ফুটবলে একজন গোলরক্ষকের প্রধান দায়িত্ব থাকে দলের গোলপোস্ট রক্ষা করা। সেই দায়িত্ব সামলে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে হানা দেওয়া রীতিমতো দুঃসাধ্যই বটে।
তবে এই দুঃসাধ্য কাজটিকেই নিজের অভ্যাসে পরিণত করে নিয়েছিলেন সাবেক ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার রোজারিও চেনি।
গোলবার সামলানোর পাশাপাশি বিপক্ষে দলের জালে বল জড়াতে ভালোবাসতেন চেনি। গোলকিপার হয়েও ১৩২ গোল করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নামটি খোদাই করে রেখেছেন তিনি।
ইতিহাসবিখ্যাত এই গোলরক্ষক নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সিনোপের হয়ে।
সিনোপের যুব দলের হয়েই সর্বপ্রথম কিপিং গ্লাভস হাতে তুলে নেন চেনি। তবে ২ বছর পরই সাও পাওলোতে চলে আসেন তিনি।
নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের পুরো সময় জুড়েই সাও পাওলোর গোলবারের নিচেই খেলেছেন এই কিংবদন্তি। এই ক্লাবের হয়েই নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের ষোলকলা পূর্ণ করেছেন তিনি।
চেনির করা ১৩২ গোলের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই এসেছে ফ্রী-কিক থেকে। ফ্রী-কিকে চেনি গোল করেছেন ৬১টি।
এমনকি মেসি, নেইমার, রোনালদোর মতো তারকারাও, ফ্রী-কিক থেকে তার সমান গোল করতে পারেনি।
ফুটবল বিশ্বের সেরা কয়েকজন ফ্রি-কিক স্কোরারদের মধ্যে একমাত্র গোলকিপার হলেন রোজারিও চেনি।
তবে চেনি সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন পেনাল্টির সুবাদে। পেনাল্টি থেকে ৭০টি গোলের দেখা পেয়েছেন এই কিংবদন্তি গোলকিপার।সাও পাওলোতে ফরোয়ার্ড, মিডফিল্ডাররা নন ,বরং চেনিই ছিলেন সেরা পেনাল্টি শুটার।চেনি নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের ১টি মাত্র গোল করেছেন ওপেন-প্লে থেকে।
তবে দলের অলিখিত গোলমেশিনে পরিণত হওয়া চেনি, গোলবারও সামলেছেন শক্ত হাতে।পেনাল্টি সেভিংয়ে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল। পাশাপাশি পজিশনিং ও ক্লিনশিটের ক্ষেত্রেও, দলে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়।
তবে ক্লাব ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল এই গোলকিপার, বিবর্ণ ছিলেন জাতীয় দলে।দিদা ও জুলিয়াস সিজারদের মতো তারকাদের ভিড়ে, চেনি তেমন একটা সুবিধা করতে পারেননি সেলেসাও শিবিরে।ব্রাজিল জাতীয় দলে তার ১৬ ম্যাচের ছোট্ট ক্যারিয়ারটিও, সকলের চোখের আড়ালেই রয়ে গেছে।
ব্রাজিলের জার্সিতে কনফেডারেশন কাপের ১টি ম্যাচ খেলেছিলেন চেনি। মেক্সিকোর বিপক্ষের সেই ম্যাচটি, ৩-২ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল।
২০০৬ বিশ্বকাপের জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটিতেও, সেলেসাওদের গোলবার সামলেছিলেন চেনি। সেই ম্যাচেও ৪-১ গোলে, জিতেছিল সেলেসাও বাহিনী।
এছাড়াও সেলেসাওদের হয়ে, ৯টি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ও ৫টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলেছেন চেনি।
জাতীয় দলে নিজের আক্ষেপের জায়গা, তিনি পূরণ করেছিলেন ক্লাব ক্যারিয়ারে।
সাও পাওলোর হয়ে ২২টি সিজনে, মোট ১২৩৮টি ম্যাচে, কিপিং গ্লাভস হাতে মাঠে নেমেছেন চেনি।
সাও পাওলোর হয়ে ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে, ১ বার ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ, ৩ বার ব্রাজিলিয়ান লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ,
২ বার কোপা লিবার্তাদোরেস ও ১ বার ইন্টার কন্টিনেন্টাল কাপ জিতেছেন তিনি।
জাতীয় দলে তার ক্যারিয়ার সংক্ষিপ্ত হলেও, এই সংক্ষিপ্ত সময়েই বিশ্বকাপ ও কনফেডারেশন কাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন চেনি।
২০১৫ সালে ৪২ বছর বয়সে, নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারে দাড়ি টানেন, সাও পাওলোর এই লিজেন্ড গোলকিপার।
তবে নিজের গ্লাভসজোড়া তুলে রাখলেও, প্রিয় ক্লাবটিকে ছাড়তে পারেননি চেনি।
বর্তমানে সাও পাওলোর ম্যানেজার হয়েই, নিজের অসমাপ্ত ইচ্ছাগুলো পূরণ করছেন তিনি।
ফুটবলে যুগে যুগে হয়তো আরও অনেক গোলকিপারই আসবে, তবে রোজারিও চেনির মত একজন, শতযুগ পর একবারই জন্মাবে।
গোলকিপার হয়েও, চেনির গোলস্কোরিংএর এই বিশেষ দক্ষতার কারণে, ফুটবলবিশ্ব তাকে বহুকাল মনে রাখবে।