খেলাধুলা


ইসলামের আলোয় জীবন সাজিয়েছেন যেসব তারকা ক্রিকেটার!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৯ মার্চ ২০২৩, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

ইসলামের আলোয় জীবন সাজিয়েছেন যেসব তারকা ক্রিকেটার!

ইসলামের মাঝে নিহিত রয়েছে জগতের সকল শান্তি, এই মর্মবাণীকে নিজের চরিত্রে ধারণ করে ক্রিকেটাঙ্গন মাতিয়ে চলেছেন কিছু ধর্মানুরাগী ক্রিকেটার।

বাইশ গজে তাদের ক্রিকেটীয় নৈপুণ্যে যেমন অবাক করে বিশ্বকে, তেমনি রবের প্রতি তাদের একাগ্রতা মুগ্ধ করে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
 
নির্মল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য যে ক'জন ক্রিকেটার বিশ্বে খ্যাতি কুড়িয়েছেন তাদের মধ্যে হাশিম আমলা অন্যতম।

শুধুমাত্র ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের প্রধান স্পন্সর মাদক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাসেল’ কোম্পানির লোগোযুক্ত টি-শার্ট পরেননি তিনি।

এমনকি অনেক সময় রমজান মাসে খেলতে হলে রোজা রেখেই মাঠে নামতেন এই প্রোটিয়া ব্যাটার।

এছাড়া সফরকালে সতীর্থরা যখন খোশগল্পে ব্যস্ত থাকতেন তখন হাশিম আমলার হাতে শোভা পেত পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআন।


বর্তমান ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার মঈন আলিও একজম ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

লম্বা দাঁড়ির কারণে নিজ শহরের এয়ারপোর্টেই একাধিকবার হেনস্তার শিকার হয়েছেন তিনি। এরপরও ইসলামের প্রতি নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকে এক চুলও সড়ে আসেননি মঈন।

এমনকি দলের জয় উদযাপনে বাকি সতীর্থরা যখন স্যাম্পেন পার্টি করেন, তখন হারাম থেকে বাঁচতে মঈন নিজেকে নীরবে সরিয়ে নেন একপাশে। ইসলামের প্রতি তার এমন আনুগত্যই বলে দেয়, তিনি কতটা ধর্মানুরাগী।

মঈনের মতো ইংল্যান্ড দলের আরেক নির্ভরযোগ্য সদস্য হলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত লেগ-স্পিনার আদিল রশিদ।

জীবনের প্রথম পর্যায়ে তিনি কঠোর ইসলাম পালনকারী না হলেও বর্তমানে ইসলামিক নিয়ম-কানুন মেনে নিজের জীবন পরিবর্তন করেছেন  পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত এই ক্রিকেটার।

তিনি মনে করেন রবের প্রতি একনিষ্ঠতা তার ধ্যান-ধারণা পরিবর্তন করে দিয়েছে। ২০২২ সালে ভারত সিরিজের স্কোয়াডে থাকলেও পবিত্র হজ্ব পালনের জন্য দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।


একসময় যার খেলা দেখতে মানুষ স্টেডিয়ামে ভিড় জমাতো, আজ তার বয়ান শুনতে মসজিদে ভীড় করেন লোকজন। বলছি, সাবেক বাঁহাতি ব্যাটার সাইদ আনোয়ারের কথা।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০০১ সালে মারা যায় তাঁর তিন বছরের শিশুকন্যা, বিসমাহ।

এরপর ক্রিকেট ছেড়ে সাঈদ মনোনিবেশ করেন ধর্মপ্রচারে। তখন তার একমাত্র সঙ্গী হয় ধর্মীয় পুস্তক।

সন্তান হারনোর শোক ভুলতে ধর্মের বাণীতেই সান্ত্বনার আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি।

তারপর থেকেই তাবলিগে জামাতের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার ও প্রসারের কাজে আত্মনিয়োগ করেন এই সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার।


সাঈদ আনোয়ারের পর পাকিস্তানের সবচেয়ে ধর্মানুরাগী ক্রিকেটার ছিলেন ইনজামাম-উল হক।

পাকিস্তানের মুলতান প্রদেশ থেকে উঠে আসায় ক্রিকেট মাঠে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন মুলতানের সুলতান হিসেবে।

পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি  ইতিহাসের একজন সেরা অধিনায়ক হিসেবেও বিবেচনা করা হয় তাকে।

২০১৬ সালের এশিয়া কাপে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ওমান-আফগানিস্তানের খেলোয়াড়দের নিয়ে মাঠে নামাজ আদায় করে বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন ইনজামাম।

বর্তমানে তিনি তাবলিগ জামাতের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত রয়েছেন।


অফ-স্পিন জগতে দুসরার জনক হিসেবে খ্যাত সাকলাইন মুশতাকও একজন অত্যন্ত ধর্মভীরু ক্রিকেটার। ক্যারিয়ার জুড়ে ক্রিকেটের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসনও মেনে চলেছেন সমান তালে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়ে ধর্মপ্রচারে মনোনিবেশ করেছেন পাকিস্তানি এই গ্রেট ক্রিকেটার।

পাকিস্তান যুব দলের এই বর্তমান কোচের দ্বীনি দাওয়াতে সাড়া দিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছেন অনেক পাকিস্তানি যুব ক্রিকেটার। তাদের মাঝে নৈতিকতাবোধ সৃষ্টিতেও কাজ করে যাচ্ছেন সাকলাইন মুশতাক।



জনপ্রিয়


খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন

জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে অলআউট করে বড় জয় বাংলাদেশের

জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দারুণ সূচনা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের মাত্র ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানে অলআউট করে সহজ জয় তুলে নেয় টাইগাররা। ম্যাচের নায়ক ছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা, যিনি নিজের গতির ঝড় তুলে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন।

বিশ্বকাপের আনন্দে প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য চমক, পণ্য কিনে কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে প্রযুক্তিপ্রেমী ক্রেতাদের জন্য বিশেষ প্রচারণামূলক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ইসিএস কম্পিউটার সিটি (মাল্টিপ্লান সেন্টার)। ‘প্রযুক্তির সঙ্গে বিশ্বকাপের উন্মাদনা’ শীর্ষক এই আয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ে প্রযুক্তিপণ্য কিনলে লটারির মাধ্যমে কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ পাবেন ক্রেতারা।

রোনাল্ডো না মদ্রিচ, আজ কার শেষ বিশ্বকাপ?

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। তবে এটি শুধু শেষ ষোলোর একটি ম্যাচ নয়, বরং সময়ের বিরুদ্ধে দুই কিংবদন্তির লড়াইও। একদিকে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, অন্যদিকে ৪০ বছর বয়সী লুকা মদ্রিচ। দুজনেরই এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। ফলে টরন্টোর রাতটি হতে যাচ্ছে আবেগ, অভিজ্ঞতা ও ইতিহাসের এক অনন্য মঞ্চ।

ব্রাজিল-জাপান মুখোমুখি, কী বলছে পরিসংখ্যান?

ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ করে এখন শুরু নকআউট লড়াই। আজ মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং এশিয়ার শক্তিশালী দল জাপান। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।