কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল হেরে রোনালদোর হাতের মুষ্টি দিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখ আড়াল করার ব্যর্থ প্রয়াসে অনেকেই তার শেষ দেখে ফেলেছিলেন।
মাঝে ক্লাব ফুটবলে ও হয়েছে তার অবনমন। যোগ দিয়েছিলেন আল নাসেরে। নিন্দুকেরা অবশ্য বলেছিল তার ক্যরিয়ার শেষ তাই কিছু বাড়তি টাকার আশায় তিনি ইউরোপ ছেড়েছেন।
তবে ফুটবলের এই মহাতারকার বর্নাঢ্য ক্যরিয়ার যে অত সহজেই শেষ হওয়ার নয় তা আরো একবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তিনি প্রমান করে দিলেন।
চলতি সপ্তাহে বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মত পর্তুগালের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন সিআর সেভেন। আর তাতেই ভক্ত সমর্থক এবং নিন্দুকেরা তাদের সমলোচনার জবাব পেয়ে গিয়েছে।
পর পর দুই ম্যচে বল পায়ে নিজে যেমন গোল করেছেন তেমন সতীর্থদের দিয়ে ও করিয়েছেন গোল। আগের ম্যচে লিখটেনস্টেইনের বিপক্ষে করেছেন জোড়া গোল।
আর গেল রাতে পছন্দের প্রতিপক্ষ লুক্সেমবার্গকে পেয়ে ও করেছেন জোড়া গোল। আর তার এমন দাপট দেখানো পারফরম্যন্সের রাতে পর্তুগাল জিতেছে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে।
চলতি সপ্তাহেই শুরু হয়েছে ইউরো কাপের বাছাই। বাছাই পর্বের দ্বিতীয় ম্যচে পর্তুগিজরা মুখোমুখি হয়েছিল তুলনামুলক ক্ষর্ব শক্তির ইউরোপিয়ান দল লুক্সেমবার্গের।
অবশ্য ম্যচের শুরু থেকেই রোনালদো বাহিনী ছিলো উজ্জীবিত। মাত্র নয় মিনিটের মাথায় নুনু মেন্দেজের অসাধারন পাসে বিপক্ষ দলের ডি বক্সে বল পেয়ে যান রোনালদো।
আর তাতেই কাজের কাজ করে ফেলেন তিনি। দারুন ফিনিশিং এ দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। অবশ্য এই গোলের পর তার উদযাপন ছিল দেখার মত।
নিজের ট্রেডমার্ক দুই উদযাপনকে একত্র করে নতুন এক দৃশ্যের অবতারনা করেন তিনি। শুরুতেই রোনালদো গোল পেয়ে যাওয়াই যেন জ্বলে উঠে পুরো পর্তুগিজ একাদশ।
মাত্র পনের মিনিটের মাথায় উঠতি তারকা হুওয়াও ফেলিক্সের অসাধারন এক হেডারে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় দলটি। তবে এই গোলের উৎস বার্নার্দো সিলভার ক্রস ছিল দেখার মতো।
তিন মিনিট পর স্কোর শিটে নাম লেখান বার্নার্দো সিলভা নিজেই। পলিনহোর ক্রসে দুর্দান্ত এক হেড করেন সিলভা। আর তাতেই গোলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিনে।
ম্যচের শুরুতেই তিন গোল খেয়ে লুক্সেমবার্গ যখন কোনটাসা। তখন আবারো দেখা মিলে রোনালদো ঝলকের। ৩১ মিনিটের মাথায় আদায় করে নেন দ্বিতীয় গোল।
ব্রুনো ফার্নান্দেজের বাড়ানো বলে জায়গা করে নিয়ে পরাস্ত করেন গোলরক্ষককে। এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে রোনালদোর ১২২ তম গোল।
অবশ্য তার এই গোলের পর মাঠে দেখা যায় রোনালদোর এক পাগলা ভক্তকে। সিকিউরিটি টপকে তিনি প্রবেশ করেন মাঠে। তার উদযাপনে অবশ্য চোক ঠিপে সাড়া ও দেন সিআর সেভেন।
বিরতির আগ পর্যন্ত পর্তুগিজরা একের পর এক আক্রমন করলে ও তারা অবশ্য আর গোলের দেখা পায়নি। হাফটাইমের বিরতির পর পর্তুগাল ও কিছুটা রয়ে সয়ে খেলতে শুরু করে।
এর মধ্যে আবার ৬৫ মিনিটের মাথায় মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয় রোনালদোকে। মাঠে নামানো হয় বিশ্বকাপের হ্যট্ট্রিক ম্যান গঞ্জালো রামোসকে।
এত পরিবর্তনের পর ও আক্রমন অবশ্য থামেনি সাবেক ইউরো চ্যম্পিয়নদের। ম্যচের একেবারে অন্তিম মুহুর্তে গোল করে জয়ের ব্যবধান বাড়ান অক্তাবিও এবং রাফায়েল লেওয়া।
প্রতিপক্ষ হিসেবে লুক্সেমবার্গকে অত্যান্ত দুর্বল মনে করা হলে ও শেষ ৬ ম্যচে তারা ছিল অপারাজিত। তাই লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে পর্তুগিজদের জয় তাদের শক্তির জানান দিচ্ছে।