আজকের খবর


পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেলো ২০ বস্তা টাকা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেলো ২০ বস্তা টাকা

এযাবতকালের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে ২০ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে। 

শনিবার সকাল ৯ টা থেকে শুরু করে ২০০ জনের বেশি মানুষের এই টাকা গুনতে সময় লেগেছে সারাদিন।  

এরপর সন্ধ্যায় জানা গেছে, এবার সকল রেকর্ড ভেঙ্গে ৪ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে।  

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত দেশের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। মসজিদটিতে আটটি দানবাক্স রয়েছে।

যাতে টাকা পয়সা সহ- সোনা রূপা পর্যন্ত দান করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ঐতিহ্যবাহী এই  মসজিদের দানবাক্স কয়েক মাস পরপর খোলা হয়। 

শনিবার সর্বশেষ ৩ মাস ৬ দিন পর দানবাক্স খোলা হয়েছিলো।  ভোরে দানবাক্স খুলেই পাওয়া যায় ২০ বস্তা টাকা। তাতেই ধারণা করা হয় এবার টাকার অংকে রেকর্ড হতে যাচ্ছে। 

এরপর সারাদিন ধরে টাকা গোনায় নিয়োজিত ছিলেন ২০৬ জন মানুষ।  দিনভর গননার পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে টাকার পরিমান জানানো হয় ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকা।

গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম। 

বাক্সে ৪ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা ছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা এবং রুপা  পাওয়া গেছে। এসব ছাড়াও মসজিদে নিয়মিত হাস মুরগি গরু ছাগল সহ অনেক কিছু দান করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ।  

শনিবার দানবাক্স খোলা হয়েছে ৩ মাস ৬ দিন পর। এর আগে গত ১ অক্টোবর খোলা হয়েছিলো। তখন দানবাক্সে পাওয়া গিয়েছিলো মোট ১৫ বস্তা টাকা। 

গোনার পর যার পরিমান ছিলো ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা। সেবারের তুলনায়  প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা বেশি পাওয়া গেছে এবার। 

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক- এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী জানান, শনিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে মসজিদের দানবাক্স গুলো খোলা হয়। তখন টাকা পাওয়া যায় মোট ২০ বস্তা। এরপর মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গননার কাজ। 

দানবাক্স খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।  এরপর প্রশাসনের উপস্থিতি তে সারাদিন ধরে চলে গননার কাজ।

 এতে অংশ গ্রহন করেন  মাদ্রাসার ১১২ জন ছাত্র, ব্যাংকের ৫০ জন স্টাফ, মসজিদ কমিটির ৩৪ জন এবং  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ জন সদস্য।

এসব টাকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, দানবাক্সের টাকা থেকে পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্সের খরচ চালানোর পর বাকি টাকার অংশ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। 

সেখান থেকে অনুদান দেয়া হয় জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায়। এছাড়া অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তাও করা হয়ে থাকে।

তবে ভবিষ্যতে পাগলা মসজিদের টাকা থেকে সেখানে একটি মসজিদ, মাদ্রাসা সহ ছয়তলাবিশিষ্ট  দৃষ্টিনন্দন ইসলামি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। যা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হবে ১০০ কোটি টাকা থেকেও বেশি।

কিশোরগঞ্জের সদরে অবস্থিত দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পাগলা মসজিদ। কথিত আছে, এই মসজিদে খাস নিয়তে দান করলে মানুষের মনের আশা পূরণ হয়।  

এ কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে এসে দান করে থাকেন। শুধু টাকা পয়সাই নয়, স্বর্ণালংকার সহ গরু ছাগল হাঁস-মুরগি ইত্যাদি দান করা হয় ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে।



জনপ্রিয়