তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আয়ারল্যন্ডকে ৭৭ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিলো টাইগাররা।
ওয়ানডে সিরিজের মতোই টি-টোয়েন্টিতেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে যাচ্ছে টিম বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশে এসে এখনো পর্যন্ত একটি জয়ের দেখাও পায় নি আইরিশরা।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের দুই ম্যাচই পুরোই একপেশে ম্যাচ গড়িয়েছে। আয়ারল্যান্ডের বোলারা যেমন বেধম পিটুনি খেয়েছেন, তেমই বাংলাদেশি বোলিং এ্যাটাকের সামনে ব্যাটাররা প্রতিরোধ গড়তেও ব্যার্থ হয়েছেন।
টি-টোয়েন্টিতে লড়াইটা যে এমন একপেশ হবে এটা ভাবতেও পারে নি আইরিশ অধিনায়ক পল স্টার্লিং। ওয়ানডের পর এবার টি-টোয়েন্টিতেও এক প্রকার অসহায় আত্নসমর্পণ করেছে স্টার্লিং এর দল।
সাগরিকায় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়া হানা দিলে ম্যাচ শুরু হতে বিলম্ব হয়। বেলা দুইটার ম্যাচ দেড় ঘন্টা দেরিতে শুরু হওয়ায় ২০ ওভারের ম্যাচ নেমে আসে ১৭ ওভারে।
আর বৃষ্টি বিঘ্নিত ওই ম্যাচে ব্যাটিং তান্ডব চালিয়েছে বাংলাদেশ। ১৭ ওভারের ম্যাচেই ব্যাটিং ঝড়ে উড়ে গেছে আয়ারল্যান্ডের বোলিং লাইন আপ। আবারো দুই ওপেনারের উড়ন্ত সূচনায় প্রথম উইকেট জুটিতে বিশাল সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার মিলে মাত্র ৯.১ ওভারে স্কোরবোর্ডে ১২৪ রান যোগ করেন, যা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে প্রথম উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
ওভারের প্রথম বল থেকেই দারুণ ছন্দের ছিলেন লিটন দাস। ক্রিকেট যার ধ্যান-জ্ঞান, সেই লিটন হয়তো ম্যাচের আগের দিন ঘুমের মধ্যে স্বপ্নও দেখে ফেলেছিলেন কোনো ইতিহাস গড়ার। যার প্রমাণ মাঠে এসেই দিলেন।
পুঁচকে আয়ারল্যান্ডকে সামনে পেয়ে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে মাত্র ১৮ বলে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। এর আগের রেকর্ডটি ছিলো মোহাম্মদ আশরাফুলের ২০ বলে ৫০ রানের।
লিটন তাঁর ক্যারিয়ার সেরা ৮৩ রান করে বেঞ্জামিন হোয়াইট এর আউটসাইড অফ বলে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন।
অন্যদিকে গত ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান আরেক ওপেনার রণি তালুকদারও লিটনকে শুরু থেকেই চমৎকার সঙ্গ দিয়েছেন। সেই সাথে ১৯১ স্টাইকরেটে ২৩ বলে ৪৪ রান তুলে মাত্র ৬ রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি মিস করেন রণি।
শেষ দিকে সাকিবের ২৪ বলে ৩৮ ও তাওহিদ হৃদয়ের ১৩ বলে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিঙ্গসের উপর ভর করে ২০২ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেট হারিয়ে আয়ারল্যান্ডকে ২০৩ রানের পাহাড়সম টার্গেট দেয় টাইগাররা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমেই ইনিংসের প্রথম বলেই ধাক্কা খায় আয়ারল্যান্ড। তাসকিনের করা প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে লিটনের হাতে তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক পল স্টার্লিং। দ্বিতীয় ওভারে বোলিং করতে এসে প্রথম বলেই লুকরান টকারকে স্পিন ঘূর্ণিতে বোকা বানান অধিনায়ক সাকিব। টকার সাকিবের স্লো বল বুঝতে না পেরে সুইপ করতে গিয়ে রণির হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন।
নিজের দ্বিতীয় ওভার বোলিং এ এসে দুই উইকেট তুলে নেন সাকিব। ওভারের প্রথম বলেই অ্যাডায়ারকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান সাকিব। ওই ওভারের শেষ বলে গেরেথ ডিলহানিও সাকিবের বলে লিটনের হাতে কট আউট হন।
সাকিব তাঁর তৃতীয় ওভারে এসেও আবারো জোড়া আঘাত হানানে আইরিশ শিবিরে। এবার জর্জ ডকেরলকে এলবিডব্লিও এর ফাঁদে ফেলেন টাইগার অধিনায়ক। ৪২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় আয়ারল্যান্ড।
পরবর্তীতে হ্যারি টেক্টর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইলেও সেই সাকিবই তাঁকে ফেরান। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে সাকিবকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হওয়ার আগে ১৬ বলে ২২ রানের ইনিংস খেলেন ট্যাক্টর। সেই সাথে সাকিব আল হাসান নেন তুলে নেনে পাঁচ উইকেট।
এদিন আইরিশ ব্যটসম্যানদের পক্ষে জ্বলে উঠেন কার্টিস ক্যাম্পার। দলের অন্যসব ব্যাটাররা আসা যাওয়ার মধ্যে থাকলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ২৯ বলে ফিফটি তুলে নেন ক্যম্পার। তবে তাঁকে আর বেশি সুযোগ দেন নি তাসকিন। তাঁর ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে পরের বলেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে ক্যাম্পারকে।
বাংলাদেশী বোলারদের আগ্রাসনে ম্যচে শুরু থেকেই ছিটকে যায় আয়ারল্যান্ড। ব্যাটারদের আসা যাওয়ার মিছিলে একপ্রকার হেসে খেলেই তাদের হারিয়েছে টাইগাররা।
ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন সাকিব আল হাসান আর তাসকিন আহমেদ ঝুলিতে পুড়েন তিন উইকেট। আর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলে Most Valuable Player of the Match নির্বাচিত হন লিটন কুমার দাস।
তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। আগামী ৩১শে মার্চ, শুক্রবার চট্রগ্রামের একই ভেন্যুতে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড।