আজকের খবর


কবে চালু হবে বিআরটি প্রকল্প


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার

কবে চালু হবে বিআরটি প্রকল্প

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার যানজট নিরসনে ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প হাতে নিয়েছিল সরকার। এটি হচ্ছে মূল সড়কের একটা অংশ আলাদা করে বিশেষ বাস সেবা। এ অংশটিতে অন্য কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না।

বর্তমানে বিশ্বের ১৭৯টি শহরে এক বা একাধিক বিআরটি ব্যবস্থা রয়েছে। নির্মাণ পদ্ধতি সহজ হওয়ায় প্রকল্পটি বাংলাদেশে অনুমোদন দেয়া হয় ২০১২ সালে।

হযরত শাহজালাল আন্তজার্তকি বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কে চলবে বিআরটি বাস। যেটি চালু দুইটি আলাদা লেনে নির্দিষ্ট রঙের বাস চলাচল করবে।

এই প্রকল্পের কিছু অংশ হচ্ছে এলিভেটেড। সাড়ে চার কিলোমিটার বিআরটি লেনসহ ছয় লেনের এলিভেটেড সেকশান এরই মধ্যে সম্পূর্ন্ন দৃশ্যমান হয়েছে।

বিআরটির বাসগুলোর যাতায়াত নির্বিঘ্ন এবং নিরবিচ্ছিন্ন করতে করিডোরের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ  যানজট প্রবণ ইন্টারসেকশনে ফ্লাইওভার নির্মাধীন রয়েছে। 

যেখানে সড়ক সরু সেখানে ফ্লাইওভারে বাসের নির্ধারিত লেন থাকবে। বাস যেনো কোনো সিগন্যালে আটকা না পড়ে সেজন্যে প্রতিটি মোড়ে ওভারপাস থাকছে।

গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বিস্তৃত করিডোরে উভয়মুখী বাস চলাচলের জন্যে রাস্তার মাঝখানের অংশে ২টি ডেডিকেটেড বিআরটি লেন থাকছে। 

সেইসাথে উভয় পাশের সাধারণ রাস্তার লেন,ধীরগতির যাবাহন চলাচলেল পৃথক লেন ও পথচারী চলাচলের জন্য ফুটপাতের উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের কাজ এগিয়ে চলছে।

বিমানবন্দর থেকে জসীমউদ্দিন পর্যন্ত অংশে ৫৮০ মিটার উড়াল সড়কটির কাজ এগিয়ে চলছে। হাউজবিল্ডিং থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত সবগুলো পিলারে ভায়াডাক্ট বসে গেছে।

এই পথে বিআরটি লাইনের আওতায় পড়েছে তুরাগ নদের ওপর নির্মাণাধীন ১০ লেনের টঙ্গী সেতুৃ। যার কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। কিছুদিনপর চালু হতে যাচ্ছে এটি। টঙ্গী সেতু থেকে আবদুল্লাহপুর আশুলিয়া রোড বরাবর একটি র‌্যাম্পের ব্যবস্থা রাখাও হয়েছে।

বিআরটি পদ্ধতিতে ট্রেনের মতো বিনা বাধায় বাস চলতে পারবে। যাত্রী ওঠা নামায় রাস্তায়ই থাকছে স্টেশন। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ি পযন্ত লাইনে ২৫টি বিআরটি স্টেশন থাকবে। যার মধ্যে ৬টি স্টেশন হবে এলিভেটেড।

প্রতি ৩ থেকে ৫ মিনিট পর পর স্টেশন থেকে বাস ছেড়ে যাবে। এর মাধ্যমে যানজট এড়িয়ে যাত্রীরা খুব সহজেই স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিদিন যাতায়াত করতে পারবেন।

বাসে চড়তে কাইন্টার বা ভেণ্ডিং মেশিন অথবা অনলাইনে টিকেট কাটতে হবে।
এই পথে ১২০টি আর্টিকুলেটেড বাস চলবে। দুটি কোচ জোড়া দিয়ে বানানো বাসের দৈর্ঘ্য হবে ১৮ মিটার।

বিশেষ রুটের বিশেষ বাসে ২০ কিলোমিটার পথ মাত্র ২০ মিনিটেই পাড়ি দেয়া যাবে। যাতে করে প্রতিদিন ৪ লক্ষাধিক যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।

তবে প্রকল্পের ধীর গতির কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ছে প্রতিনিয়ত।  ২০১২ সালে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির নকশা আর দরপত্র চূড়ান্ত করতেই সময় লেগে যায় চার বছর।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বি আর টি চালু হবার কথা থাকলেও নির্মাণ কাজই শুরু হয় ২০১৭ সালের এপ্রিলে।
এরইমধ্যে চার দফায় সংশোধন করে বাস্তবায়নরে মেয়াদ বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পযন্ত।

এই হিসেবে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি নির্মাণ করতে লেগে যাচ্ছে ১০ বছরের বেশি সময়। আর নির্মাণ কাজ শুরুর পর ধরলে সেটি দাড়ায় ৬ বছরে। 

যা বিশ্বের অন্য দেশের বিআরটি প্রকল্পের থেকে কয়েকগুণ বেশি সময়। প্রকল্প সূত্র মতে, এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে ৮২ শতাংশ। 

অনেকের কাছে বিআরটি যেনো এক বিড়ম্বনার নাম। বিশেষ করে এর নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে বার বার দূর্ঘটনা এই পথের যাত্রীদের জনমনে ভীতি তৈরি করেছে।

দশ বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ার সাথে সাথে বিআটির ব্যয়ও বেড়েছে। ২০১২ সালে অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিলো দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা। চার দফায় বেড়ে যা এখন দাড়িয়েছে  চার হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। 

তবে বিআরটির সব জনদুর্ভোগ আর বিড়ম্বনাকে পেছনে ফেলে দেশের প্রথম এই বিশেষ বাস লেন সেবা পাক নগরবাসী এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

এর মাধ্যমে উত্তরা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কের উভয়পাশের আবাসিক  ও বাণিজ্যিক পযায়ে অরিয়েন্ট ডেভলপমেন্টের মাধ্যমে নতুন এক মাত্রা যোগ হবে। 





জনপ্রিয়