টি টুয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ম্যাচে টাইগার বাহিনী জিতেছে ষোল রানের ব্যবধানে।
আর স্বাগতিকদের এমন সিরিজ জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সদ্য শেষ হওয়া দেশের একমাত্র ফ্র্যঞ্ছাইজি ক্রিকেট লীগ বিপিএলের সেরা পারফরমারেরাই।
এই সিরিজে সাকিব -হাথুরুর একাদশেও প্রাধান্য ছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের সেরা তারকাদের। দলে জায়গা পেয়েছিলেন সদ্য সমাপ্ত টুর্নামেন্টটির সর্বোচ্চ রান করা ৫ জনই।
এবং সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় থাকা সেরা দুইজন হাসান মাহমুদ এবং তানভীরও ছিলেন স্কোয়াডে। আর এদের সবাই প্রতিদান দিয়েছেন কোচ এবং ক্যাপ্টেনের আস্থার।
ব্যাট হাতে পুরো সিরিজে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স ছিল দারুন। তিন ম্যাচেই ওপেনিং করেছেন, বিপিএলে শীর্ষ রান সংগ্রাহকের তালিকায় থাকা লিটন ও রনি তালুকদার।
বিপিএলে ৩৭৯ রান করে রান সংগ্রহের তালিকায় শীর্ষে থাকা লিটন সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ছিলেন বিবর্ন। কিন্তু একটা কথা আছে ফর্ম ইজ টেম্পোরারি ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট।
এই প্রবাদ প্রমান করে দিয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচে নিজের জাত চিনিয়েছেন এলকেডি। ৫৫ বলে খেলেছেন ৭৩ রানের অনবদ্য ইনিংস।
অপরদিকে প্রিমিয়ার লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক রনি তালুকদার পুরো সিরিজে বড় স্কোর করতে না পারলে ও প্রত্যেক ম্যাচেই ছিল কিছু না কিছু কন্ট্রিবিউশন।
মুলত তার ২০ কিংবা ২৫ রানের ছোট কিন্তু ঝড়ো ইনিংসগুলো পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের রানের গতিকে রেখেছিলো সচল। এইদিক থেকে বলা যায় তিনি ও সফল।
দুই ওপেনারের পর তিন এবং ৪ নম্বর পজিশনে নিজেদের প্রমানের সুযোগ মিলেছিল অপর দুই সর্বোচ্চ স্কোরার নাজমুল শান্ত এবং তৌহিদ হৃদয়ের সামনে।
এর মধ্যে শান্ত তো নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন অন্য উচ্চতায়। টানা তিন ম্যাচেই পেয়েছেন রান। দলের জয়ে রেখেছেন খুবই গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা।
অপরদিকে তৌহিদ হৃদয় প্রথম দুই ম্যাচে ব্যটিং এর সুযোগ পেলে ও ব্যটিং করতে হয়নি শেষ ম্যাচে। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি স্কোর বড় করতে না পারলে ও শুরুটা পেয়েছিলেন দারুন।
ইনফ্যাক্ট দ্বিতীয় ম্যাচের গুরুত্বপুর্ন সময়ে তার সতের রানের ইনিংস দলের জয়ে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রেখেছে। প্রথম ম্যাচে ও তিনি করেছেন ২৪ রান।
আর এই দুইজন ও ছিলেন বিপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায়। সেখানে তাদের অবস্থান ছিল যথাক্রমে এক এবং চার নম্বরে।
আর এই বিপিএলে ব্যাটিং পারফরমারদের তালিকায় সবশেষ আছেন খোদ ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসান। তার তো নতুন করে প্রমানের কিছু নেই।
অন্যদিকে উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় বিপিএলের সেরা দুইজন তানভীর এবং হাসান মাহমুদ। হাসান মাঠে নেমেছেন তিন ম্যাচেই।
এবং নিজেকে প্রমান ও করেছেন। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচের স্লগ ওভারে বল করেছেন দারুন। ইনফ্যাক্ট পুরো সিরিজেই রিনি দারুন করেছেন। প্রয়োজনের সময় দলকে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন।
শেষ ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন তানভীর ও। তিনি ও ভালোই বল করেছেন। নিজের প্রথম ওভারেই ডেভিড মালানের উইকেট তুলে নিয়ে ইংলিশদের বিপদে ফেলেছেন।
জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিপিএল সেরাদের এমন পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে সকলকে। অনেকেই উঠতি তারকাদের নিয়ে দেখছেন বিপুল সম্ভবনা।
তাদের মতে সদ্য শেষ বিপিএলে বিদেশী প্লেয়ার তেমন না থাকায় নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছে দেশীয় তারকরা। আর এখন তারই সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ দল।
এই ধারাবাহিকতা বিপিএলের পরের আসর গুলোতে চলুক এমনটায় আশা নীতিনির্ধারকদের। দর্শক তাহলে আপনি কী মনে করছেন এবারের বিপিএল কী তবে সার্থক?