আজকের খবর
নিরাপত্তা ঝুকিতে বন্ধ হলো বান্দরবন
নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যটন গন্তব্য বান্দরবনের রোমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় সাময়িক ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী।
১৮ই অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত। এর ফলে বন্ধ হচ্ছে বগালেক, রিজুক ঝর্ণা, কেওক্রাডোং সহ আরো বেশ কয়েকটি গন্তব্য স্থল।
নিষেধাজ্ঞার ফলে এই দুই উপজেলায় যারা ইতিমধ্যেই প্রবেশ করেছিলেন তাদের ফিরে আসতে হয়েছে নির্ধারণ করে দেয়া সময় মঙ্গলবার দুপুরের আগেই।
আর নতুন করে কাউকে প্রবেশেরও অনুমতি দেওয়া হবে না পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত। প্রশাসন থেকে জানানো হয় পাহাড়ি অঞ্ছল গুলোতে সৃষ্টি হয়েছে নিরাপত্তা সঙ্কট।
আর তাই সাধারন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এসেছে এমন সিদ্ধান্ত। তবে তারা জানায়নি ঠিক কোন নিরাপত্তা ঝুকিতে বন্ধ হলো ট্যুরিস্ট স্পট গুলো।
তারা বলেছে নিরাপত্তা ঝুকি কেটে গেলে আবার খুলে দেওয়া হবে দুই উপজেলার প্রবেশদ্বার। বান্দরবন, রাঙ্গামাটি, খাগরাছড়ি এই তিন জেলাকে নিয়ে দেশের পার্বত্য অঞ্ছল।
বছরের প্রায় সময়ই এই জেলা গুলোতে ভিড় লেগে থাকে দর্শনার্থীদের। তবে প্রতি বছর শীতের শুরুতে ভিড়ের পরিমান থাকে বাড়তি।
স্থানীয়দের তথ্য মতে, গেল কয়েকদিন ধরেই পাহাড়ের বিভিন্ন অঞ্ছলে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর অনবরত সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান চলছে।
তারা ধারনা করছেন এই অভিযানের ফলশ্রুতিতেই এসেছে এমন কড়াকড়ি। তবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা উপজেলা প্রশাসন স্বীকার করেনি এমন কোন ঘটনার অস্তিত্ব।
উপজেলা প্রশাসকেরা গনমাধ্যমকে বলেন এই দুই উপজেলার বেশিরভাগ ট্যুরিস্ট স্পট দুর্গম এলাকায় অবস্থিত, যেখানে নেই পর্যাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এমনকি পর্যটকেরা টেলি কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক এর বাইরে চলে যান। ফলে কোন ট্যুরিস্টদের সুযোগ থাকে না বিপদে কোনরুপ যোগাযোগের।
এরই প্রেক্ষিতে সৃষ্টি হিয়েছে নিরাপত্তা ঝুকি। গত সোমবার সন্ধ্যায় মৌখিকভাবে নোটিশটি প্রথম জারি হলে ও মঙ্গলবার এসেছে লিখিত সিদ্ধান্ত।
সম্প্রতি দেশীয় গনমাধ্যমে সংবাদ এসেছিল পার্বত্য অঞ্ছলে তৈরি হচ্ছে নতুন সন্ত্রাসী গ্রুপ। যার নাম কুকী চীন ন্যাশনাল ফন্ট। সংগঠনটি দাবি করেছে, রাঙামাটি ও বান্দরবান অঞ্চলের ছয়টি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে তারা।
সেগুলো হলো বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, ম্রো ও খুমি। তারা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি এবং বান্দরবানের রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা ও আলীকদম—এই উপজেলাগুলো নিয়ে আলাদা রাজ্যের দাবি করেছে।
দলটি ইউটিউবে বিভিন্ন রকম ভিডিও প্রকাশ নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছিল বেশ কয়েকদিন ধরেই। ধারনা করা হচ্ছে এই দলটির বিরুদ্ধে চলছে অভিযান।
বেশ কিছু অসমর্থিত সুত্র জানিয়েছে এই অভিযানে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যটকদের বান্দরবনে প্রবেশ বন্ধ ঘোষানা করা হয়েছে।
দেশীয় পর্যটন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থান বান্দরবন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত চুড়া কেও ক্রাডং অবস্থিত রোমা উপজেলায়। এছাড়া বগালেক ও অবস্থিত একই উপজেলায়। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে আরেক পর্যটন আকর্ষন দেবতাখুম ।
সর্বশেষ গেল বছর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় বন্ধ হয়েছিল বান্ধরবনের এই দুই উপজেলা। তবে পাহাড়ি অঞ্ছলে শান্তি চুক্তির পর কখনো সৃষ্টি হয়নি এমন অস্থিরতা।
কোন সুনির্দিষ্ট সময় জানানো না হলে ও জানা গিয়েছে অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধই থাকবে বান্ধরবনের এই দুই উপজেলা।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

