বাংলাদেশ


৪৬ কোটির বরাদ্দ, পাঁচ বছরে ব্যয় প্রায় ১৮৮ কোটি- তবু অভিযান চললেও মরছে না মশা


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

৪৬ কোটির বরাদ্দ, পাঁচ বছরে ব্যয় প্রায় ১৮৮ কোটি- তবু অভিযান চললেও মরছে না মশা

ছবি: সংগৃহীত


রাজধানীতে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। মশা নিধন সিটি করপোরেশনের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কার্যকারিতা নিয়ে। এমন প্রেক্ষাপটে ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

 

ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মশা নিধন কার্যক্রমে ১ হাজার ৩০ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে সকালে সাতজন এবং বিকেলে ছয়জন কর্মীর ওষুধ ছিটানোর কথা। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও নাগরিকদের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা।

 

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের জাতীয় প্রেসক্লাব, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও কাকরাইল এলাকায় দুই ঘণ্টা ঘুরেও মশকনিধন কর্মীদের দেখা মেলেনি। সিটি করপোরেশনের সূচি অনুযায়ী, রমজান মাসে বেলা তিনটা থেকে ইফতারের আগপর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে ছয়জন কর্মীর ফগিং করার কথা।

 

এ বিষয়ে অঞ্চল–১–এর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফারিয়া ফয়েজ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সচিবালয় এলাকায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মীরা সেদিন সচিবালয়ের ভেতরে কাজ করেছেন। তবে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিছু কর্মী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সকালে লার্ভা ধ্বংসে ভারত থেকে আমদানি করা টেমিফস স্প্রে করা হয়। বিকেলে উড়ন্ত মশা মারতে চীন থেকে আনা মেলাথিউন দিয়ে ফগিং করা হয়।

 

এক কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষাগারে ওষুধ কার্যকর হলেও মাঠে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ধোঁয়া সরাসরি লাগলে মশা মরছে, না লাগলে বেঁচে যাচ্ছে।

 

ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান জানান, ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন যাতে নিরপেক্ষ হয়, তাই কমিটিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কাউকে রাখা হয়নি; প্রধান করা হয়েছে সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে।

 

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে মশা নিধনে বরাদ্দ ৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। হিসাব বিভাগ বলছে, গত পাঁচ বছরে শুধু মশা নিধনেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮৮ কোটি টাকা।

 

তবে বিপুল ব্যয়ের পরও কেন মশা নিয়ন্ত্রণে আসছে না এ নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর বাইরে দাঁড়ানো বা ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

নগরবিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ফগিং করে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। লার্ভা ধ্বংসে ডোবা-নালা, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদে জমে থাকা পানি ও জলাবদ্ধ স্থানে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। সমন্বিত ও বছরব্যাপী পরিকল্পনা ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন।

 

রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা এখন জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।


সম্পর্কিত

বাংলাদেশমশাসিটি করপোরেশন

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

আজ দুই ঘণ্টা কিছু গ্রাহকের মোবাইল নেটওয়ার্কে সাময়িক বিঘ্ন হতে পারে, কারণ জানাল অ্যামটব

দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিছু গ্রাহকের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের কারণেই এ ধরনের সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

বসুন্ধরায় দেড় কোটি টাকায় কেনা ফ্ল্যাটে ‘লুটের’ অভিযোগ প্রবাসী তানিয়া রহমানের

দশ বছর ইংল্যান্ডে প্রবাসজীবন কাটিয়ে স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরেন তানিয়া রহমান। লক্ষ্য ছিল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে উঠবেন, নতুন করে শুরু করবেন জীবনের অধ্যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে।

‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে নতুন সরকার?

বাংলাদেশে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছেন, “মব কালচারের দিন শেষ।” দাবি আদায়ের নামে দলবদ্ধ সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

নগদ উদ্যোক্তার ‘সন্তানের কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত’ প্রতিযোগিতা

দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তিন লাখেরও বেশি উদ্যোক্তার (এজেন্ট) সন্তানদের অংশগ্রহণে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ।