বাঘ বুড়ো হলেও বাঘই থাকে আর সেকথাই প্রমাণ করলেন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি! শুরু থেকেই বিপিএলে সিলেট দলটির আত্নবিশ্বাস নানান ধরণের নেতিবাচক মন্তব্য দিয়ে ভেঙে গুড়ীয়িয়ে দিয়েছিলেন সমালোচকেরা!
বুড়োদের দল,রিহ্যাব সেন্টার এমন অনেক বাজে তকমা জুটেছিলো তাদের কপালে। সেই খুড়িয়ে চলা নেতিয়ে যাওয়া বুড়োদের দলটাই নাটকীয়ভাবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল হিসেবে পৌঁছে যায় ফাইনালে!
এতোদিন চুপ থাকলেও এবার সমালোচকদের উচিত জবাব দিলেন সিলেট অধিনায়ক ম্যাশের স্ত্রী সুমনা হক সুমী।
''যারা বলেছিল সিলেট স্ট্রাইকার্স বুড়োদের দল,রিহ্যাব সেন্টার,তারা এবার যোগ্য জবাব পেয়েছে। কোন টিম নিয়ে এমন মন্তব্য করা ঠিক না। ভালো লাগছে সিলেট ফাইনালে উঠেছে৷"
সিলেটের হয়ে প্রথমবারের মতো বিপিএলের ফাইনালে পৌঁছাতে পেরে এমনটাই বলছিলেন সুমী। ভালবাসা দিবসে এমন জয়কে বিশেষ পাওয়া বলেও সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেন মাশরাফি পত্নী।
সিলেটের এমন সাফল্যের পেছনের কারিগর হিসেবে অন্য সবার মতো তার মুখেও শোনা যায় মাশরাফির নাম।
সুমির মতে, ম্যাশ একইসাথে ম্যাজিশিয়ান এবং ফাইটার। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বুড়োর মতো নয়, বরং রাজার মতোই খেলেন মাশরাফি। এখনো সৈনিকের মতো লড়াই করে যাচ্ছেন মাঠে।
নিজের অসাধারণ নেতৃত্বের গুনে সিলেট দলটাকে যেন বদলে দিয়েছেন মাশরাফি। দলে তেমন তারকা ক্রিকেটার না থাকলেও, ক্রিকেটারদের থেকে সেরাটা বের করে সিলেটকে দুর্দান্তভাবে এগিয়ে নিয়ে গেলেন ফাইনালে!
যাদের বৃদ্ধ বলা হচ্ছিলো তারা প্রত্যেকেই কিন্তু দাপট দেখিয়েছেন। প্রত্যেকেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
নড়াইল এক্সপ্রেসের ম্যাজিকে শক্তিশালী দলগুলোকেও হারাতে পেরেছে সিলেট স্ট্রাইকার্স। বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ অবস্থান নিয়েই ফাইনালে পৌঁছাতে পেরেছে দলটি।
যদিও মাশরাফি নিজে এসবে বিশ্বাস করেন না। সংবাদ সম্মেলনে এসে তার অধিনায়কত্বের সঙ্গে সাফল্যের যোগসূত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো ম্যাজিক নেই। সবই আল্লাহর রহমত।"
ম্যাশ না বিশ্বাস করলেও, তার নেতৃত্বে বিশেষ কিছু আছে বলে বিশ্বাস করেন সুমী যা যে কোনো দলকে অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে।
মাশরাফি কী সেটা অন্যরা না বুঝলেও বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটারেরা ঠিকই বুঝেছিলেন। ‘আমার দূর্ভাগ্য, আমি মাশরাফির সাথে একই টিমে খেলতে পারিনি!’ এভাবেই আক্ষেপ করে বলেছিলেন বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার ব্রায়ান লারা!
তোমরা আমাকে একজন মাশরাফি দাও, আমি তোমাকে এগারোটা ‘সোনার টুকরা' উপহার দেবো- ম্যাশকে নিয়ে এই মন্তব্য করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক শন পলক!
ক্রিকেটের জন্মভূমি খ্যাত ইংল্যান্ডের অধিনায়ক নাসের হোসাইনে বলেছিলেন, নেতা, মানুষ আর খেলোয়াড় এই ৩টি শব্দ যোগ করলে মাশরাফির মতো কোনো ক্রিকেটার এর আগে ক্রিকেটবিশ্ব কেউ দেখেনি!
আমাদের দেশের ক্রিকেটের সূবর্ণযুগ যদি ধরা হয় তাহলে ম্যাশের জার্নিটাকেই বলতে হবে! কারণ, ম্যাশ অধিনায়ক থাকাবস্থাতেই দেশের ক্রিকেট পাগল মানুষগুলো স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জিতবে!
ওয়ানডে, টেস্ট আর টি-২০’র ১৬ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে দুই হাঁটুতে সাতবার অপারেশন। দশবার করিয়েছেন সার্জারিও।
প্রতি ম্যাচ শেষে সিরিজ দিয়ে টেনে বের করতে হয় হাটুতে জমা বিষাক্ত রস। ঘুম থেকে সঙ্গে সঙ্গে নামতে পারেন না বিছানা থেকে।
ডাক্তাররা বলেছিলেন, এভাবে ক্রিকেট চালিয়ে গেলে পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন, কিন্তু দমে যাননি। সব শংকা উড়িয়ে বল হাতে বাঘের মতো ছুটে চলা।
ম্যাচ হারলেও চোখের জল ফেলেন অনেকটা নিরবে। সবার আড়ালে। যাতে তরুণ ক্রিকেটাররা হতাশ না হন।
সেই ম্যাশকে নিয়ে সমালোচনার আগে তার অবদানগুলোর কথা যদি আমরা ভুলে যাই তাহলে আমাদের চেয়ে হতভাগা আর কেউ হতে পারে না।
ম্যাশ একজনই হতে পারে, তার স্থান বাংলাদেশের ক্রিকেটে আজীবন স্মরণীয় হয়ে ছিলো সামনেও থাকবে…