বেশিদিন আগের কথা নয়, এইতো সেদিন ডিপিএলের ম্যাচ চলাকালেই, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে,স্ট্যাম্পে লাথি মেরেছিলেন দেশ সেরা অলরাউন্ডার, সাকিব আল হাসান। সেবার তার মাঠে এমন উদ্ধত আচরনের ফলে আর যাই হোক, দেশের সবচেয়ে বড় ওয়ানডে লীগে, আম্পায়ারিং এর দৈন্য দশা, অন্তত জনসম্মুক্ষে এসেছিলো।
সেই ঘটনার পর অবশ্য বিসিবিরও কিছুটা টনক নড়েছিল। সেই মৌসুমের বাকি অংশের খেলায়, আম্পায়ারিং এর মান ছিলো যথেষ্ট পরিমান সন্তোষজনক। -এমনকি দেওয়া হয়েছিল নানা প্রতিশ্রুতি। এবারে বছর ঘুরে আবারো মাঠে গড়িয়েছে, আলোচনার জন্ম দেওয়া, সেই ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের নতুন আসর। সকলের আগ্রহ ছিল, চলতি বছরে আম্পায়ারিং এর কোয়ালিটি কেমন হয় তা নিয়ে।
ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সব দল ,একাধিক ম্যাচ খেলে ফেলেছে। এতদিন আম্প্যয়ারিং নিয়ে খুব বেশি কথা বলা হয়নি। কারন জাতীয় দল, আয়ারল্যান্ড সিরিজে ব্যাস্ত ছিল। সিরিজ শেষ, খেলোয়াড় এবং সাংবাদিকেরা এখন মনযোগ দিয়েছেন এই লীগে।
আর তাতেই বেরিয়ে এসেছে থলের বিড়াল।
শেষ দুটি ম্যাচে উঠে এসেছে, আম্পয়ারিং নিয়ে নানা অসঙ্ঘতি। সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে, মোহামেডান বনাম সিটি ক্লাবের ম্যাচ। এদিন মোহামেডানের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন সাকিব। তবে বিতর্ক তাকে নিয়ে নয়। আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, আরেক জাতীয় দল ক্যম্পেইনার মিরাজ। ম্যাচের তের নাম্বার ওভারে, আসিফ খান তাকে এলবিডব্লিউর ফাদে ফেলেন। গ্যলারিতে বসে থাকা সাংবাদিক কিংবা অন্যদের খালি চোখে দেখে মনে হয়েছে, এটা ছিল পরিষ্কার নট আউট।
তবে কিছু করার নেই। কারন ডিপিএল এ নেই কোন রিভিউ সিস্টেম। অবশ্য পরে মাঠ থেকে বেরিয়ে, মিরাজ মোবাইলে ধারন করা আউটের ভিডিওটা দেখেন।
তখন বাউন্ডারি লাইনে থার্ড আম্পায়ারকে ডেকে, সেই ভিডিও দেখিয়ে তিনি উচ্চবাচ্চ্য করেন। কিন্তু তাতে কি আসে যায়? মাঠের ভুল সিদ্ধান্ত তো আর পালটে যাবেনা? একই ম্যাচে একাধিকবার, সিটি ক্লাবের বোলারদের বাউন্সারে করা ওয়াইড কিংবা, কোমড়ের উপরে করা ডিরেক্ট নো বল ধরতে, ব্যার্থ হয়েছেন মাঠে থাকা আম্পায়ারেরা।
ডিআরএস ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়ার বেলায়, আম্পয়ারদের এমন ভুল হতে পারে। কিন্তু এমন ছোটখাট ভুল, বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। যেমনটা হয়েছে শুক্রবারের ম্যাচে খেলা ছিল মাশরাফির রুপগঞ্জ এবং আবহানীর মধ্যে।
আবহানীর ব্যটিং চলাকালে, রুপগঞ্জ রান আউটের আবেদন করে। পরিষ্কার রান আউট, অথচ আম্পায়ার তা বুঝতে পারলেননা।
মাশরাফী মাথায় হাত দিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলেন, কিন্তু তাতে কি আসলে, মাঠের সিদ্ধান্তে কোন পরিবর্তন হয়? দিনশেষে সেই নাইম শেখ করেন ৭৬ রান। আর তাতেই বদলে যায় খেলার চিত্র। পরে একই ম্যাচে রুপগঞ্জের হয়ে মাঠে নামেন, সাব্বির রুম্মন। তার বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর আবেদন আসতেই, আম্পয়ার হাত তুলে জানিয়ে দিলেন আউট।
কিন্তু এবারেও ছিল সন্দেহ। দুই ক্ষেত্রেই বেনিফিট অব দ্যা ডাউটে, কল গিয়েছে আবহানীর দিকে। ফলে সন্দেহ দানা বাধতে শুরু করে সকলের মনে।
গ্যলারি কিংবা প্রেস বক্সে বসে অনেকেই, তখন চাপা গলায় বলছিলেন, এই লীগের সব কিছুই আবহানীর পিছনে থাকা , বড় কর্তাদের চাওয়া পাওয়ার বদৌলতে হয়।
গত মৌসুমে সাকিবের প্রতিবাদ ছিল ,এই আবহানীর বিরুদ্ধে ম্যাচেই। তখন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ঢেলে সাজানো হবে ঘরোয়া ক্রিকেটের আম্পয়ারিং পদ্ধতি।
কিন্তু কাজের কাজ খুব বেশি যে হয়নি, তা দৃশ্যপটে আসতেই বুঝা গেলো। আর এসব বিষয়ে, বিসিবির বোধদয় কতদিনে হবে, তা বুঝা ও মুশকিল।