আমেরিকা


ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের জরুরি বৈঠক, সিদ্ধান্ত ছাড়াই সমাপ্ত


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:৩০ মে ২০২৬, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের জরুরি বৈঠক, সিদ্ধান্ত ছাড়াই সমাপ্ত

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে জরুরি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি।

 

শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের প্রতি কয়েকটি শর্ত পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

ট্রাম্প বলেন, ইরানকে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং সেখানে পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইন অপসারণ করতে হবে।

 

তিনি আরও জানান, এসব শর্ত পূরণ হলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারে প্রস্তুত। একই সঙ্গে মাটির নিচে সংরক্ষিত ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাবও দেন, যাতে তা অপসারণ ও ধ্বংস করা যায়।

 

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এক সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মিশ্রণ রয়েছে। তাদের দাবি, আলোচনায় থাকা সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস বা হস্তান্তরের কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

এই বৈঠকের এক দিন আগে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দুই দেশের আলোচকেরা ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া প্রস্তুত করেছেন। প্রস্তাবিত খসড়ার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের আগে পর্যন্ত ট্রাম্প ওই খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। পরে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।

 

এদিকে আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যেই সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা ডায়ালগে বক্তব্য দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্র মজুতও পর্যাপ্ত।

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

 

 

 


সম্পর্কিত

ইরানডোনাল্ড ট্রাম্প

জনপ্রিয়


আমেরিকা থেকে আরও পড়ুন

চুক্তি না হলে ইরানে আবার হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। দুই দেশের আলোচকেরা যখন মতপার্থক্য কমিয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথে এগোতে চেষ্টা করছেন, তখন ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কঠোর বার্তা এলো।

ট্রাম্পের আমলে নিউইয়র্কে অভিবাসন গ্রেপ্তার বেড়েছে ৭১ শতাংশ

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের হার ৭১ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটির প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ।

গ্রিন কার্ডে নতুন নিয়ম, আবেদন করতে নিজ দেশে ফিরতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে আগ্রহী বিদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে মার্কিন প্রশাসন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আর গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যাবে না। আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।