বাংলাদেশের উন্নয়ন
পরিকল্পনায় ভুল, উদ্বোধনের পরই ভাঙতে হবে হাজার কোটি টাকার সড়ক!
উদ্বোধনের পরপরই ভেঙে ফেলতে হচ্ছে, হাজার কোটি টাকার নতুন সড়ক! নেপথ্যে রাজউকের ভুল পরিকল্পনা!
আট লেনের দৃষ্টিনন্দন পূর্বাচল সড়কের নির্মাণ কাজ, প্রায় শেষের পথে।ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী যাতে উদ্বোধন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে অবশিষ্ট কাজ গুলো সম্পন্ন হচ্ছে জোরেশোরে।
কিন্তু উদ্বোধনের পরপরই, দৃষ্টিনন্দন এই সড়কটিই কিনা, ভেঙে ফেলতে হবে! কারণ, সড়কটির মাঝ বরাবর, বসানো হবে মেট্রোরেলের স্প্যান। সড়কটি নির্মাণে রাজউকের ব্যয় ধরা হয়েছে,১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। প্রকল্প শেষে যা বেড়ে, পনেরোশো কোটি টাকা হতে পারে।দৃষ্টিনন্দন এই সড়কে রয়েছে- ১২ টি সেতু, ৬টি আন্ডারপাস, ৫টি গ্রেড ইন্টারসেকশন এবং ৬টি ফুটওভার ব্রিজ।সবগুলো আন্ডারপাসের নিচে তৈরি করা হয়েছে - কংক্রিটের জলাধার, ট্যাঙ্ক ও দুটি পাম্পিং স্টেশন। এদিকে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল, মাটির নিচ দিয়ে যাবে।
তবে পীতলগঞ্জ থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত, এ মেট্রো লাইনটি হবে এলিভেটেড; ৩০০ ফুট সড়কের ওপর দিয়ে যাবে এ রেললাইন।তাই রাস্তার মাঝ বরাবর মেট্রোরেলের স্প্যান বসালে, ভাঙা পড়বে নতুন সড়ক! যেগুলো বানাতে ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা। সেই সাথে মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মূল সড়কটিও। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজউকের ভুল পরিকল্পনার কারনেই,কোটি কোটি টাকার খেসারত দিতে হবে।২০১৩ সালে একনেকে পাস হয়, ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আট লেনের সড়কটি।
কিন্তু অর্থ স্বল্পতার কারণে, পরবর্তীতে আট লেনের পরিবর্তে, চার লেনের সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যার ব্যয় ধরা হয় ৩০০ কোটি টাকা।
প্রকল্প শেষে যা বেড়ে দাঁড়ায়, ৪২৪ কোটি টাকায়।নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরপরই ,পরিকল্পনার পরিবর্তন করে- রাস্তা সম্প্রসারণ, সার্ভিস রোড, সড়কের দুই পাশে খাল খননসহ, '৩০০ ফুট সড়ক প্রশস্তকরন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। শুরুতে, ৫ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ের পর, নতুন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়, ১০ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা।
তৈরির সময় সড়কটির মাঝে, ৪ মিটার বিভাজক রাখা হয়েছিলো, মেট্রোরেলের স্প্যান বসানোর জন্য। কিন্তু স্প্যান বসানোর কাজে, ব্যবহারিত ভারী যন্ত্রপাতিগুলো জন্য, আরো বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়। ফলে মেট্রোরেলের স্প্যান বসানোর সময় ,৬০ ফুট রাস্তাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই সাথে আন্ডারপাস এবং গ্রেড ইন্টারসেকশনের জায়গায়, কিভাবে স্প্যান বসানো হবে সেটাও অনিশ্চিত। রাজউকের তথ্য মতে, একেকটি আন্ডারপাস, গ্রেড ইন্টারসেকশন তৈরিতে ব্যয় হয়েছে, ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা।
কংক্রিটের তৈরি এসব স্থাপনা কেটে, কিভাবে স্প্যান বসানো হবে তা কেউই জানে না। কিভাবে পাইলিংয়ের কাজ করা হবে তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। প্রকল্পের কনসালট্যান্ট, বুয়েটের অধ্যাপক, ড. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান-পূর্বাচল সড়কের গ্রেড ইন্টারসেকশন গুলোর দৈর্ঘ্য, চার-পাঁচশো মিটার।
অন্যদিকে মেট্রোরেলের স্প্যান গুলোর দূরত্ব ১৫০ মিটার, যার কারণে ইন্টানসেকশন গুলো ভাঙা পড়বেই।অন্যদিকে, সেগুলো অক্ষত রেখে কিভাবে স্প্যান বসাবে, সেটাও তার কাছে বোধগাম্য নয়।ফলে মেট্রোরেলের কাজ শেষে, সেগুলো পুনরায় নতুন করে বানানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।ইতোমধ্যে পূর্বাচল থেকে জোয়ারসাহারা অংশ, মাটির নিচ দিয়ে নেয়ার জন্য, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করা হলেও, সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায়, নকশা পরিবর্তনের আর কোনো সুযোগ নেই। সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতা না থাকায়, এমন সমস্যা হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
একটি প্রকল্পের সাথে অন্য প্রকল্পের সাংঘর্ষিক অবস্থার ফলে, একদিকে যেমন সরকারী অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি জনগনও কোনো সুফল পাচ্ছে না।
দরশক ,প্রতিষ্ঠানের ভুলের কারণে, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের এমন অপচয়কে, আপনারা কীভাবে দেখছেন?
আট লেনের দৃষ্টিনন্দন পূর্বাচল সড়কের নির্মাণ কাজ, প্রায় শেষের পথে।ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী যাতে উদ্বোধন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে অবশিষ্ট কাজ গুলো সম্পন্ন হচ্ছে জোরেশোরে।
কিন্তু উদ্বোধনের পরপরই, দৃষ্টিনন্দন এই সড়কটিই কিনা, ভেঙে ফেলতে হবে! কারণ, সড়কটির মাঝ বরাবর, বসানো হবে মেট্রোরেলের স্প্যান। সড়কটি নির্মাণে রাজউকের ব্যয় ধরা হয়েছে,১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। প্রকল্প শেষে যা বেড়ে, পনেরোশো কোটি টাকা হতে পারে।দৃষ্টিনন্দন এই সড়কে রয়েছে- ১২ টি সেতু, ৬টি আন্ডারপাস, ৫টি গ্রেড ইন্টারসেকশন এবং ৬টি ফুটওভার ব্রিজ।সবগুলো আন্ডারপাসের নিচে তৈরি করা হয়েছে - কংক্রিটের জলাধার, ট্যাঙ্ক ও দুটি পাম্পিং স্টেশন। এদিকে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল, মাটির নিচ দিয়ে যাবে।
তবে পীতলগঞ্জ থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত, এ মেট্রো লাইনটি হবে এলিভেটেড; ৩০০ ফুট সড়কের ওপর দিয়ে যাবে এ রেললাইন।তাই রাস্তার মাঝ বরাবর মেট্রোরেলের স্প্যান বসালে, ভাঙা পড়বে নতুন সড়ক! যেগুলো বানাতে ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা। সেই সাথে মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মূল সড়কটিও। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজউকের ভুল পরিকল্পনার কারনেই,কোটি কোটি টাকার খেসারত দিতে হবে।২০১৩ সালে একনেকে পাস হয়, ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আট লেনের সড়কটি।
কিন্তু অর্থ স্বল্পতার কারণে, পরবর্তীতে আট লেনের পরিবর্তে, চার লেনের সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যার ব্যয় ধরা হয় ৩০০ কোটি টাকা।
প্রকল্প শেষে যা বেড়ে দাঁড়ায়, ৪২৪ কোটি টাকায়।নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরপরই ,পরিকল্পনার পরিবর্তন করে- রাস্তা সম্প্রসারণ, সার্ভিস রোড, সড়কের দুই পাশে খাল খননসহ, '৩০০ ফুট সড়ক প্রশস্তকরন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। শুরুতে, ৫ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ের পর, নতুন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়, ১০ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা।
তৈরির সময় সড়কটির মাঝে, ৪ মিটার বিভাজক রাখা হয়েছিলো, মেট্রোরেলের স্প্যান বসানোর জন্য। কিন্তু স্প্যান বসানোর কাজে, ব্যবহারিত ভারী যন্ত্রপাতিগুলো জন্য, আরো বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়। ফলে মেট্রোরেলের স্প্যান বসানোর সময় ,৬০ ফুট রাস্তাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই সাথে আন্ডারপাস এবং গ্রেড ইন্টারসেকশনের জায়গায়, কিভাবে স্প্যান বসানো হবে সেটাও অনিশ্চিত। রাজউকের তথ্য মতে, একেকটি আন্ডারপাস, গ্রেড ইন্টারসেকশন তৈরিতে ব্যয় হয়েছে, ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা।
কংক্রিটের তৈরি এসব স্থাপনা কেটে, কিভাবে স্প্যান বসানো হবে তা কেউই জানে না। কিভাবে পাইলিংয়ের কাজ করা হবে তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। প্রকল্পের কনসালট্যান্ট, বুয়েটের অধ্যাপক, ড. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান-পূর্বাচল সড়কের গ্রেড ইন্টারসেকশন গুলোর দৈর্ঘ্য, চার-পাঁচশো মিটার।
অন্যদিকে মেট্রোরেলের স্প্যান গুলোর দূরত্ব ১৫০ মিটার, যার কারণে ইন্টানসেকশন গুলো ভাঙা পড়বেই।অন্যদিকে, সেগুলো অক্ষত রেখে কিভাবে স্প্যান বসাবে, সেটাও তার কাছে বোধগাম্য নয়।ফলে মেট্রোরেলের কাজ শেষে, সেগুলো পুনরায় নতুন করে বানানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।ইতোমধ্যে পূর্বাচল থেকে জোয়ারসাহারা অংশ, মাটির নিচ দিয়ে নেয়ার জন্য, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করা হলেও, সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায়, নকশা পরিবর্তনের আর কোনো সুযোগ নেই। সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতা না থাকায়, এমন সমস্যা হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
একটি প্রকল্পের সাথে অন্য প্রকল্পের সাংঘর্ষিক অবস্থার ফলে, একদিকে যেমন সরকারী অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি জনগনও কোনো সুফল পাচ্ছে না।
দরশক ,প্রতিষ্ঠানের ভুলের কারণে, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের এমন অপচয়কে, আপনারা কীভাবে দেখছেন?
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

