আজকের খবর
আকাশচুম্বী দামে বাজারে আসছে বিএমডব্লিউর প্রথম ইলেকট্রিক স্কুটার
বিএমডব্লিউর গাড়ি মানেই বিরাট ব্যাপার। জার্মান ভিত্তিক এ গাড়ি নির্মান সংস্থার বিলাসবহুল পণ্য নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই।
এবার সে কৌতূহলকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিতে নিজেদের প্রথম ই-স্কুটার বাজারে নিয়ে এসেছে সংস্থাটি। যার নাম দেওয়া হয়েছে সি.ই ০৪।
এর আগে ২০১৭ সালে বিএমডব্লিউ সি.ই ০৪ এর প্রথম ঝলক দেখা গিয়েছিল। তবে তখনকার মডেলটি বৈদ্যুতিক ছিলোনা।
সম্প্রতি ভারতে লঞ্চ হয়েছে এ স্কুটারের বৈদ্যুতিক ভার্সন। একাধিক আধুনিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে নতুন মডেলটিতে।
মূলত শহরাঞ্চলের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে এটি। স্পোর্টি লুকে হাজির হয়েছে নতুন এই ই-স্কুটারটি।
আন্তর্জাতিক বাজারে দুটি কালার ভ্যারিয়েন্টে এসেছে এটি। একটি হল সাদার সঙ্গে ম্যাট ব্ল্যাক কম্বিনেশন। আর অন্যটি হলো ম্যাঙ্গালান গ্রে মেটালিক কালার, যেখানে কালো কিংবা কমলা রঙের সিটের সঙ্গে কমলা রঙের উইন্ডশিল্ড লাগানো রয়েছে।
ফিউচারিস্টিক ডিজাইন সমৃদ্ধ সি.ই ০৪ স্কুটারের রাইডিং রেঞ্জ ১২৯ কিলোমিটার। পাওয়া যাবে ইকো, রেইন এবং রোড- এই তিনটি রাইডিং মোড।
ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার ছুটতে পারবে এটি। এতে রয়েছে একটি ৩১ কিলোওয়াটের মোটর, যেটি সর্বোচ্চ ৪২ এইচপি শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম।
মাত্র ২.৬ সেকেন্ডে ০ থেকে ৫০ কিলোমিটার স্পিড তুলতে পারে এটি। সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, ফ্লোর বোর্ডের ভিতরে ব্যাটারি, যা খুব কমই দেখা যায়।
৮.৯ কিলোওয়াট আওয়ার লিথিয়াম আয়নের ব্যাটারি প্যাকটিকে একটি সাধারণ চার্জার দিয়ে চার্জ করতে সময় নেয় ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট।
আবার ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করলে মাত্র ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটেই সম্পূর্ণ চার্জ হয়ে যাবে।
সি.ই ০৪ এর সিট ক্যাপাসিটিও অনেক বড়। এর সামনে রয়েছে কম্প্যাক্ট অ্যাপ্রণ, লম্বা সাইড প্যানেল ও বেঞ্চের মতো সিটের পেছনে টেল সেকশন। এছাড়াও এই স্কুটারের দুই পাশ এবং সামনে যথেষ্ট স্টোরেজ স্পেস রয়েছে।
একটি এলইডি হেডল্যাম্প দেয়া হয়েছে স্কুটারটিতে। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ১০.২৫ ইঞ্চির টিএফটি ডিসপ্লে।
যার মাধ্যমে বিএমডব্লিউ মটোরড কানেক্টিভিটি, কিলেস রাইড, এবিএস, এএসসি, ইলেকট্রনিক রিভার্স এবং ভেন্টিলেটেড স্টোরেজ কম্পার্টমেন্ট ব্যবহার করা যাবে। সঙ্গে থাকবে মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য টাইপ সি চার্জিং পোর্ট।
এতে রয়েছে পার্মানেন্ট ম্যাগনেট মোটর, যা ব্যাটারি ও পেছনের চাকার মাঝের অংশে অবস্থিত। এটি রেট করা হয়েছে ১৯.৭২ পার আওয়ার পাওয়ারের জন্য।
স্কুটারটির ইলেকট্রিক মোটরের সর্বাধিক পাওয়ার আউটপুট ৪ হাজার ৯০০ আরপিএমে ৪১.৪ পার আওয়ার এবং পিক টর্ক আউটপুট ১৫০০ আরপিএমে ৬১ নিউটন মিটার।
এর সাসপেনশনের জন্য সামনের চাকায় ৩৫ মিমি টেলিস্কোপিক ফর্ক ও পিছনে এক পাশে থাকা সুইংআর্মের সঙ্গে প্রিলোড অ্যাডজাস্টেবল মনোশক অ্যাবজর্ভার দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও উচ্চ গতিতে চলাচল করার জন্য সামনে ও পিছনে উভয় দিকেই ১৫ ইঞ্চির চাকার সঙ্গে সামনের চাকায় ১২০ সেকশনের টায়ার ও পিছনেliর চাকায় ১৬০ সেকশনের টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে।
ব্রেকিং এর দায়িত্ব সামলাতে সামনের চাকায় ২৬৫ মিলিমিটার টুইন ডিস্ক থাকলেও পিছনে রয়েছে সিঙ্গেল ডিস্ক। তবে সেফটি ফিচার হিসাবে এবিএস রয়েছে এতে।
এরই মধ্যে গ্লোবাল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে সিই ০৪। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ইলেকট্রিক স্কুটারের দাম শুরু হচ্ছে ১১ হাজার ৭৯৫ মার্কিন ডলার থেকে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
তবে ভারতে এই স্কুটারটির দাম কত হতে পারে তা এখনো জানা যায়নি। একাধিক সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ভারতে বিএমডব্লিউ সি.ই ০৪ ই-স্কুটারের হাই-এন্ড মডেলটির দাম ১৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
দামের দিক থেকে বিচার করলে সি.ই ০৪ ই ভারতের সবচেয়ে দামী ই-স্কুটার হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
নতুন বছরে ভারতবর্ষের বাজারকেই পাখির চোখ করে এগোতে চাইছে বিএমডব্লিউ। ভারতের বাজারে এখনও বিক্রি হচ্ছে না স্কুটারটি। তবে শীঘ্রই ভারতেও এই স্কুটারের বিক্রি শুরু হবে বলে জানা গেছে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

