বাংলাদেশের ফুটবলের পোস্টারবয় জামাল ভূঁইয়া, যিনি একসময় ডেনমার্কের উন্নত জীবন ছেড়ে নাড়ির টানে চলে এসেছিলেন বাংলাদেশে।বিদেশের মাটিতে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়ালে অনেকের চোখেই আলাদাভাবে পড়েন তিনি।
এ তারকা সম্পর্কে তার ভক্তরা অনেক কিছুই জানেন, আবার এমন কিছু বিষয়ও আছে যা অনেকেরই অজানা।জানা যায়, ষাটের দশকের শেষ দিকে জামাল ভুঁইয়ার বাবা ইনসান ভূঁইয়া ও মা রাজিয়া আক্তার ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে পাড়ি জমান।জামালের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেখানেই। কাটিয়েছেন শৈশব, কৈশোর। বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিলো ছেলে আইনজীবি কিংবা ডাক্তার হবে। কিন্তু জামাল স্থির করে নিয়েছিলেন তিনি ফুটবলার হবেন।
মূলত তার ফুটবলের হাতেখড়িও হয় সেখানেই। পরবর্তিতে দেশের হয়ে খেলতে ২০১১ সালে বাংলাদেশে আসেন। ট্রায়ালে অংশ নেন। প্রথমবার অবশ্য উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তাই ২০১৩ সালে আবার ফিরে আসেন দেশে।এবার তিনি টিকে যান। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। তার হাত ধরে বাংলাদেশ পায় বেশ কিছু সাফল্য।এখন তাকে ছাড়া জাতীয় দলের কথা ভাবাই যায় না। জাতীয় দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক খেলোয়াড় তিনি।
তার নেতৃত্বেই ২০১৫ সালে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে রানার্স-আপ হয়েছিল। তিনি হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সেরা।এর পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে একের পর এক সাফল্য দেখেয়েই যাচ্ছেন এ ফুটবলার। এদিকে মাঠে ফুটবলার হয়ে লড়াইয়ের পাশাপাশি এরই মধ্যে ভবিষ্যৎ লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছেন জামাল ভুঁইয়া।তার অনেক বড় স্বপ্ন খেলোয়াড়ি জীবন শেষে লাল-সবুজ দলের কোচ হয়ে ডাগ আউটে দাঁড়ানো!
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কেউ কোচিংয়ে আসেন। আবার কেউ বা মাঠের ফুটবল দূর থেকে দেখতে পছন্দ করেন।
কিন্তু ৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার অবসরের পর ফুটবল আঁকড়ে ধরেই থাকতে চান বলে জানা যায়।প্রসঙ্গত, একদিকে মাঠে যেমন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, তেমনি মাঠের বাইরেও সুখি-বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন জামাল।আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালের দিকে, তাতিয়ানা নামের এক সুন্দরী যুবতীকে বিয়ে করেছিলেন তিনি।
ধারনা করা হয়েছিল জামাল যেহেতু ফুটবল খেলোয়াড়, সেহেতু তার স্ত্রী হয়তো ফুটবলের ভক্ত হয়ে থাকবে।কিন্তু এক সংবাদ সম্মেলনে জামাল জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানিয়েছিলেন তার স্ত্রী ফুটবল খেলা বোঝেন না।
এমনকি অন্যান্য খেলোয়াড়দের স্ত্রীর তুলনায় একদমই আলাদা জার্মানির কোলনে বেড়ে ওঠা তাতিয়ানা।২০১৯ সালের ৮ আগস্ট জার্মানির এক কফি হাউসে প্রথমবারের মতো দেখা করেন এই প্রেমিক যুগল।এরপর মন দেয়া-নেয়া। দুই পরিবারের সম্মতিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নেন এবং অবশেষে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।সে সময় এক প্রকার সবার অলক্ষ্যেই বিয়ের কাজটা সেরে ফেলেছিলেন জাতীয় দলের এই অধিনায়ক।
যার ফলে তখন কনের নাম-ধাম, পরিচয় কিছুই জানা সম্ভব হয়নি। শুধু জানা গেছে, ডেনমার্ক প্রবাসী বাংলাদেশি তিনি।পরবর্তিতে অবশ্য সামনে আসে বাবার বন্ধুর মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন জামাল। ঢাকার কেরানীগঞ্জের মেয়ে সে। তবে পড়াশুনা করছেন জার্মানিতে, কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে।ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের গোল্ডেন প্যালেসে অনুষ্ঠিত হয়েছে জামালের বিয়ের অনুষ্ঠান।নতুন জীবন নিয়ে এরইমধ্যে স্বপ্নের জাল বুনে ফেলেছেন জামাল ভূঁইয়া। এমনকি এ সাক্ষাৎকারে, চার সন্তানের বাবা হওয়ার ইচ্ছেও পোষণ করেছিলেন তিনি।