বাংলাদেশ


‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে নতুন সরকার?


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে নতুন সরকার?

ছবি: সংগৃহীত


বাংলাদেশে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছেন, “মব কালচারের দিন শেষ।” দাবি আদায়ের নামে দলবদ্ধ সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

 

তবে মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকদের প্রশ্ন ঘনঘন সংঘটিত ‘মব ভায়োলেন্স’ বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার প্রেক্ষাপটে বাস্তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কতটা সহজ হবে?

 

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘মব ভায়োলেন্স’ ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। নিরপরাধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি, ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের মারধর, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

 

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দলবদ্ধ সহিংসতা একটি ‘প্রকট ও প্রাণঘাতী প্রবণতা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন–এর হিসাবে, ওই বছরে ৪৬০ জন মব জাস্টিস ও গণপিটুনিতে নিহত হন।

 

অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র–এর তথ্য বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে এ ধরনের ঘটনায় ২১৫ জনের মৃত্যু হয়। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের বছর ২০২৪ সালে মৃত্যু হয় ১২৮ জনের, আর ২০২৫ সালে এ সংখ্যা প্রায় ২০০।

 

বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আত্মবিশ্বাসে ধস এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ‘নির্লিপ্ততা’ অপরাধীদের উৎসাহ জুগিয়েছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার “মব ভায়োলেন্স বলতে কিছু নেই” মন্তব্যও সমালোচনার জন্ম দেয়।

 

কিছু ক্ষেত্রে দলবদ্ধ সহিংসতাকে ‘রাজনৈতিক বৈধতা’ দেওয়ার প্রবণতাও পরিস্থিতি জটিল করেছে বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক। তাঁর মতে, বিচারের নামে ভিন্নমত দমন বা দলীয় পক্ষপাত চলতে থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

 

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, সরকারের সদিচ্ছা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করবে পরিস্থিতির উন্নতি।

 

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, “দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না। তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ে মিছিল-সমাবেশ করা যাবে।”

 

তাঁর এ বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে তারা সতর্ক করছেন আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে সরকারের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দলীয় প্রভাবমুক্ত তদন্ত ও বিচার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল পুনর্গঠন, রাজনৈতিক মদদপুষ্ট সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ, সামাজিক মাধ্যমে উসকানি ও গুজব নিয়ন্ত্রণ। এই চারটি ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘মব ভায়োলেন্স’ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর বিস্তার ও প্রাণঘাতী রূপ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, কঠোর ঘোষণার পর বাস্তব পদক্ষেপে কতটা সফল হয় নতুন সরকার।

 

সম্পর্কিত

মব ভায়োলেন্সমব সন্ত্রাসসরকার

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

অসহায় সামিয়ার পাশে দাঁড়ালো স্বপ্ন

লালমাই উপজেলার ২ নং বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার ১২ বছর বয়সী অসহায় মেয়ে সামিয়া আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সামিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নগদের ক্যাম্পেইনে হেলিকপ্টার ভ্রমণের স্বপ্ন সত্যি হলো ইমন ও আফজালের

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নগদ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়, যেখানে কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা হেলিকপ্টার ভ্রমণের আকর্ষণীয় পুরস্কার জিততে পারতেন। এই ক্যাম্পেইনের মূল বিজয়ী হয়েছেন ঢাকার দুই গ্রাহক কাজী ইমন ও আফজাল হোসেন।

হাওরে ডুবে যাচ্ছে বোরো ধান, গবাদিপশুর খাদ্যে পরিণত কৃষকের স্বপ্ন

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় অপরিপক্ক বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা বাধ্য হয়ে কোমর পর্যন্ত পানিতে নেমে কাঁচা ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।

শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেফতারের আগে প্রায় দেড় বছর “আত্মগোপনে”কোথায় ছিলেন?

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের দুই বছর পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটায় ধানমন্ডি এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। এরপর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।