আজকের খবর


দেড় কোটি টাকায় কবর ভাড়া দেয়া হচ্ছে ঢাকাতে, মেয়াদ ২৫ বছর!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার

দেড় কোটি টাকায় কবর ভাড়া দেয়া হচ্ছে ঢাকাতে, মেয়াদ ২৫ বছর!

৮ ফিট বাই ৪ ফিটের একটি কবরের দাম দেড় কোটি টাকা। তবুও সারাজীবনের জন্য নয়, মাত্র ২৫ বছর পর, একই কবরে জায়গা হবে অন্য কারো।

আমেরিকা কিংবা ইউরোপের কোন দেশের চিত্র নয় এটি, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেই চালু হয়েছে এমন নিয়ম। আপনার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনটিই সত্য।

মৃত্যুর পর ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মাত্র সাড়ে ৩ হাত জায়গায় মাটি দেয়া হয়। কবরস্থানই হারিয়ে যাওয়া মানুষটির স্মৃতি ধরে রাখে বছরের পর বছর।

তবে স্মৃতি ধরে রাখার শেষ অবলম্বনটুকু দিন দিন আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে ঢাকাবাসীর জন্য। কার্যকর হওয়া নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ২৫ বছর একটি কবর সংরক্ষনের জন্য, গুনতে হবে দেড় কোটি টাকা। 

মৃত ব্যাক্তির জন্য, এত বেশি পরিমান অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্য কম মানুষেরই আছে। সেক্ষেত্রে  কম মূল্যের দ্বিতীয় আরেকটি অপশন রেখেছে নগর কর্তৃপক্ষ। 

কেউ নিজের আপনজনের কবর ১৫ বছর সংরক্ষন করতে চাইলে, তাকে ফি হিসেবে পরিশোধ করতে হবে ১ কোটি টাকা। খেটে খাওয়া সাধারণ নাগরিকদের জন্য যা অসম্ভব ব্যাপার। 

জনবহুল ঢাকা শহরে, দুই সিটি কর্পোরেশনের অধীনে মাত্র ৯টি কবরস্থান রয়েছে। এরমধ্যে উত্তরে ৬টি থাকলেও দক্ষিনে আছে তার অর্ধেক। 

জায়গা স্বল্পতার কারনে নির্দিষ্ট সময় পর পর, একটি কবরের উপরেই আরেকজনকে দাফন করা হয়। এমনকি, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি কবর চার-পাঁচ মাস ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাই কবর সংরক্ষনে নাগরিকদের নিরুৎসাহিত করতেই, এক ধাপে সংরক্ষন ফি কয়েক গুন বাড়িয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন।

উত্তরা ১৪ নাম্বার সেক্টর ও বনানী কবরস্থানে, আগে ১৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণ করতে ২৪ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য লাগত ৪৫ লাখ টাকা।

কার্যকর হওয়া নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বনানী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে লাগবে ১ কোটি টাকা। আর ২৫ বছরের জন্য গুনতে হবে দেড় কোটি টাকা।

উত্তরা ১৪ নাম্বার সেক্টরের জন্য এই পরিমান যথাক্রমে ৩০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা। একই রকম ভাবে বেড়েছ,  ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীনে থাকা বাকি চারটি কবরস্থানের ফি।

উত্তরা ৪ ও ১২ নাম্বার সেক্টর, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এবং রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে, ১৫ ও ২৫ বছরের জন্য এতদিন ফি ছিল যথাক্রমে ৬ লাখ এবং ১১ লাখ টাকা।

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর, এই পরিমান এক লাফে কয়েকগুন বেড়ে গেছে। এখন এসব জায়গায় প্রিয়জনের স্মৃতি ধরে রাখতে চাইলে, ব্যয় করতে হবে ১০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত।

তবে কেউ চাইলে, শুধুমাত্র অর্থ খরচ করে কবর সংরক্ষন করতে পারবে না। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিরা এই সুযোগ পাবেন। এছাড়া সাধারণ নাগরিকদের জন্য, উচ্চ পর্যায়ের কারো সুপারিশ থাকলে, তবেই কেবল স্মৃতি ধরে রাখার ব্যবস্থা হবে।

এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে জায়গার পরিমান। সংরক্ষিত প্রতিটি কবরের জন্য বরাদ্দ থাকবে মাত্র ৮ ফিট বাই ৪ ফিট অংশ। কোনভাবেই এর অতিরিক্ত জায়গা দখল করা যাবে না।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে সক্ষমতার চেয়ে বেশি হারে কবর সংরক্ষন করা হচ্ছে। নতুন নতুন আবেদন আসছে প্রতিনিয়ত। 

এখন অর্থের পরিমান বাড়ানোর ফলে, আবেদন অনেকটাই কমে যাবে বলে আশাবাদী তারা। অথচ গত শতাব্দীর শেষের দিকেও, দৃশ্যপট ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। 

১৯৯৬ সালে মাত্র ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা খরচ করে, বনানী এবং উত্তরা ৪ নাম্বার সেক্টরে স্থায়ীভাবে কবর দেয়া যেত। অন্যান্য জায়গার জন্য ফি ছিল ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে।

কিন্তু ২০০৫ -২০০৭ সালে, স্থায়ীভাবে কবর দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে চালু করা হয়, অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষন করে রাখার ব্যবস্থা। যা এখনো চলমান রয়েছে।

অবশ্য নগর পরিকল্পনাবিদরা বরাবরই প্রিজার্ভেশন সিস্টেমের বিরোধিতা করে আসছেন। ফাকা জায়গা দেখে, নতুন কবরস্থান গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা।  





জনপ্রিয়