ইউরোপের পর এখন আমেরিকারও হৃদয় জয় করে নিচ্ছেন লিওনেল মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে নিজের ২য় ম্যাচে আরো দুরন্ত এলএমটেন। আটলান্টাকে ৪ গোলে উড়িয়ে দিলো তার দল। এই চার গোলের প্রত্যেকটিতে ছিল মেসির অবদান। সেই অবদানের পাশাপাশি এই ম্যাচে গোল করে, গড়েছেন বিরল এক অবিস্মরণীয় রেকর্ড। অফিশিয়াল ম্যাচে এ নিয়ে ১০০টি ক্লাবের বিপক্ষে গোল করলেন মেসি। অর্থাৎ তার ক্যারিয়ারে ১০০তম ক্লাব হিসেবে আটলান্টার বিপক্ষে গোল করেছেন কালজয়ী এই আর্জেন্টাইন।
মোট ২৩টি দেশের ১০০টি আলাদা ক্লাবের বিপক্ষে গোল করার বিরল রেকর্ড গড়লেন বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক। পুরো ক্যারিয়ারে ১১৫টি আলাদা আলাদা ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছেন মেসি। তার মাঝে ১০০টি ক্লাবের বিপক্ষে গোল পেয়েছেন তিনি। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড এর সবচেয়ে বেশি গোলের শিকার হয়েছেন স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়া। এই ক্লাবের বিপক্ষে ৩৮ বার বল জালে জড়িয়েছেন মেসি। অন্তত একটি করে গোল করেছেন ২৭টি ক্লাবের বিপক্ষে।
মেসির অবিস্মরণীয় কীর্তি এখানেই শেষ নয়। আটলান্টার বিপক্ষে দুটি করে গোল করেছেন মেসি ও রবার্ট টেইলর। মায়ামির ইতিহাসে এই প্রথম এক ম্যাচে দলটির দুজন খেলোয়াড় একাধিক গোল করলেন। মজার বিষয় হলো, আটলান্টার বিপক্ষে মেসি দুটি গোলই করেছেন তার ডান পায়ে। মেসির ডান পায়ে জোড়া গোল দেখা গেল দীর্ঘ আট বছর পরে। সবশেষ লা লিগায় ২০১৫ সালে লেভান্তের বিপক্ষে ডান পায়ে একই ম্যাচে দুটি গোল করেছিলেন তিনি।
মেসির লম্বা সাফল্যময়ী ক্যারিয়ারের তৃতীয় ক্লাব ইন্টার মায়ামি। এর আগে বার্সেলোনা ও পিএসজির হয়ে ৯৮টি আলাদা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। এ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে মেসির গোলের সংখ্যা ছিল ৭০৪টি। মায়ামির হয়ে তার ৯৯ তম প্রতিপক্ষ ছিল মেক্সিকোর ক্লাব ক্রুজ আজুল। অভিষেকের এই ম্যাচেও ছিল লিওর অসাধারণ গোল। এরপর ১০০তম প্রতিপক্ষ হিসেবে আটলান্টাকে তো পুরো দুমড়ে মুচড়ে দিলেন সাবেক এই বার্সা মহাতারকা।
২০০৫ সালের ১ মে বার্সেলোনার হয়ে অফিশিয়াল ম্যাচে প্রথম গোল পেয়েছিলেন মেসি। প্রতিপক্ষ ছিল আলবাখেট। মেসি যে ১০০ ক্লাবের বিপক্ষে গোল করেছেন, এর মধ্যে স্পেনের লা লিগার ক্লাবই সবচেয়ে বেশি। ৩৬ বছর বয়সটা যেন মেসির জন্য সংখ্যা মাত্র। বুড়ো বয়সে এসেও তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন বার্সায় থাকা সেই তরুণ বয়সের মতোই। আটলান্টার বিপক্ষে গোল করেছেন ২টি। এসিস্টও ছিল ১টি। চার নাম্বার গোলের উৎসটাও হয়েছিল মেসির থেকেই গোলের জন্য নেওয়া ৪টি শটের মধ্যে শুধু ১টি গোলপোস্টে ছিল না। দুবার ড্রিবল করার সুযোগ পেয়ে দুবারই সফল। গোল হওয়ার মতো পাস দিয়েছেন ৩টি।
আমেরিকায় এসে যেন নিজেকে খুজে পেলেন নতুন করে। স্বতস্ফুর্ত মেসি যেন মনের মাধুরি মিশিয়ে নৈপুন্য দেখিয়ে যাচ্ছেন ফুটবলের অপরিচিত দেশ আমেরিকাবাসীকে। যেন তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন বাস্কেট-রাগবি খেলার পাশাপাশি ফুটবলটাকে দেশটিতে জনপ্রিয় করে তোলার। সমালোচনা থাকতে পারে যে মেসি বছরের পর বছর ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোকে ঘোল খাইয়েছেন, তাঁর কাছে উত্তর আমেরিকার তুলনামূলক কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবলে এমন পারফরম্যান্স প্রত্যাশিতই।
কিন্তু মানুষের বয়সের সাথে সাথে খেলোয়াড়দের পারফর্মেন্সের গ্রাফ চিত্র নিচের দিকে যেতে থাকে। মেসির ক্ষেত্রে যেন নিয়মের ব্যতিক্রম হচ্ছে। বয়সের সাথে সাথে তার নৈপুন্য ঝলক যেন আরো বেড়েই চলেছে।
দূরবীন/এন/এ