আগামী ৯ ই মার্চ সন্ধ্যা ছটায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের টিটোয়েণ্টি মিশন। ওয়ানডে series হারলেও ১ টি ম্যাচ জিতার সুখস্মৃতি রয়েছে বাংলাদেশের ঝূলিতে ।
দর্শক এখন , ৩ টি টি-টোয়েন্টি সিরিজের ১ম ম্যাচে কেমন একাদশ সাজানো হতে পারে সেটা নিয়ে আলোচনা হয়ে যাক।
নবম আসরের বিপিএলে যারা দুর্দান্ত পারফর্মেন্স দেখিয়েছে তাদেরকে রাখা হয়েছে এবারের টি-২০ সিরিজে।
ওপেনার হিসেবে লিটনের স্থান অনেকটা নিশ্চিত বলায় যায়। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে তার দাপটিয় ব্যাটিং মুগ্ধ করেছে দর্শকদেরকে। যদিও ইংল্যান্ড সিরিজটায় মোটেও ভালো করতে পারেনি তিনি। টানা তিন ম্যাচের কোনটিতেই রানের সংখ্যা দুই অংকের বেশি নিয়ে যেতে পারেননি এই ওপেনার।
তবে টিটোয়েন্টি সিরিযে নিজের নামের কতটুকু সুবিচার করতে পারবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। ওপেনার হিসেবে লিটনের সংগী কে হবেন সেটা নিয়ে মধুর সমস্যায় পড়তে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। পাইপলাইনে রয়েছে ফর্মে থাকা দুর্দান্ত সব খেলোয়াড়রা।
ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন নাজমুল হাসান শান্ত। বিপিএলের পর ইংল্যান্ডের সিরিজেও রান ধারায় অব্যাহত দ্যি লর্ড খ্যাত এই ওপেনার। অন্যদিকে তৌহীদ হ্রদয় আর রনি তালুকদারও রয়েছে যথেষ্ট যোগ্য হিসেবে।
৮ বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন রনি । এবারের বিপিএলে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স দেখিয়ে জাতীয় দলের টিকেট কেটেছেন তিনি। রংপুর রাইডার্সের হয়ে পুরো টূর্নামেন্টে তার পারফর্মেন্স নজর কেড়েছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের। টূর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তার নাম ছিল ২য় তে। তাকে ওপেনার হিসেবে নামালে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবেনা।
অন্যদিকে বিপিএলে অনবদ্য পারফর্মেন্স দেখানো তৌহিদ হ্রদয়ও টিটোয়েন্টি জাতীয় দলে অভিষেকের অপেক্ষায়। সিলেট সিক্সার্সের হয়ে তার চোখ ধাধানো ব্যাটিং মুগ্ধ করেছে দেশের ক্রিকেট প্রেমিদেরকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দলে ডাক পেলেও নামানো হয়নি তাকে। টিটোয়েন্টি নতুন মুখ হিসেবে দারুন কিছু করে দেখানোর অপেক্ষায় তৌহিদ রনি।
রনি কিংবা তৌহিদ এদের যে কোন একজনকে লিটনের সংগি হিসেবে নামানো হলে শান্তকে নামাণো হতে পারে ৩য়তে। চার নাম্বারে দেখা যেতে পারে সাকিব আল হাসানকে। ক্যারিয়ারের দুর্দান্ত সব ইনিংস গুলো এসেছিল এই অবস্থানে ব্যাটিং করেই । ব্যাটিং লাইনের বাকি পজিশনগুলো এখনো নড়বড়ে টাইগারদের।
মিডল অর্ডারে বিশ্বকাপে রাখা হয়েছিল ইয়াসির রাব্বি আর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে ,এবার তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে বাজে পারফর্মেন্সের কারনে। সেক্ষেত্রে নতুন মুখ শামীম পাটোয়ারিকে দেখা যেতে পারে ৫ নাম্বারে । বিপিএলে তার পারফর্মেন্স ছিল উল্লেখকরার মতো। ৬ নাম্বার পজিশনে উদীয়মাণ হার্ডহিটার আফিফ Ekhon ভরসা টাইগারদের। afif ম্যাচ ধরে রেখে চার ছক্কার মার বের করে নিয়ে আসতে পারেন অনায়াসাই। যদিও ইদানিং সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছেনা তার। এরপরই উইকেটকিপার হিসেবে সোহানকে দলে রাখা হলে ৭ নাম্বারে তাকে ব্যাটিংয়ে দেখা যেতে পারে।
স্পিনার হিসেবে নাসুমের উপর কতটা ভরসা রাখে টিম ম্যানেজমেন্ট সেটাই দেখার বিষয়। যদিও বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তানবিরকে এবার সুযোগ দেয়া হতে পারে নতুন মুখ হিসেবে । তবে এদের মাঝে সবচেয়ে বেশি আস্থার জায়গাটা তৈরি করেছে মেহেদি হাসান মিরাজ.
ইংলিশদের ব্যাটিং অর্ডারকে চাপে ফেলতে টাইগারদের তৈরি তিনজন ফাস্ট বোলার। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ,ধারাবাহিক সাফল্য না দেখাতে পারলেও অটোচয়েস হিসেবে এখনো তাকে রাখা হয় দলে। বাকি দুজন বোলার হচ্ছেন তাসকিন এবং হাসান মাহমুদ ।
ওয়ানডে সিরিজ একটূর জন্য হাতছাড়া হয়ে গেলেও টিটোয়েন্টিতে ভালো কিছু করার প্রত্যাশায় টাইগাররা। যদিও ইংলিশদের বিপক্ষে ২০ ওভারের অভিজ্ঞতা তেমন একটা নেই সাকিব বাহিনির। এর আগে শুধু একটি টীটোয়েণ্টি ম্যাচ খেলা হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।