লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের আসন্ন আসর শুরু হবে ৩০ জুলাই। চলবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত। তবে এখনো শুরু হয়নি এই আসরের দল গুছানোর কাজ। কেবল নেওয়া হয়েছে ড্রাফটের ক্রিকেটারদের তালিকা। এই তালিকায় আছেন বিভিন্ন দেশের তারকা ক্রিকেটাররা। নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটারও। তাদের মধ্যে একজন আগেরবারও অংশ নিয়েছেন লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে।
এ পর্যন্ত এলপিএলের ড্রাফটে নাম দিয়েছেন তিন বাংলাদেশি ক্রিকেটার - সাকিব আল হাসান, লিটন দাস ও আফিফ হোসেন ধ্রুব।
পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যায়, লিটন দাস ১৮১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রায় ১২৯ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ৪০৫৫ রান।
আফিফ খেলেছেন ১২৪টি ম্যাচ। ব্যাট হাতে ১২২ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ২৩৩৯ রান ও বল হাতে ৮ ইকোনমিতে নিয়েছেন ২৯টি উইকেট।
আর সাকিব আল হাসান তো টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা। খেলেছেন ৪০৩টি ম্যাচ। ১২৪ স্ট্রাইকরেটে সংগ্রহ করেছেন ৬৭৭৯ রান। বল হাতে নিয়েছেন ৪৫১টি উইকেট। টি-টোয়েন্টির অনেক রেকর্ড নিজের ঝুলিতে পুরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বিপিএল, আইপিএল, পিএসএল, সিপিএল, বিগ ব্যাশ - সব বড় বড় লিগেই খেলার বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে তার।
তবে শুধু এই তিন ক্রিকেটারেই শেষ না। এলপিএলের ড্রাফটে নাম লেখানোর সুযোগ আছে আরো বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত ড্রাফটে নাম নেওয়া হবে। আর প্লেয়ার ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ জুন।
বাংলাদেশের আফিফ গত আসরেও এলপিএলে অংশগ্রহণ করেছিলেন। টুর্নামেন্টের মাঝপথে জাফনায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আফিফ দল পেয়েছিলেন ড্রাফটের বাইরে থেকেই। এক ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকিয়ে চমক দেখালেও পরের ম্যাচগুলোতে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।
বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটাররাও ইতোমধ্যে নাম লিখিয়েছেন এলপিএলের ড্রাফট তালিকায়। তাদের মধ্যে আছেন, অস্ট্রেলিয়ার শন মার্শ, ম্যাথু ওয়েড, ডার্সি শর্ট ও উসমান খাজা।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির, লুঙ্গি এনগিডি ও তাবরাইজ শামসি।
পাকিস্তানের মোহাম্মদ নওয়াজ, ওয়াহাব রিয়াজ ও নাসিম শাহ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড,ডোয়াইন ব্রাভো, জনসন চার্লস ও অ্যাশলে নার্স।
নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি, টিম সাইফার্ট, ড্যারিল মিচেল ও ডগ ব্রেসওয়েল।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন ব্রাভো ও কাইরন পোলার্ড আগেই জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা কেবল এলপিএলের প্রথম অর্ধে অংশ নিতে পারবেন। একই সময়ে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ চলবে তাই সম্পূর্ণ টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। এছাড়া সমসাময়িক সময়েই চলবে ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড। ফলে ক্রিকেটাররা বিভক্ত হয়ে যাবেন এই তিন টুর্নামেন্টে৷ তাই এলপিএলের আসর জুড়ে তারকা বিদেশি ক্রিকেটারদের পাওয়া নিয়ে আছে শঙ্কা।
আবার বাংলাদেশের তখন আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ আছে। তাই টাইগাররাও সম্পূর্ণ টুর্নামেন্ট খেলতে পারবেন কিনা তা অনিশ্চিত। জুন-জুলাই মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট এবং তিন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
এলপিএলের প্রধান নির্বাহী দোদানয়েলা বলেন, ‘লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের আরেকটি আসর শুরুর ব্যাপারে আমরা খুবই রোমাঞ্চিত। টুর্নামেন্টটি শুরু করতে আমরা মুখিয়ে আছি। দেশি-বিদেশি তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে সফল একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের আশা ব্যক্ত করছি।'
২০২৩ সালের আসরেও অংশ নিবে পাঁচটি দল৷ কলম্বো, জাফনা, গল, ক্যান্ডি ও ডাম্বুলা। প্রত্যেকটি দলে ৬ জন করে বিদেশি ক্রিকেটাররা নেওয়া যাবে। সবগুলো দল প্রত্যেকের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। পয়েন্ট টেবিলের তলানির দলটি বাদ পড়বে।