বাংলাদেশের উন্নয়ন
বান্দরবানে তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন টানেল
দেশের পর্যটন নগরী বান্দরবানে নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন টানেল। যেটি চালু হলে স্থানীয় দের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি বৃদ্ধি পাবে শহরটির সৌন্দর্য।
বান্দরবান জেলা শহরের বর্তমান বাস স্টেশন থেকে কেন্দ্রীয় টার্মিনাল যাওয়ার পথে পাহাড়ি সড়কে নির্মিত হচ্ছে এই টানেল। যা প্রায় সাড়ে চারশো ফুট লম্বা।
নির্মাণাধীন এ টানেলটি বর্তমান বাস স্টেশনের সাথে সংযুক্ত করবে কেন্দ্রীয় টার্মিনাল সড়ক। এটির ভেতর দিয়ে চলাচল করবে সব ধরনের গাড়ি। এছাড়া জনসাধারণের চলাচলের জন্য ফুটপাতের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে টানেলের ভেতর।
বর্তমানে প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকা এই টানেলের কাজ শেষ হলে বান্দরবান শহরের সৌন্দর্য বেড়ে যাবে আরও একধাপ, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
এই টানেল নির্মানের প্রয়োজনীয়তা আগেই দেখা গিয়েছিলো। শহরের বর্তমান বাসস্টেশনে কম জায়গা থাকার কারণে পার্শবর্তী হাফেজঘোনা এলাকায় বিশাল কেন্দ্রীয় টার্মিনাল গড়ে তোলা হয়।
কিন্তু টার্মিনালে যাওয়ার জন্য যে সড়ক রয়েছে সেটির দুই পাশেই পাহাড়ের অবস্থান। এ কারণে টার্মিনাল নির্মিত হলেও এর সুফল পাওয়া যাচ্ছিলো না পুরোপুরি।
বর্ষা মৌসুমে কিছুটা বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসের কারণে বন্ধ হয়ে যেতো রাস্তাটি। এ ছাড়া সড়কের দুইপাশে পাহাড় থাকায় যানবাহন এবং পথচারীদের চলাচল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।
এসব কারণে কেন্দ্রীয় টার্মিনাল নির্মাণের অনেক বছর পরেও ব্যবহার করা হচ্ছিলো না সেটি।
অপরদিকে বর্তমান স্টেশন খুবই ছোট হওয়ার কারণে সেখানে যানজটের ভোগান্তি লেগে থাকে সব সময়। বান্দরবন শহরের এসব সমস্যা সমাধানের দাবি ছিলো স্থানীয়দের।
এরই প্রেক্ষিতে যানজট সমস্যা নিরসন এবং কেন্দ্রীয় টার্মিনাল চালু করার জন্য পাহাড়ি সড়কটিতে উদ্যোগ নেওয়া হয় টানেল নির্মানের।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে এই টানেলের।
চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে এটি চালু হবার কথা ছিলো। তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী আগামী জুনে কাজ শেষ এটির।
সাড়ে চারশো ফুট দীর্ঘ এ টানেল চালু হলে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি বান্দরবান শহর হবে যানজট মুক্ত। এমনটাই আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান শহরের এই টানেলটির ভিতরে নির্মান করা হচ্ছে ২৪ ফুট চওড়া আধুনিক মানের সড়ক। এর পাশাপাশি তিন ফুট চওড়া ফুটপাত রাখা হচ্ছে ভিতরে।
টানেলটি চালু হলে পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধের আশঙ্কা কমে আসবে অনেকটাই। অপরদিকে এই টানেল তৈরির ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে সহজ হবে বান্দরবানের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এটি চালু হবার পর পর্যটকরা সদর এলাকায় না ঢুকেই রুমা, থানচি, চিম্বুকসহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে পারবেন।
বান্দারবান শহরের এই টানেলের জন্য প্রথম দফায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে।
তখন টানেলটি ৩০০ ফুট দীর্ঘ হবার কথা ছিলো। পরে প্রকল্প সংশোধন করে বাড়ানো হয় দৈর্ঘ। একই সাথে নির্মান খরচ বৃদ্ধি পায় আরো ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
বর্তমানে টানেলটির কাজের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। আগামী বছর জুন মাসের মধ্যে বাকি অংশের কাজ ও শেষ হবে বলে প্রত্যাশা করছে কর্তৃপক্ষ।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

