টাকার প্রাইজমানি! এর আগের আসর গুলোতে সমালোচনা ছিল পরাজিত দলের প্রাইজমানি নিয়ে।
ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে চ্যাম্পিয়নদেরকে ২ কোটি আর রানার্স আপের জন্য মাত্র ৭৫ লাখ একটু দৃষ্টিকটু। তাইতো এবার সেটা বাড়িয়ে ১ কোটি করা হয়েছে। গতবারের চেয়ে ২৫ লক্ষ টাকা বেশি।
এবারের ফাইনালে ম্যাচসেরার জন্য রাখা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকার লোভনিয় প্রাইজমানি। যেটা আগের যেকোন টুর্নামেন্ট থেকে সর্বোচ্চ।
পুরো বিপিএলে দুর্দান্ত ফিল্ডারের জন্য রাখা হয়েছে আকর্ষনীয় প্রাইজমানি। সেরা ফিল্ডারের জন্য বরাদ্দ ৩ লক্ষ টাকা।
সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের জন্য এবারে রাখা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকার প্রাইজমানি। এই পুরস্কারটি যে, নাজমুল হাসান শান্ত পাচ্ছে এক রকম নিশ্চিত করেই বলায় যায়।
সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের জন্যও রাখা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা। এবারের চমক জাগিয়েছে প্লেয়ার অব দি টুর্নামেণ্টের প্রাইজমানি।
১০ লক্ষ টাকার পুরষ্কার টুর্নামেণ্ট সেরার হাতে তূলে দেয়া হবে যা গত আসরের চেয়ে দ্বিগুন। এ দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার খ্যাত সাকিব আল হাসান।
নিজের দল বরিশালকে ফাইনালে উঠাতে ব্যর্থ হলেও ব্যক্তিগত পারফর্মেন্সে তাকে দেখা গেছে সমুজ্জ্বল। গতবারের মতো এবারো টুর্নামেণ্ট সেরার পুরষ্কারটি তার হাতেই উঠতে পারে।
বিপিএলের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ গুলোতে ম্যান অব দি ম্যাচ প্লেয়াররা পেয়েছেন ১ লক্ষ টাকা করে। তবে এলিমিনেটর আর দুটি কোয়ালিফায়ারের জন্য সেটা ডাবল অর্থাৎ ২ লক্ষ টাকা করে দেয়া হয়েছে।
সবমিলিয়ে এবারের বিপিএলে মোট প্রাইজমানি রাখা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকার মতোন যা যেকোন আসরের থেকে সর্বোচ্চ অর্থমুল্য।
নবম আসরের বিপিএল নিয়ে নাটকীয়তারর শেষ ছিলনা। টূর্নামেণ্টের শুরুতেই ছিল নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ।
জার্সি নিয়ে দলগুলোর মাঝে গরিমসি আর DRS না থাকা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে প্রতিটি মহল থেকে ।
আর তাইতো এমন বাজে ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ভাষ্য ছিল ‘বিপিএলের যা তা অবস্থা। জাতীয় দলের সাবেক ক্যাপটেন বস মাশরাফিরও অভি্যোগের শেষ নেই এবারের বিপিএল নিয়ে।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে দেশিয় ক্রিকেটারদের অনবদ্য পারফর্মেন্স,ভুলিয়ে দিয়েছে টুর্নামেন্টের শত অব্যবস্থাপনা। সম্ভাবনা জাগিয়েছে জাতীয় দলে কিছু নতুন উদিয়মান মুখের।
প্রতিবারের মতো এবারের বিপিএলেও ছিল মাশরাফি ম্যাজিক। নড়বড়ে অতি সাদামাটা দল সিলেট স্ট্রাইকার্সকে নিয়ে গেছেন ফাইনালে।
তার ক্যাপ্টেন্সির জাদুর ছোয়ায় ৫ম বারের মতো কোন দল ফাইনালে উঠলো। এর আগের ৪ বারের কোন বারেই ফাইনালে হারেননি তিনি।
সবশেষে দেখার পালা শিরোপা কার ঘরে যায় সিলেটের নাকি কুমিল্লার?