আজকের খবর


কেন নেপালের আকশে এত বেশি বিমান দুর্ঘটনা হয়?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার

কেন নেপালের আকশে এত বেশি বিমান দুর্ঘটনা হয়?

গেল রোববার নেপালের পোখারা বিমানবন্দরে ৭২ জন যাত্রী নিয়ে বিদ্ধস্ত হয়েছে একটি বিমান। ধারনা করা হচ্ছে সেই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন প্রায় সকল যাত্রী।

মারাত্নক এই দুর্ঘটনার ফলে প্রশ্ন উঠেছে নেপালের আকাশপথ ভ্রমণের জন্যে কতটা নিরাপদ। গত তিন দশকে দেশটির আকাশে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে প্রায় ৩০ টি বিমান। 

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা নেপালের আকাশকে উড়োজাহাজ চলাচলের জন্যে সবচেয়ে ঝুকিপুর্ন অঞ্ছল হিসেবে চিনহিত করেছে। 

হিমালয়কন্যা খ্যাত নেপাল আয়তনে বাংলাদেশের চেয়েও ছোট ,কিন্তু বিশ্বের সর্বোচ্চ ১৪ টি পর্বত শৃঙ্গের মধ্যে আটটি-ই অবস্থিত নেপালে। যার মধ্যে হিমালয়ও রয়েছে। 

দেশটির এমন জটিল ভৌগলিক অবস্থানের ফলে প্রতি মুহুর্তেই পরিবর্তিত হয় সেখানকার আবহাওয়া। আর এমন আবহাওয়া পরিবর্তনকে মুলত দায়ী করা হচ্ছে সেখানকার বিমান দুর্ঘটনার মুল কারন হিসেবে। 

এভিয়েশন সেফটি ডেটাবেজের তথ্য মতে গত ত্রিশ বছরে নেপালের আকাশে ঘটেছে ছোট বড় সাতাশটি দুর্ঘটনা। যার ফলে মারা গিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। 

দুর্ঘটনার এই সংখ্যাটা গত কয়েক বছরে অনেক বেশি বেড়েছে। তথ্য মতে শুধু গেল দশ বছরেই নেপালে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে ২০ টির বেশি বিমান। 

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা জানায় দেশটিতে দুর্ঘটনার একমাত্র কারন প্রকৃতি নয়। 

নেপালে ফ্লাইট পরিচালনাকারী কোম্পানি গুলো নতুন বিমান এবং অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছেনা। সেই সাথে সরকার ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়ম আরোপে খামখেয়ালী করছে।

প্রাতিষ্টানিক এইসব ব্যার্থতার কারনে ২০১০ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন শাস্তিস্বরূপ নেপাল ভিত্তিক সব বিমান অপারেটরদের তাদের আকশসীমায় নিষীদ্ধ করেছিল। 

নেপালিজ সরকারের ব্যার্থতায় এখনো অনেক এয়ারলাইন অপারেটর সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মুলত পাহাড়ে ঘেরা দেশ হওয়াy নেপালে ছোট বিমান চালানো সুবিধাজনক।

আবহাওয়াr পরিবর্তন হলে পাইলটরা  ছোট বিমান সহজেই কন্ট্রোল করে জরুরি অবতরন করতে পারেন। কিন্তু এই ধরনের বিমান কম লাভজনক হওয়াই এয়ার অপারেটররা এগুলোতে খুব বেশি আগ্রহী নয়। 

এছাড়া গেল বছর গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল নেপালের আকাশে চলা লোকাল বিমানগুলো খুব বেশি প্রযুক্তি সমৃদ্ধ নয়। 

মুলত পুরাতন যুগের বিমান দিয়ে আভ্যন্তরীন ফ্লাইট সার্ভিস দেওয়া হয় নেপালে। সেগুলোতে মাঝেমধ্যে সাধারন জিপিএস ও থাকেনা। তাই পাইলটেরা মাঝেমধ্যে নিজেদের লোকেশন ট্র্যাক করতে পারেননা। 

এছাড়া নেপাল সরকারের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন দশ হাজার ফুটের নিচে চলা বিমান গুলোকে আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার মত প্রযুক্তি তাদের কাছে নেই। 

গার্ডিয়ানের সেই প্রতিবেদনে নেপালের এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির সাথে ,সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন দেশটির পুরনো বিমানগুলোতে আধুনিক আবহাওয়া রাডার লাগালে দুর্ঘটনা কিছু অংশে কমতে পারে। 

তবে সাম্প্রতিককালে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক আরো বিভিন্ন সংস্থার হাত ধরে নেপাল তাদের আকাশপথে ঝুকির পরিমান অনেকাংশে হ্রাস করেছে।

নতুন বিমান ক্রয় এবং অবকাঠামোগত খাতে বিনিয়োগও বাড়ানোর চেষ্টা করছে তারা। তবে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে। 

উল্লেখ্য সাম্প্রতিককালে নেপালের আকাশে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বাংলাদেশেরও একটি বিমান। ২০১৮ সালে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়েছিল কাঠমান্ডূর উদ্দেশ্যে। 

অবতরনকালে কাঠমান্ডূর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিদ্ধস্ত হয় বিমানটি। সেই ঘটনায় যাত্রী এবং ক্রু সহ প্রায় ৫১ জন মারা গিয়েছিলেন ।



জনপ্রিয়