বাংলাদেশের উন্নয়ন
এক সড়কে বদলে যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় থানচি উপজেলায় সড়ক নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
ইতিমধ্যে সড়কটির প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। বাকি অংশটুকুও সম্পন্ন করা হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে। এরপরই সেটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
এর মাধ্যমেই বদলে যাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের চিত্র।
সীমান্ত এলাকার কৃষি পণ্য দেশের মূল ভূখণ্ডে সহজেই পরিবহন করা যাবে। পাশাপাশি পার্বত্য জেলাগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপন হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।
এছাড়া দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য পর্যটন ব্যবস্থার উন্নতি হবে। শিল্প-কারখানা স্থাপনের সুযোগ বৃদ্ধিসহ দুর্গম এলাকাগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভূমিকা রাখবে।
পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে ৩১৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মান করা হলেও পুরো প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার। যা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য জেলায় চলমান।
সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। দুটি পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে পুরো পরিকল্পনা।
প্রথম ধাপে ৭টি সেগমেন্টের মাধ্যমে তৈরা করা হচ্ছে ৩১৭ কিলোমিটার সড়ক। বাকি অংশ বাস্তবায়িত হবে ২য় পর্যায়ে।
এরমধ্যে শুরুতে রুমা, থানচি ও আলীকদম উপজেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে নির্মিত হচ্ছে ৯২ কিলোমিটার।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কোর। তারা আশা করছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই লক্ষ্য পূরন করা সম্ভব হবে।
গত ২১ আগস্ট সকালে সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সরেজমিন সড়ক এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সেনা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
সীমান্ত সড়ক নিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, "কাজ শেষ হলে পাশের দেশ থেকে অবৈধপথে পণ্য আসা বন্ধ হবে। পাশাপাশি তাদের সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, সীমান্ত এলাকার কৃষিপণ্য মূল ভূখণ্ডে এনে বিক্রিও বণ্টন সহজ হবে। সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত সমৃদ্ধ হবে এই রাস্তার মাধ্যমে।"
এছাড়াও সেদিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন আর্মি ক্যাম্প এবং কক্সবাজার জেলায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ঘুরে দেখেন সেনা প্রধান।
নির্মিত হওয়া সংযোগ সড়ক নিয়ে নিজেদের খুশির কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন,
"সেনাবাহিনী সড়ক নির্মাণ করায় আমাদের সবচেয়ে বেশি সুবিধা হবে। আগে আমরা কৃষিপণ্য ঠিকমতো বাজারজাত করতে পারতাম না। এখন কোনো সমস্যা হবে না।"
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলা। এখানকার পাহাড় আর সবুজের আকর্ষনে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য।
তবে নানারকম সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অনেকটা অধরাই থেকে গেছে এই অঞ্চল।
যদিও গত এক দশকে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাত ধরে সেখানে গড়ে উঠেছে সাজেক ভ্যালি, নীলগিরী ও নীলাচলের মতো পর্যটন এলাকা।
এগুলো দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবছরই পর্যটকের ঢল নামে। সীমান্ত সড়কের নির্মান কাজ শেষ হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে দর্শনার্থীদের আগমন আরো অনেক বেড়ে যাবে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

