আজকের খবর


বুম সুপারসনিক লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক যাবে সাড়ে তিন ঘন্টায়।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৬ আগস্ট ২০২২, ১২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার

বুম সুপারসনিক লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক যাবে সাড়ে তিন ঘন্টায়।

শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির বিমান চালু হবে অতি শীগ্রই। ফলে নিউইয়র্ক থেকে লন্ডনে যেতে সময় লাগবে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টা!আগে ৫,৫৫৯ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে যেতে সময় লাগত সাত থেকে সাড়ে আট ঘণ্টাকিন্তু বুম সুপারসনিক মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় ব্রিটেন থেকে সোজা আমেরিকায় পৌঁছে দেবে যাত্রীদের।আর মার্কিন শহর সান ফ্রান্সিসকো থেকে জাপানের রাজধানী টোকিওতে যেতে সময় লাগবে মাত্র ছয় ঘণ্টা।


সুপারসনিক বিমান নিয়ে কাজ চলছে বিগত ২০ বছর ধরে। এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বুম নামের একটি কোম্পানি। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বুম বলছে, গতিবেগ ও নিরাপত্তার দিক দিয়ে বিচার করলে এটি বিশ্বের দ্রুততম বিমান হতে চলেছে। বিশ্বের দ্রুততম বিমান ‘৭৪৭’, ‘কনকর্ড’-কেও ছাপিয়ে গিয়েছে এটি। 


মোট ৫১ বার নকশা পরিবর্তন করার পর বিমানটির ২৬ মিলিয়ন ঘণ্টা জুড়ে সিমুলেশন টেস্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি উইন্ড টানেল টেস্টও হয়েছেঅনেকে আবার দ্রুতগতির এই বিমানকে ‘সন অব কনকর্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নতুন এই সুপারসনিক বিমানের নাম ওভারচার। 


আসন সংখ্যা ৬৫ থেকে ৮৮টি। উড়ে চলবে ৬০,০০০ ফুট উচ্চতায়। স্থল ও জলের উপর দিয়ে চলতে পারবে এটিওভারচারের স্বাভাবিক গতিবেগ স্থলভাগের উপর ঘণ্টায় ২০৯২ কিলোমিটার হলেও জলভাগের উপর দিয়ে ঘণ্টায় ১২৩৯ কিলোমিটার বেগে উড়ে যেতে পারবেপ্রথমে সুপারসনিক বিমানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে  উদ্বেগ ছিল উচ্চমাত্রার শব্দ এবং দূষণে। শব্দের গতির চেয়ে বেশি হবে বলে, এর আওয়াজ হবে বেশ জোরালো, যা কিছুটা বজ্রধ্বনি বা বিস্ফোরণের মতো শোনাবে।তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে মোট চারটি ইঞ্জিন-সহ এই বিমানে শব্দদূষণ রোধের জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। 


বিমানে কার্বন নিঃসরণ হবে শূন্য। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করা হবে।

২০২৬ সাল থেকে বিমানটি উড়ানের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সবকিছু ঠিকটাক থাকলে, ২০২৯ সালে প্রথম যাত্রী বহন শুরু করবে সংস্থাটি। 

অবাক করা বিষয় হলো বিমানটি চালু হওয়ার আগেই  ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ১৫টি সুপারসনিক বিমান অর্ডার দিয়েছে।এছাড়াও জাপান এয়ারলাইন্স ২০১৭ সালে বুম সুপারসনিকে ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। চুক্তির আওতায় তারা প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০টি বিমান কেনার আশা করছে।


এদিকে বুম ‘বিশেষ মিশন ভ্যারিয়েন্ট’ বিকাশের জন্য নর্থরপ গ্রুম্যান সংস্থার সঙ্গে একটি অংশীদারি চুক্তি ঘোষণা করেছে। 


ওভারচারের জন্য বুম এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৬৬০টির বেশি বিভিন্ন রুটের খোঁজ পেয়েছে। 

গোটা প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে, অন্তত এক থেকে দেড় হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজনএই  উচ্চভিলাষী পরিকল্পনা, আলোর মুখ দেখতে চলছে, এটি চালু হলে আকাশপথে ঘটবে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন।


যদিও ১৯৭০ এর দশকে প্রথম ফ্রান্স থেকে আকাশে উড়েছিল বাণিজ্যিক সুপারসনিক বিমান কনকর্ড। 


তখন এয়ার ফ্রান্স ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এই বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা করত।কিন্তু অতিরিক্ত ব্যয়ভার ও পরিবেশগত বিধিনিষেধের কারণে ২০০৩ সালে এগুলো তুলে নেওয়া হয়।এর আগে ২০০০ সালে এয়ার ফ্রান্সের একটি যাত্রীবাহী কনকর্ড দুর্ঘটনায় ১১৩ জন নিহত হয়েছিলেন।সে সময় কনকর্ডের আসনসংখ্যা ছিল ১০০ থেকে ১৪৪টি। শুধু সম্পদশালী ব্যক্তিরাই এই বিমানে ভ্রমণ করতে পারতো। 


 


 


 


। 









। 








। 


 




জনপ্রিয়