মেসির মন কোনভাবে বসছেনা পিএসজিতে। প্যারিসে যে তিনি থাকতে চান না সেটা তার খেলাতেই স্পষ্ট।
মেসি-এম্বাপ্পের মতো দুই মহারথী থাকা সত্তেও ২ বছর পর ঘরের মাঠে ২-০ গোলে রেনেসের মতো পুচকে দলের কাছে, লজ্জাজনকভাবে হেরেছে পিএসজি।
এদিন মেসি-এম্বাপ্পেকে মনে হয়েছে দুজন দুই দ্বীপের বাসিন্দা, আক্রমনে ছিলনা কোন কম্বিনেশন। কম্বিনেশন না থাকার কারনে সহজ দলের বিপক্ষে হারতে হচ্ছে পিএসজিকে।
ক্লাবের সাথে নতুন কোন চুক্তিও আগাচ্ছেনা ।সৌদি আরব কিংবা বার্সেলোনা অথবা আমেরিকায় পাড়ি জমানোর কথা , হাওয়ায় ভেসে বেড়ালেও কোনটির সত্যতা এখনো খুজে পাওয়া যায়নি।বরং এই সময়টাতেই মেসির বাজে পারফর্মেন্স দেখা যাচ্ছে প্রায় ম্যাচেই।
ক্যারিয়ারের এই ক্রান্তিলগ্নে তার এমন বাজে ফর্মে দুয়ো ধ্বনি দিচ্ছে ফরাসি দর্শকেরাও। ফরাসি এই ক্লাবের প্রতি মেসির ডেডিকেশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সাবেক প্লেয়াররা।ঘরের মাঠ পার্ক দেস প্রিন্সেসে, রেনেসকে আতিথ্য দেয় পিএসজি।নিজেদের মাঠে মেসি-এম্বাপ্পেরা গোল বন্যায় ভাসিয়ে দিবে এমনটাই প্রত্যাশা ছিল প্যারিসিয়ান ভক্তদের
কিন্তু তা হলো কই? উলটো লজ্জাজনকভাবে হেরে বসে ,মেসি-এম্বাপ্পেরা।ম্যাচের প্রথম থেকেই অগোছালো ফুটবল খেলতে থাকে মেসিরা। একের পর এক আক্রমনে, কোনভাবে গোলের দেখা পাচ্ছিলনা তারা।
বিরতিতে যাওয়ার আগে পিএসজি গোল না পেলেও রেনেস ঠিকই গোল পেয়েছে ৪৫ মিনিটে। ক্যামেরুনের উইংগার একাম্বি গোল করে ১-০ গোলে এগিয়ে নিয়ে যান লীগ ওয়ানে ৫ নাম্বারে থাকা রেনেসকে। ২য় অর্ধের খেলা শুরু হতে না হতেই পিএসজির জালে আরেকটা গোল।
২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও কামব্যাক করার কোন লক্ষনই দেখা যায়নি মেসিদের মাঝে।এম্বাপ্পে কিছু সুযোগ পেলেও, গোল বের করে নিয়ে আসতে পারেননি তিনি । অন্যদিকে মেসিকে দেখা গেছে পুরো ম্যাচে, নিজের ছায়া হয়ে।
মেসিকে দেয়া হচ্ছে দুয়ো দুয়ো ধ্বনি, জ্বলজ্বল করা উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো যার বর্নাঢ্য ক্যারিয়ার। তিনিই কিনা ডুবাচ্ছেন পিএসজিকে, যেখানে চ্যাম্পিয়নস লীগ জিতার লক্ষে তাকে আনা হয়েছিল প্যারিসে, তাকেই কিনা খাবি খেতে হচ্ছে লীগের দুর্বল দলগুলোর কাছে।
লীগে এই সিজনে পিএসজির জন্য চতুর্থ হার এটি। বছরের শুরু থেকে হারের ধারায় অব্যহত ফরাসি এই ক্লাবটি। ইউসিএল থেকেও বাদ পড়েছে কোচ গালতিয়েরের শিষ্যরা। শুধু লীগ ওয়ানেই হেরেছে তারা চারটি ম্যাচে। জানুয়ারি মাসেই এই রেনেসের কাছে হেরেছে তারা।
ফরাসি লীগে পিএসজি যেখানে দাপিয়ে বেড়ায় আধিপত্যের সাথে,এমনকি লীগ শিরোপা জিতাটা অভ্যাসে পরিনত করেছে যারা, এখন সেই লীগেই তাদের করুন অবস্থা । চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতা তো দুরের ব্যাপার। এভাবে হারতে থাকলে, লীগ শিরোপাটাও তাদের খোয়াতে হতে পারে।
২৮ ম্যাচ খেলে লীগ ওয়ানে পিএসজির পয়েন্ট এখন ৬৬। ২য় স্থানে থাকা মার্শেইয়ের পয়েন্টও খুব বেশি দূরে নয়। ২৮ ম্যাচ খেলে তাদের পয়েন্ট এখন ৫৯। মাত্র ৭ পয়েন্টের ব্যবধান।
অপমানজনক এই হারের দিনে ডিফেন্সের দুর্বলতা দেখা গেছে স্পষ্ট। পিএসজির ভরাডুবির এই দিনে ইঞ্জুরির লিস্টটা ছিল বড়। ডিফেন্সে কেম্পাম্বে নেই বহুদিন ধরে।
এদিন ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্কোইনোসের অনুপস্থিতি দেখা গেছে । ম্যাচে নেই রামোসও। রক্ষনভাগের এই তিন তারকার অভাবটাই দেখা গেছে পুরো ম্যাচেই।
ডিফেন্সের দুর্বলতা শুধু গত ম্যাচেই নয়,পুরো সিজনেই ফরাসি এই ক্লাবটির রক্ষনভাগ নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। এই নিয়ে নির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা করতে দেখা যায়নি টিম ম্যানেজমেন্টকে।
বিশ্বসেরা এটাকিং লাইন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদের।