বাংলাদেশ


দেশে আর মাত্র ৭ বছরের গ্যাস মজুদ আছে


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৫ আগস্ট ২০২২, ০৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার

দেশে আর মাত্র ৭ বছরের গ্যাস মজুদ আছে

বর্তমানে বাংলাদেশের ২৭ টি গ্যাসক্ষেত্রে ৯ হাজার ৯০১ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে উৎপাদনশীল ২০ টি গ্যাস ক্ষেত্রে রয়েছে ৮ দশমিক ৭ টিসিএফ। 

বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলি বেশ পুরোনো, 
যার কারণে এখন পর্যন্ত আবিস্কৃত হওয়া কূপ গুলো থেকে ৭৫ শতাংশের বেশি গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব নয়। 

সেই হিসেবে ২৭ টি গ্যাসক্ষেত্রে থাকা ৯ দশমিক ৯ টিসিএফ গ্যাসের মধ্যে উত্তোলন করা যাবে মাত্র সাড়ে ৭ টিসিএফ গ্যাস। 

বার্ষিক চাহিদা বিবেচনায় এ মজুদ দিয়ে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করা যাবে সর্বোচ্চ সাড়ে সাত বছর পর্যন্ত।

২০১৬ সালে যেখানে দৈনিক ২ হাজার ৬৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যেত, সেখানে ২০২১ সালে দৈনিক গ্যাস উত্তোলন হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৩৫২ মিলিয়ন ঘনফুট।

মূলত দেশী কোম্পানিগুলোর অধীনে পরিচালনাধীন গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকেই এখন উত্তোলন হচ্ছে কম। 

যদিও বিদেশী কোম্পানিগুলোর অধীনে চলমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উত্তোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।

এমনকি ঠেকানো যাচ্ছেনা গ্যাসের সিস্টেম লস-ও। প্রতিদিন এর কারণেই হিসেব পাওয়া যাচ্ছেন ২২৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের। 

এমন অবস্থায়, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত না হলে ২০৩০ সাল নাগাদ উত্তোলন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে।

তবে, দেশের সর্ববৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্র বিবিয়ানা এই সংকটের মূহুর্তে শোনাচ্ছে আশার বাণী। 

এখনো অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মতো ক্রমাগত উৎপাদন হ্রাস দেখা দেয়নি সেখানে। 
দেশের ৪৫ শতাংশ গ্যাস-ই সরবরাহ করা হয় এখান থেকে। 

দেশে বর্তমানে দু'টি বেসরকারী মালিকানাধীন এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। যার একটি বিদেশি মালিকানাধীন এবং অপরটি দেশীয়। 

এই টারমিনাল দু'টি থেকে দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়। 

মাতারবাড়িতে নির্মানাধীন এলএনজি টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ হলে উতপাদন বাড়বে আরও ১০০ কোটি ঘনফুট। 

তবে, এলএনজি খাতে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত আগ্রহ এসব প্রকল্পে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে। 

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পরস্পর দন্দ্বের কারণে দীর্ঘ হচ্ছে নির্মাণ কাল। সবমিলিয়ে দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছেনা।

যার কারণে ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে স্পট মার্কেটের এলএনজি আমদানী করছে বাংলাদেশ। তবে, এভাবে স্পট থেকে এলএনজি কেনায় ব্যয় এর চাপ বেড়েছে সরকারের ওপর। 

সম্পূর্ণরূপে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি না কিনে ৯০ শতাংশ এলএনজি বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তিতে কেনা উচিত ছিল। 

টেকসই গ্যাস সরবরাহ না থাকার কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে খুলনা, বরিশালের মতো বিভাগ গুলো। 

বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুসারে এসব অঞ্চলে ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। 

তবে এসব ইকোনমিক জোনে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরী। যার জন্য প্রয়োজন নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের অনুসন্ধান।

ভারত গ্যাস মজুদের অনুসন্ধানে সমুদ্রে ব্যাপক হারে অনুসন্ধান করছে। অথচ, বাংলাদেশ তার জলসীমায় অফশোর অয়েল রিগের জন্য এখনো তেমন ভাবে অনুসন্ধান করেনি।  

বাংলাদেশেরও উচিত অতি দ্রুত ভারতের মতো পদক্ষেপ নেয়া। পাশাপাশি দেশে বিদ্যমান  গ্যাসক্ষেত্র গুলোকেও কাজে লাগাতে হবে।

জ্বালানী বিশেষজ্ঞদের মতো এগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তা না হলে ২০৩০ সালের পর থেকে বিদ্যুৎ সংকট আরও বেশি ঘনীভূত হবে বাংলাদেশে।



জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সীমান্তে আবার ও বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আলী হোসেন (৪০) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার ধবলগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল গফুরের ছেলে।

রাত পোহালেই শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে সরঞ্জাম

রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের সকল সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি।

অসহায় সামিয়ার পাশে দাঁড়ালো স্বপ্ন

লালমাই উপজেলার ২ নং বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার ১২ বছর বয়সী অসহায় মেয়ে সামিয়া আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সামিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নগদের ক্যাম্পেইনে হেলিকপ্টার ভ্রমণের স্বপ্ন সত্যি হলো ইমন ও আফজালের

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নগদ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়, যেখানে কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা হেলিকপ্টার ভ্রমণের আকর্ষণীয় পুরস্কার জিততে পারতেন। এই ক্যাম্পেইনের মূল বিজয়ী হয়েছেন ঢাকার দুই গ্রাহক কাজী ইমন ও আফজাল হোসেন।