বেসুরো বৃষ্টির দরুন ফলাফল হয়নি আইরিশদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে। কিন্তু বাংলাদেশের অতিমানবীয় ব্যটিং পারফরম্যান্সের আড়ালে ঢাকা পড়েছে সেই আক্ষেপ।
এদিন বাংলার ক্রিকেট ভক্তদের হতাশ করেননি সবার প্রিয় মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিক। দীর্ঘ দুই বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেখা পেয়েছেন সেঞ্চুরির।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায় ধুকতে থাকা মুশফিক কি করে আচমকা এভাবে নিজেকে বদলে দিলেন। কোচ হাথুরুসিংহের দেখানো কোন ম্যজিক, নাকি অন্য কিছু?
জল্পনা কল্পনা আছে মুশফিকের এমন পারফরম্যান্সে জাতীয় দলের ছয় নম্বর পজিশন থেকে চিরতরে জায়গা খুইয়েছেন আপন ভাইরা ভাই মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
চলমান আইরিশদের বিপক্ষে সিরিজে ব্যটিং অর্ডারে বদল এনে যেন নিজেকেই বদলে ফেললেন মুশফিকুর রহীম। প্রথম ম্যাচে করেছেন ২৬ বলে ৪৪।
পরের ম্যাচে অবশ্য নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন এক ধাপ উপরে। ৬০ বলে দেখা পেয়েছেন সেঞ্চুরির। যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
একসময় মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিকের ব্যট হাতে নতুন এই আচরন দেখে অনেকেই ইতিমধ্যে তাকে মিস্টার ফিনিশার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
জাতীয় দলে তাকে নাম্বার ছয়ে ডিমোশন করা হলো এমন এক সময়ে যখন তিনি তার সেরা ছন্দে ছিলেননা। ক্যরিয়ারে এটাই হয়ত তার সবচেয়ে বাজে সময় ছিলো।
তবে তাকে চার থেকে ছয়ে নামিয়ে আনার পিছনে মুল কারিগর হিসেবে ধরা হচ্ছে কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহকে । গেল ইংলিশ সিরিজেও ব্যট হাতে ভালো করতে পারেননি মুশফিক।
এরপরেই জাতীয় দলের প্র্যকটিস সেশনে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। সিলেটের মাঠে প্র্যকটিস চলাকালে মুশফিককে আলাদা করে কোচের সাথে এক ইন্টেন্সিভ ক্লাসে দেখা যায়।
সেই সেশনে সেন্ট্রাল উইকেটে দাঁড়িয়ে মুশফিকের সাথে ব্যটের গ্রিপ, সুইং এবং হ্যন্ড আই কোয়ার্ডিনেশন নিয়ে নানা আলোচনা এবং পরামর্শ করছিলেন কোচ হাথুরু
আপাতদৃষ্টিতে দেখে যে কেউ ভাবতে পারে এখানে আধুনিক টি টুয়েন্টিতে শেষ দিকে কীভাবে স্লগ ব্যটিং করতে হয় তার একটা মহড়া দেওয়া হচ্ছে।
এই দেখে অনেক ক্রীড়া সাংবাদিক তখনই ধারনা করেছিলেন মুশফিককে হয়তো ব্যটিং অর্ডারে কিছুটা নিচে নামানো হবো। সেই আশঙ্কা সত্যি করে দিয়ে তাকে নিচেই নামানো হলো।
আর তাতেই বাজিমাত মুশফিকের। তার এমন পারফরম্যান্সে অবশ্যই পুরো কৃতিত্ব তার নিজের। কিন্তু প্রশংসা অবশ্যই করতে হবে কোচ হাথুরুসিংহের সিদ্ধান্তের।
অনেকেই বলেন কোচ হাথুরু জাদু জানেন। বাস্তবে হয়তো তিনি খুব বেশি জাদু জানেননা। কিন্তু তিনি জানেন কোন খেলোয়াড়কে কোথায় কীভাবে ব্যবহার করতে হবে।
বাংলাদেশের সাথে চান্ডিকা হাথুরুর আগের অধ্যায়ে বাংলাদেশ খেলেছিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। সে বিশ্বকাপেও কোচ মুশফিককে খেলিয়েছিলেন নাম্বার ছয়ে।
আর পরিসংখ্যান হিসেব করলে সেটাই ছিল মুশির জন্য সেরা বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্টে তিনি করেছিলেন ২৯৮। যা বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
আর এবারে মুশফিকের এমন ফর্মে ফেরার ধারনা করা যায় বাংলাদেশ হয়তো সেই সময়ের দরজায় আরেকবার ফেরত যাবে। তখন মাহমুদুল্লাহকে খেলতে হবে কিছুটা উপরে।
কিন্তু সেই সুযোগ হয়তো আর নেই। কারন মুশফিক পর্যন্ত লিস্টে থাকা মোটামুটি সবাই ভালো খেলছেন। জায়গা রয়েছে সাত নম্বর পজিশনে।
চলতি সিরিজের পর ইয়াসির আলী রাব্বী বাদ পড়ছেন, এটুকু নিশ্চিত সেখানেই হয়তো জায়গা হবে মাহমুদুল্লাহর। তাকে খেলতে হবে আরেকটু ঝোড়ো গতিতে।
তাই আপাতত বলা যায় ছয় নম্বরে জায়গা হারিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ। তবে তার সামনে সুযোগ আছে আসন্ন বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে সাত নম্বরে নামার। তবে বাকিটা সময়ই বলে দেবে।