নানা ঘটনা ও অঘটনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ভারত সফর। সফরের শুরুতেই কলকাতায় বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর ও বিতর্কের ঘটনা ঘটলেও হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও দিল্লিতে মেসির উপস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে কলকাতায় ঘটে যাওয়া সহিংস পরিস্থিতির জন্য মেসির ভূমিকা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার।
ভারতীয় ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্পোর্টস্টার-এ প্রকাশিত এক কলামে গাভাস্কার কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য মেসিকেই ‘মূল দায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, কলকাতায় মেসি ঘোষিত সময়ের তুলনায় অনেক কম সময় স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন, যা দর্শকদের হতাশ করেছে।
গাভাস্কার লেখেন, কলকাতার ঘটনায় দোষ দেওয়া হয়েছে সবাইকে, কিন্তু সেই ব্যক্তিকে নয়, যিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ্যে না এলেও যদি তাঁর এক ঘণ্টা স্টেডিয়ামে থাকার কথা থাকে এবং তিনি সময়ের অনেক আগেই চলে যান, তবে টিকিট কেটে আসা দর্শকদের হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে মূল দায় তাঁর এবং তাঁর সহযোগীদের।
কলামে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মেসির বা তাঁর সহযোগীদের কোনো প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকি ছিল না। রাজনৈতিক ব্যক্তি ও ভিআইপিদের ভিড়ে তিনি আবদ্ধ হয়ে পড়লেও, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিকল্প উপায় ছিল বলে মত গাভাস্কারের। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মেসির কি শুধু মাঠ ঘুরে দেখানোর কথা ছিল, নাকি দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য কার্যকর কিছু—যেমন পেনাল্টি কিক নেওয়ার সুযোগও রাখা যেত?
গাভাস্কার কলকাতার আয়োজকদের একতরফাভাবে দোষারোপ না করার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, অন্যান্য শহরে সফর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে কারণ সেখানে প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করা হয়েছিল। তাই কলকাতার ঘটনায় দায় নির্ধারণের আগে উভয় পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি ঠিকভাবে রক্ষা করেছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
উল্লেখ্য, সফরসূচি অনুযায়ী কলকাতায় মেসির পুরো স্টেডিয়াম একবার চক্কর দেওয়ার কথা ছিল। তবে উপস্থিত সাংবাদিকদের দাবি, তিনি মাত্র ২০ থেকে ২২ মিনিটের মতো মাঠে ছিলেন। শনিবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে কালো পোশাকে একটি সাদা অডি গাড়ি থেকে নেমে যুব ভারতী স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন মেসি। স্টেডিয়ামে ঢুকতেই দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে গ্যালারি।
মেসির সঙ্গে ছিলেন তাঁর ইন্টার মায়ামি সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো দি পল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনীতিবিদ, পুলিশ কর্মকর্তা, ভিআইপি ও তাঁদের সহযোগীদের ভিড়ে মেসি আড়ালে চলে যান। ফলে টিকিটধারী অনেক দর্শক তাঁকে ঠিকমতো দেখার সুযোগ পাননি।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আয়োজক শতদ্রু দত্ত বারবার মাঠ খালি রাখার অনুরোধ জানান। কিন্তু অনুরোধ উপেক্ষা করে একের পর এক বিশিষ্ট ব্যক্তি মাঠে ঢুকতে থাকেন। এ সময় ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর খবরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মেসিকে স্টেডিয়াম ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ স্টেডিয়ামের চেয়ার ভাঙচুর ও বোতল ছুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। গাভাস্কারের মতে, কলকাতার ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়াটিই মূল সংকট তৈরি করেছে। তাই দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বাস্তবতা ও চুক্তির শর্ত বিবেচনায় নেওয়া উচিত।