রিয়াল মাদ্রিদ আবারো প্রমান করলো উস্তাদের মাইর শেষ রাতেই হয়। প্রথম লেগে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও কিভাবে রাজার মতো কামব্যাক করতে হয় সেটাই দেখিয়ে দিল বেঞ্জেমারা।
বার্সার মাঠেই বার্সাকে এক হালি গোল দিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলো রিয়াল মাদ্রিদ। সেই সাথে করিম বেঞ্জেমা হ্যাট্রিক করে স্পর্শ করেছেন ৬০ বছর আগের রেকর্ড।
এল ক্লাসিকোর রাতটা পুরোটাই নিজের করে নিলো বেঞ্জেমা। রোজা রেখে দুই ম্যাচ খেলে দুই ম্যাচেই করে ফেললেন হ্যাট্রিক।
ম্যাচটি ছিল এই মৌসুমের বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের ৫ম এল ক্লাসিকো। আগের ৪টির ৩টিতেই বার্সার জয়জয়কার। তাও আবার সর্বশেষ তিন মুখোমুখি দেখায় তিনটিতেই হেরেছিল ভিনিসিয়ুসরা।
তাই সবদিক দিয়ে কোপা দেল রের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ফেবারিট ভাবা হচ্ছিল বার্সাকেই। এল ক্লাসিকোতে রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিপক্ষে জাভির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের ম্যাচ ছিল এটি। কথা হচ্ছিল তাদের সম্ভাব্য কৌশল নিয়েও।
আর তাইতো নু ক্যাম্পে বার্সারই দাপট ছিল ম্যাচের প্রথম থেকেই। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট রিয়ালের ওপর চড়াও হয়েছিল স্বাগতিক বার্সা।
থিবো কোর্তোয়া দারুণ কিছু গোল না বাঁচালে এগিয়েও যেতে পারত তারা। কিন্তু নাটকীয় চিত্রনাট্যে পরের গল্পটা লেখা হলো শুধু রিয়াল মাদ্রিদের জন্যই।
পিছিয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ অপেক্ষা করছিল মোক্ষম সুযোগের জন্য। সময় যত গড়াতে থাকে রিয়াল নিজেদের খোলস থেকে বেরুতে শুরু করে।
বার্সারই দুর্দান্ত এক আক্রমণ নষ্ট করে পাল্টা আক্রমণ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও করিম বেনজমা। ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার ভিনির গোলেই ম্যাচে লিড নেয় রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে ম্যাচ তখন ১-১ সমতায়।
হাফ টাইমের পরের গল্পটা শুধুই বেনজেমাময়ী। ব্রিলিয়ান্ট ফিনিশিংয়ে দুটি এবং পেনাল্টি থেকে অন্য গোলটি করে নিজের টানা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক আদায় করে নেন এই ফরাসি স্ট্রাইকার।
এর আগে লা লিগায় রিয়াল ভালাদোলিদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন সদ্য ব্যালন ডি অর জয়ী এই তারকা।
আর ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকার আগুনে রাতে রিয়াল পায় ৪-০ গোলের দুর্দান্ত এক জয়। দারুন এ জয়ে আগের তিন ম্যাচ হারের প্রতিশোধটাও নেয়া হলো দুর্দান্তভাবে।
এরই মাধ্যমে কোপা দেল রের ফাইনালও নিশ্চিত করেছে রিয়াল। আগামী ৬ মে ফাইনালে রিয়ালের প্রতিপক্ষ ওসাসুনা।
শুধু এটুকুই নয়, এদিন দেখা মিলেছে ক্লাসিকোর সেই পুরোনো উত্তাপেরও। এল ক্লাসিকো মুখোমুখি লড়াইয়ের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে এসেছে। কোচ খেলোয়াড়দেরকে দেখা গেছে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে যেতে।
ম্যাচের প্রথম গোলটা আসে রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকেই,হাফটাইমের ঠিক আগেই।
লেভানদোভস্কির দুর্দান্ত শট কোর্তোয়া আটকে দিলে,পালটা আক্রমনে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।
ভিনিসিয়ুসের বুদ্ধিদীপ্ত শট গোললাইনের কাছাকাছি জায়গা থেকে ফিরে আসতে নিলে, বার্সার ডিফেন্ডারের কাছে বল যাওয়ার আগেই দারুন এক শটে গোল করেন বেঞ্জেমা। শেষমেষ রিপ্লেতে দেখা যায় গোলটি ভিনিরই।
গোল করেই হাফটাইমের পর আরো আত্নবিশ্বাসী কোচ আনচেলত্তির শিষ্যরা। একের পর এক গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে ৫০ মিনিটে বার্সার জালে আরেকটি গোল আসে । ডি’বক্সের বাহিরে থেকে দারুন এক শটে বেঞ্জেমা গোল করে ২-০ তে এগিয়ে নিয়ে যান রিয়ালকে।
এরপর শুধুই বেনজেমার কারিশমাটিক পারফর্মেন্স। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের ২য় গোলটি করেন ফরাসি এই স্ট্রাইকার।
৮০ মিনিটে ভিনির দৃষ্টিনন্দন এক পাসে নিজের হ্যাট্রিক পুরন করেন করিম বেঞ্জেমা।
এরপর মেজাজ হারানো বার্সা মাঠের মাঝেই বাক বিতন্ডার উত্তেজনা ছড়ানো শুরু করে । কিন্তু গোলের দেখা পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।