দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে চলছে উথান পতন। একদিকে ইংলিশ বধের মিশন। অন্যদিকে সামনে এসেছে তামিম সাকিবের বহু পুরনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব।
বোর্ড সভাপতির অভিযোগ এই দুই সিনিয়রকে ঘিরে ড্রেসিং রুমে চলে গ্রুপিং। আর এই গ্রুপিং দমাতে দলের হেড কোচ হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে হাথুরেসিংহকে।
বিসিবি বস পাপনের মতে তামিম সাকিব নিজেদের ঝামেলা না মেটালে বোর্ড থেকে আসতে পারে বড় সিদ্ধান্ত। তবে এখনো জানা যায়নি কোন সেই সিদ্ধান্ত।
অনেকের ধারনা বোর্ড সভাপতি দলের অধিনায়কত্বে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর কড়া হেডমাস্টার হাথুরে ও সায় দিয়েছেন বোর্ডের এমন ইশারায়।
ইতিমধ্যেই তিনি আকারে ইঙ্গিতে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন পরবর্তীতে কোন চারজন খেলোয়াড়কে তিনি জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন হিসেবে দেখতে চান।
মুলত ইংল্যান্ড সিরিজের আগে হাথুরু মুখোমুখি হয়েছিলেন গনমাধ্যমের। সেখানে তিনি বলেন দলের মোস্ট সিনিয়রেরা ইতিমধ্যে ১৫-১৬ বছর খেলে ফেলেছে।
বাস্তবতার নিরিখে তারা হয়তো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলবেন আর চার থেকে পাচ বছর। তবে তারা অবসর নিলে দল তো আর নেতৃত্বশুন্য থাকতে পারেনা।
তাই তামিম সাকিবের মত এক্সপেরিয়েন্স ক্যাম্পেইনাররা দলে থাকা অবস্থায়ই টিম লিডার হিসেবে তরুনদের জায়গা করে দিতে চান লঙ্কান কোচ হাথুরে।
এক সাংবাদিকের পালটা প্রশ্নের উত্তরে হাথুরে বলেন যারা পারফরম্যান্স করবে তারাই লিডার হবে। তবে ইতিমধ্যেই এই পদের শক্ত দাবিদার তাসকিন, মিরাজ, লিটন এবং শান্ত।
সব ঠিক থাকলে চলতি বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় ওয়ানডে দলকে নেতৃত্ব দেবেন তামিম ইকবাল। পরের বছর টি টুয়েন্টি নেতৃত্ব দেবেন সাকিব আল হাসান।
তবে দেশে আসার পর হাথুরেসিংহে শক্ত বার্তা দিয়েছেন যারা পারফর্ম করতে পারবেনা তারা তার দলে জায়গা পাবেনা। ক্যাপ্টেনস কোটাতে কোন প্লেয়ার তার দলে খেলবেনা।
এছাড়া পরবর্তী ক্যাপ্টেন নিয়ে তার সাম্প্রতিক বক্তব্য আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে ফর্মহীনতা কিংবা যেকোন অযুহাতে দলের ক্যাপ্টেন্সি হারাতে পারেন তামিম সাকিব।
সেক্ষেত্রে নেতৃত্ব যাবে হয়তোবা নতুনদের হাতে। আর এই তালিকায় হাথুরের পছন্দের শীর্ষে আছেন বল হাতে দারুন ছন্দে থাকা তাসকিন আহমেদ।
তাসকিন আহমেদ খেলোয়াড়ি জীবনে আইডল মানেন মাশরাফিকে। দেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই ক্যাপ্টেন একাধিকবার বলেছেন তাসকিনের মধ্যে নেতৃত্ব দানের গুন রয়েছে।
তবে তাসকিনকে এখনো বড় আসরে এই পরীক্ষায় পরতে হয়নি। তবে অনেকেই ব্যাক্তি তাসকিনের ক্রিকেটিয় আবেগ তার আইডল মাশরাফির মতই কিছুটা বেশি।
এছাড়া হাথুরের পছন্দের তালিকায় আছে মেহেদি মিরাজের নাম। গেল বছর দারুন একটি মৌসুম কাটিয়েছেন। হয়ে গিয়েছেন জাতীয় দলের অপরিহার্য অংশ।
সুযোগ পেয়েছেন আইসিসি বর্ষসেরা দলে ও। এর আগে অবশ্য তার আন্ডার নাইনটিন বিশ্বকাপে সফলভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুখস্মৃতি রয়েছে।
এছাড়া বাকি দুইজন নাজমুল শান্ত এবং লিটন দাস এখনো বড় পরীক্ষার সামনে না পরলে ও তারা একাধিকবার নিজেদের লিডারশীপ কোয়ালিটির পরিচয় দিয়েছেন।
তবে এই চারজনের নাম হাথুরে শুধু প্রেস ব্রিফিং এ মেনশন করেননি। প্র্যাক্টিস সেশনে ও সিনিয়রদের সাথে নিয়ে এই চারজনের সাথে বসতে দেখা গেছে কোচকে।
তবে অবশ্য জিম সেশনে থাকার কারনে সেই মিটিং এ যোগ দিতে পারেননি তাসকিন আহমেদ। তাদের নিয়ে আলাদা ভাবে বসাটা আসলে একধরনের ম্যাসেজ হিসেবে ধারনা করা হচ্ছে।
তবে বিভিন্নসুত্র জানিয়েছে বিশ্বকাপের আগে তামিম কিংবা সাকিব ফর্মহীনতা বা ইনজুড়িতে না পড়লে ক্যাপ্টেন্সিতে বড় পরিবর্তন আসার সম্ভবনা কম।
তবে বিশ্বকাপের শেষে এই অধিনায়কত্বে রদবদল আসছে এটুকু নিশ্চিত। ক্রীড়াবোদ্ধারা হাথুরেসিংহের এমন চিন্তার বেশ প্রশংসা করছেন।
তাদের মতে এই লঙ্কান কোচের প্রথম ইন্ট্যরন্যশনাল এসাইনমেন্ট ছিলো বাংলাদেশ। তাই এই দেশের ক্রিকেটের প্রতি তার বিশেষ দরদ রয়েছে।
তাই তিনি চাননা তার সময়ে কিংবা পরবর্তীতে কখনো বাংলাদেশ নেতৃত্ব সংকটে পড়ুক।