আজকের খবর


শাহজালাল বিমানবন্দরে ভিভিআইপিদের জন্য নির্মিত হবে পৃথক টার্মিনাল


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১০ অক্টোবর ২০২২, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার

শাহজালাল বিমানবন্দরে ভিভিআইপিদের জন্য নির্মিত হবে পৃথক টার্মিনাল


এই পরিকল্পনাটি, চলমান তৃতীয় টারমিনাল নির্মাণ প্রকল্পের সাথে পূর্বেই যুক্ত করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে এটি বাতিল করা হয়।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা ও ঝামেলাহীন যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে  বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি পুনরায় এই পরিকল্পনাটি যুক্ত করে। 

ভিভিআইপি টার্মিনালটি নির্মিত হবে বিমান বন্দরের পশ্চিম রানওয়েতে। এটি নির্মাণে আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ২৮৩ কোটি টাকা বা ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এই টাকা মন্ত্রনালয় থেকে আলাদা বরাদ্দ করা হবে না বরং চলমান তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের  জন্য প্রাপ্ত অর্থ থেকেই বিশেষ এই টার্মিনালটি বানানো হবে। বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা।  

টার্মিনাল নির্মাণের সময় দেখা যায়, টার্মিনাল ভবনের পাইলিং এর কাজ চুক্তি অনুযায়ী যে স্টিল স্ক্রুড পাইলের মাধ্যমে করার কথা ছিল তা ভূগর্ভস্থ মাটির অনুপযুক্ততার জন্য ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ফলে মোট অর্থের ৮০০ কোটি টাকা বা ৮২ মিলিয়ন ডলার বেঁচে যায়। তাই  বাকি টাকা দিয়ে এই রুটটি নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে।

এই টার্মিনালটি নির্মাণ করা গেলে শুধুমাত্র বিশেষ যাত্রীবর্গই সুবিধা পাবেন তা নয় বরং উপকৃত হবেন সাধারন যাত্রীরাও। এছাড়া অন্যান্য টার্মিনালেও যানজট কম হবে।

সরকার ২০১৭ সালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও বর্তমানে এটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকায়।

এটি নির্মাণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। মন্ত্রনালয়ের  পক্ষ থেকে জানা গেছে যে বহুল প্রতীক্ষিত এই টার্মিনালটি উদ্বোধন করা হবে ২০২৩ সালের শেষের দিকে।

প্রাথমিকভাবে তৈরীকৃত প্রকল্পে ভিভিআইপিদের জন্য আলাদা রুট তৈরী করার ব্যাপারটি  বিবেচনায় ছিল । পরিকল্পনা মোতাবেক ক্যান্টারমেন্টের ভেতর দিয়ে আলাদা করে বিশেষ টার্মিনালটি তৈরী করা হবে। পরে তা বাতিল করে মূল  টার্মিনালেই যথাযথ নিরাপত্তা বিধানের  সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কাব।

কিন্তু  কর্তৃপক্ষ আবার তাদের সিদ্ধান্তে বদল এনে পূর্ব পরিকল্পনায় ফিরে যায়। কারন সাধারন টার্মিনালে ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা বিমানবন্দরের সার্বক্ষণিক কার্যাবলীতে ব্যাঘাত ঘটবে।  এমতাবস্থায় ভিভিআইপিরা আলাদা রুটে যাতায়াত করলে তা সবদিক দিয়েই  অধিক সুবিধাজনক হবে।

গত  সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখ বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রনালয় পরিকল্পনা কমিশনকে একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা হয়েছে ভিভিআইপি টার্মিনাল ও ১৪ টি বোর্ডিং ব্রিজ নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা বা ২০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন।

চিঠিতে আরো বলা হয়, পুরো প্রকল্পটি আবার খতিয়ে দেখার পর দুটো স্থাপনা নির্মাণে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ হিসেব করা হবে।  তারপর তা  পরিকল্পনা কমিশনের মাধ্যমে পাঠানো হবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির কাছে।

জানা যায়, যদি দুটো পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয় তবে তৃতীয় টার্মিনালটির আয়তন ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার থেকে বেড়ে হবে  ২ লাখ ৬০ হাজার বর্গমিটার।

উন্নয়ন প্রকল্পটির দায়িত্বে রয়েছে জাপানের মিতসুবিশি কর্পোরেশন, ফুজিতা কর্পোরেশন এবং কোরিয়ার স্যামসাং কোম্পানী।  



জনপ্রিয়