আজকের খবর
রমজান মাসে ২ টাকা মূল্যে ঔষধ দিবেন ফারাজ করিম চৌধুরী।
নানান অনিয়মের বিপরীতে অবিরাম ছুটে চলা এক স্বপ্নবাজ তরুণ ফারাজ করিম চৌধুরী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চস্বরে আওয়াজ তোলেন তিনি।
একের পর এক ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে গোটা দেশেজুড়ে অর্জন করেছেন তুমুল জনপ্রিয়তা।
মূলত মানবিক কাজে নিজেকে বিলিয়ে দেন এই তরুণ। সামনেই আসছে রমজান মাস। রোজা উপলক্ষে তিনি চিন্তা করছেন কি করলে মানুষের উপকার হবে।
এরইমধ্যে তিনি ভেবেছেন,, সরকারি, বেসরকারি যেকোনো হাসপাতালের সামনে একটি করে ঔষধের ক্যাম্প বসাতে। যেখানে প্রেসক্রিপশন দেখালে দুই টাকার বদৌলতে ঔষধ দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
অনেকে বিনা মূল্যে দিলে, সাহায্য নিতে দ্বিধা বোধ করেন। তাই নামে মাত্র টাকা নিয়ে অসহায় মানুষদের ঔষধ সরবরাহ করতে চান ফারাজ করিম চৌধুরী।
করোনাকালের রমজানেও প্রতিদিন ২ হাজার চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীর সেহেরি করিয়েছে তিনি। তাছাড়া মাস্ক বিতরণ, দাফন কাফনসহ নানা উদ্যোগে ব্যস্ত থেকেছেন ফারাজ।
গত ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বানভাসি মানুষের জন্য ১০০টি গরু কোরবানি দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও দিয়েছেন নগদ চার লাখ টাকা।
কখনো তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। আবার কখনো অগ্নিদুর্গতদের পাশে দাঁড়ান।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত তুরস্ক ও সিরিয়ার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
ছুটে গেছেন সুদূর তুরস্কে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত তুরস্কে অবস্থান করেন তিনি। সেখানে তার মানবিক কাজে দেশের অসংখ্য মানুষ সাড়া দিয়েছেন।
দেশ থেকে পাঠানো হয় বিভিন্ন ধরনের শীতবস্ত্র, কাফনের কাপড়সহ নানা ধরনের পণ্য। সব মিলিয়ে ৩ কোটি টাকার সামগ্রী পাঠানো হয় তুরস্কে। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ফারাজ করিম চৌধুরী।
ইতোপূর্বে মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ফিলিস্তিনের নিরীহ মুসলমানদের পাশে।
দেশের যেখানেই মানবিক বিপর্যয় ঘটে, সেখানেই আশার আলো হয়ে দেখা মিলে মানবিক তরুণ ফারাজ করিম চৌধুরীর।
এখানেই শেষ নয়, তিনি কখনো কখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনীতি, সমাজের নানা অবিচার, অসঙ্গতি তুলে ধরেন ফেসবুক লাইভ কিংবা ভিডিও আপলোড দিয়ে।
কখনো সশরীরে গিয়ে অন্যায়-অবিচারের সমাধান দেন। অনেক সময় রাগী ফারাজকে দেখা যায়। যে কারণে, প্রশ্ন উঠেছে ফারাজ করিম চৌধুরী কি অনেক রাগী?
তবে রাগী কিনা এ বিষয়ে নিজেকে বিবেচনা করতে চান না তিনি। তার উচ্চস্বরের আওয়াজ তার একার আওয়াজ নয়।
অনেক অসহায় মানুষের জমে থাকা আর্তনাদ যা তারা চিৎকার করে প্রকাশ করতে পারে নি। সেই সব বিষয় যখন বাতাসে ভেসে আসে ফারাজের কানে তখন তার গলা দিয়ে বের হয়।
বয়স ২৯ পেরোয়নি এখনো। এই বয়সেই মানবিক গুণাবলী নিয়ে সবার নজর কাড়ছেন তিনি।
ছোটবেলা থেকেই তিনি মানবিক ছিলেন। একদিন নিজের অসংখ্য নতুন কাপড় বাসার ওয়ারড্রবে পড়ে থাকতে দেখে সেসব কাপড় নিয়ে ছিন্নমূল শিশুদের মাঝে বিতরণ করে আসেন। এভাবেই ছোট থেকে দারিদ্র্যের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্ম হয় তার।
পারিবারিক ভাবে উচ্চ শিক্ষিত, ধনী পরিবারের সন্তান তিনি। চার চারবারের নির্বাচিত সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী তার বাবা।
তবে বাবার সুনাম ধারণ করে নয়, নিজর কর্মে-পরিচিতিতে এগিয়ে যেতে চান ফারাজ।
২০১৩ সালে কিংস কলেজ লন্ডন থেকে আন্ডার গ্রাজুয়েট শেষ করে তিনি। ২০১৫ সালে পাড়ি জমান লন্ডনে। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশে আসেন তিনি।
বাইরের দেশ থেকে উচ্চডিগ্রি সম্পন্ন করার পর দেশের বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চপর্যায়ে চাকরির সুযোগ থাকলেও সে পথে পা বাড়াননি তিনি। নিজেকে মানবিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত করেন। পরিচিতি পান মেহনতী মানুষের কাছে।
বর্তমানে ক্লিন ইমেজের তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা পেলেও নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ফারাজ।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

