আজকের খবর
কে এই স্বর্ণ ব্যাবসায়ী আরাভ খান?
কদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুবাইয়ের হিন্দ প্লাজায় আরাভ জুয়েলার্স এর উদ্ভোধন উপলক্ষে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে।
আরাভ খান নামের ওই বাংলাদেশি প্রবাসী জুয়েলার্সটির মালিক। যিনি কি না ৬০ কেজি ওজনের স্বর্ণ দিয়ে “হুমা পাখির” লোগো বানিয়েছেন, যার বাজার মূল্য ৪৫ কোটি টাকার উপরে।
কে এই আরাভ খান? কিভাবে হলেন এতো সম্পত্তির মালিক? কিভাবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের মতো public figure কে দিয়ে তিনি দুবাইয়ে স্বর্ণের দোকান উদ্ভোধন করালেন?
এই প্রশ্নে গুলোর উত্তর খোঁজ করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
আরাভ খান, যেটি কি না তাঁর আসল নাম নয়। তাঁর আসল নাম হচ্ছে রবিউল ইসলাম আপন। তিনি বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার আশুতিয়া গ্রামের দরিদ্র ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মতিউর রহমান মোল্লা পেশায় একজন জেলে ছিলেন। বাবার মতো এই রবিউলও মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
সপ্তম শ্রেণির পর আর পড়ালেখার ধারে কাছেও যান নি এই আরাভ খান, বরং জড়িয়েছেন নানা অপরাধের সাথে। চার বছর আগে ২০১৮ সালে ঢাকায় পুলিশ ইনস্পেক্টর মামুন ইমরান খানকে হত্যার অভিযোগ উঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
সেই সাথে ইমরানকে হত্যা করে মৃতদেহ পুড়িয়ে গাজীপুরে এক জঙ্গলের ভেতর ফেলে দিয়ে লাশ গুম করার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, এখনো পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ১২ টি ওয়ারেন্ট আছে। ২০১৮ সালে তাঁকে ধরতে পুলিশ হানা দিলে সে আবু ইউসুফ লিমন নামের একজনকে নকল রবিউল সাজিয়ে গ্রেফতার করিয়ে ভারত পালিয়ে যায়।
অবৈধভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে তিনি গা-ঢাকা দেন পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অধীন রাজপুর-সোনারপুর পৌরসভার ফরতাবাদ এলাকায়।
আসল পরিচয় গোপন করে এক এক সময় এক এক নাম ব্যাবহার করে পাঁচ-ছয় বছর ছিলেন ফরতাবাদ এলাকার উদয় সংঘ ক্লাবের পাশের একটি বস্তিতে।
সেখানে জাকির খান নামক এক ব্যাক্তির ভাঙাচোরা বাসার দোতলায় মাসিক ২ হাজার রুপিতে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন আরাভ ও তার স্ত্রী সাজেমা নাসরিন।
এরপর বাড়িওয়ালা জাকির খান ও তার স্ত্রী রেহানা বিবি খানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন আরাভ। সেখানেও তাঁদের সাথে প্রতারণা করেন তিনি। কৌশলে তাঁদের আধার কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করে নিজেকে জাকির ও রেহানার সন্তান পরিচয় দিয়ে ভুয়া ভারতীয় পাসপোর্ট বানান ।
আরাভ সেখানে নিজেকে একজন ফিল্ম আর্টিস্ট বলে পরিচয় দিতেন। এমনকি তার বাড়িওয়ালা জাকির খানও আরাভকে আর্টিস্ট বলেই জানতেন।
পুলিশ যখন বুঝতে পারে আরাভের বদলে তাঁরা আবু ইউসুফকে ধরেছে ততক্ষণে সেই ভূয়া পাসপোর্ট দিয়ে দুবাই পালিয়ে যান পুলিশ কর্মকর্তা খুনের আসামি আরাভ। এরপর থেকে গত কয়েক বছর ধরে দুবাইতেই অবস্থান করছেন আরাভ খান। তার ভারতীয় পাসপোর্ট নম্বর EU4985389 । ওই পাসপোর্টেই পশ্চিমবঙ্গের নরেন্দ্রপুরের ঠিকানা দেওয়া।
দুবাইয়ে পালিয়ে আসার পর তিনি স্বর্নের ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়াও তাঁর কলকাতায় রেস্টুরেন্ট ও হাসপাতাল ব্যবসা আছে। এভাবেই ধীরে ধীরে অঢেল টাকার মালিক হয়ে যান তিনি।
দুবাইয়ে বুর্জ খলিফার ৬৫ তলায় একটি ফ্ল্যাট কিনেন তিনি যার নম্বর ৬৫১০। এছাড়াও তিনি আরো ৪/৫ টি ফ্ল্যাটের মালিক। সেই সাথে তাঁর মালিকানায় রয়েছে সুইমিংপুল সহ একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। তাঁর দখলে রয়েছে বেশ কয়েকটি দামি গাড়িও।
আরাভ জুয়েলার্সের উদ্ভোধনের সময় ৬০ কেজি ওজনের স্বর্নের এক লোগোও বানিয়েছেন তিনি।
তাঁর এতোই টাকা যে তিনি টাকা দিয়ে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টও কিনেছেন। ভারত ছাড়াও তাঁর রয়েছে কানাডিয়ান পাসপোর্ট, সেই সাথে রয়েছে আমেরিকান গ্রিন কার্ডও।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এতো অল্প সময়ে এতো সম্পত্তির মালিক হলেন কি করে? তাঁর যা সম্পত্তির পরিমাণ,বৈধ পথে তা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

