

এবার সরাসরি নিউইয়র্ক গামী ফ্লাইট উড়াল দেবে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে। অত্যাধুনিক টার্মিনাল, রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং কার্গো স্টেশন নির্মাণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ চেহারা বদলে যাচ্ছে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের। উত্তর পূর্বাঞ্চলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের রিজিওনাল হাব হিসেবে চমৎকার ভাবে সাজানো হচ্ছে বিমান বন্দরটিকে। ইউরোপ আমেরিকার পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এই বিমানবন্দর ব্যাবহারের সুযোগ পাবে। এতে ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্য গুলোতে বানিজ্যের নতুন দরজা উন্মুক্ত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে যত যোগাযোগ বাড়বে, ততই বিভিন্ন বানিজ্যিক ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। বানিজ্যিক ক্ষেত্র বৃদ্ধি পেলে বিমানবন্দরের মাধ্যমে যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে।সম্প্রতি চালু হওয়া ঢাকা থেকে টরেন্টোর সরাসরি ফ্লাইটের বিমানে সিট সংখ্যা দুইশ সাতানব্বই টি। সেখানে পচাত্তর জন যাত্রীই ছিলো ভারতীয়। বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের যাতে আঞ্চলিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করা যায়, সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে বলে জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী। তাছাড়া বিমান বন্দরের সুযোগ উন্নতীকরনের লক্ষ্যে রানওয়ের ক্যাপাসিটি বাড়ানো হবে, যাতে বোয়িং ৭৭৭ এর মত বড় বিমান সহজে উঠা নামা করতে পারে। অত্যাধুনিক টার্মিনাল স্থাপনের ফলে এয়ারলাইনসের সংখ্যাও অনেক বাড়বে। এতে করে ফ্লাইটের ভাড়া কমে যাবে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আমরা চাই ফ্লাইটের ভাড়া আরও কম হোক। আমাদের টার্মিনাল হলে আরো এয়ারলাইনস আসবে। যত প্রতিযোগিতা বাড়বে, ভাড়া তত কমে আসবে।' সরকার রেল ও আকাশ পথে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে তৎপর থাকছে। বর্তমানের প্রতিযোগিতা মূলক বিশ্বে যোগাযোগ কিংবা কানেক্টিভিটিই পারে অর্থনৈতিক ভাবে একটি দেশকে সাবলম্বী করতে। যে পথে এগোলে অন্যান্য দেশের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সরকার সেই পথেই এগোচ্ছে। তাই কোটি কোটি টাকার প্রকল্প পরিকল্পনা করা হচ্ছে দেশের জন্য। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের আসন্ন রিজিওনাল হাব প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার একশ ষোল কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ ও কার্গো স্টেশন স্থাপন। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে বছরে প্রায় বিশ লাখ যাত্রী ধারণ করতে পারবে এই বিমান বন্দর।বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম এবং আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের একটি হচ্ছে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর। এটি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত হয়। এই বন্দরের অধিকাংশ যাত্রীই যুক্তরাজ্যে বসবাস করা সিলেট অঞ্চলের বংশধর। বর্তমানে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে যুক্তরাজ্য এবং দুবাই তে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। তাছাড়া ঢাকা থেকে সিলেট এবং সিলেট থেকে চট্টগ্রাম এর কিছু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও পরিচালনা করা হয় এখান থেকে। সম্প্রতি সিলেট থেকে শিলচর এবং সিলেট টু কক্সবাজার এর ফ্লাইট পরিচালনা করা নিয়েও কথা হচ্ছে। আশা করা যায়, আসন্ন নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার পর ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি বহুমুখী ব্যাবহার হবে দেশের অন্যতম প্রধান এই বিমানবন্দরের।


