বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান যেন সুপারম্যান। সব সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেন তিনি। এবার স্ত্রী শিশিরের সঙ্গে এক বিজ্ঞাপনে হাজির হয়েছেন সাকিব। নিয়মিত তাকে নানান বিজ্ঞাপনে দেখা গেলেও শিশিরকে দেখা যায় না তেমন। এবার এই জুটি ইয়ামাহা মোটরবাইক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন। অবশ্য স্ত্রীর সঙ্গে এর আগেও তিনি বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছিলেন সাকিব। প্রথমবার সস্ত্রীক বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন ২০১৫ সালে। মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের একটি বিজ্ঞাপনে। রোমান্টিক ঘরানার সেই বিজ্ঞাপনচিত্রেও বেশ নজর কেড়েছিলেন সাকিব-শিশির দম্পতি।
শিশির ছাড়া অসম্পূর্ণ এই অলরাউন্ডার। সবসময় স্বামীর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিশির। ১০ বছর ধরে এক সঙ্গে ঘর করছে এই দম্পতি। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সেলিব্রেটি দম্পতি তারা। আছেন বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ক্রিকেটার দম্পতির তালিকায়। তাদের প্রেম পর্বটাও বিষণ রোমান্টিক। সাকিবের সঙ্গে শিশিরের পরিচয় হয় ২০১১ সালের বিশ্বকাপের সময়। সেসময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হওয়ার সূত্রে মিডিয়ার শিরোনামে পরিণত হন তিনি। তখনই তার সম্পর্কে জানেন শিশির। শিশির মূলত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশী।
তাদের প্রথম দেখা হয় ইংল্যান্ডে। আমেরিকা থেকে লন্ডনে গিয়েছিলেন শিশির। কোন এক সময় চোখে চোখ পড়তেই ভালো লাগা শুরু হয়ে যায় দুজনের। লাজুক সাকিব তখনই প্রেমে পড়ে যায় সুন্দরী শিশিরের।লন্ডন থেকে খেলা শেষ করে সাকিব ফিরে আসেন দেশে, শিশির চলে যান পরিবারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে। দুজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজেদের মতো।
সাকিব খেলার জগতে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। শিশির মন দেয় পড়াশোনায়। কিন্তু কোন ব্যস্ততাই তাদেরকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে পারেনি। দুজনের প্রেমালাপ চলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। এরমধ্যেই দেশের ‘মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলর’ ভাবতে থাকেন বিয়ের কথা। এক বছর দুজন দুজনকে বুঝাপড়ার পরেই প্রেমের সম্পর্ক রূপ নেয় পরিণয়ে।
তবে পারিবারিকভাবেই এগিয়েছে বিয়ের আলাপ আলোচনা। বিশেষ দিনে বিয়ে করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা। তারিখ ঠিক করা হয় ১২.১২.১২! রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে ২০ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ে হয় তাদের। বিয়েতে লাল টুকটুকে শাড়ি পরে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন শিশির। তাদের বিয়ের ঘটনা পরিণত হয় খবরের শিরোনামে। ২০১৫ সালে তাদের ভালবাসার ঘর আলো করে আসে ছোট্ট রাজকন্যা আলাইনা হাসান অব্রি। ৫ বছর পর ২০২০ সালে ফুটফুটে দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের বাবা-মা হন তারা।
দ্বিতীয় মেয়ের নাম রাখেন ইরাম হাসান। লকডাউনে আবারও প্রেগন্যান্ট হন শিশির। স্ত্রী শিশিরের বেবি বাম্পে চুমু দিয়ে ছবি পোস্ট করে সাকিব জানান দিয়েছিলেন আবারও তিনি বাবা হতে যাচ্ছেন। ২০২১ সালের মার্চের মাঝামাঝিতে শিশিরের কোলজুড়ে আসে প্রথম ছেলে সন্তান এইজাহ আল হাসান। দুই মেয়ে এক ছেলে নিয়ে সাকিবের সুখের সংসার।
দুই কন্যা, এক পুত্র আর স্ত্রীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের আরেকটা পৃথিবী সাজিয়েছেন সাকিব। প্রতিনিয়ত স্ত্রী-সন্তানকে পাশে রাখছেন তিনি।বেশ কয়েক বছর ধরেই ৩ সন্তানসহ সাকিব আল হাসানের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন।করোনার ভয়াবহতাকালীন সময়েও সেখানেই অবস্থান করেছেন তারা। স্ত্রী সন্তানদের সময় দিতে খেলার ফাঁকে বা ছুটি নিয়ে সাকিব চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে।ব্যস্ত সাকিব আল হাসানকে কাছে পাওয়া যেন স্ত্রী-সন্তানের কাছে ঈদের মতো।সাকিবের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের মেডিসন শহরে বসবাস করেন। নিজের পরিবারকে বাংলাদেশে না রেখে কেন যুক্তরাষ্ট্রে রাখছেন সে বিষয়ে একবার জানিয়েছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। মূলত বড় মেয়ে আলাইনার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিয়েছেন সাকিব। বাংলাদেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে স্বছন্দবোধ করে আলাইনা। তিন সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে সুখে সংসার করছেন অলরাউন্ডার সাকিব।