

প্রতিদিন চোরাই পথে দেশে আসছে ২০০ কোটি টাকার স্বর্ণ। যা বছরে ৭৩ হাজার কোটির টাকার কম নয়। এমনটাই দাবি করছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন।এতে করে দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় এবং অপব্যবহার হচ্ছে। রেমিট্যান্স কমে যাচ্ছে, রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ছে না। বাংলাদেশে স্বর্ণের চোরাচালান নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বিদেশ থেকে। যারা স্বর্ণ চোরাচালান করে তারা খুব শক্তিশালী সিন্ডিকেট। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থান করে স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে এইসব গডফাদাররা।দেশে স্বর্ণ চোরাচালানের জন্য বেশ কয়েকটি চ্যানেল রয়েছে। যারা আলাদা আলাদাভাবে ভিন্ন ভিন্ন লোক দিয়ে বিদেশ থেকে স্বর্ণ এনে পৌঁছে দেয় নির্দিষ্ট গন্তব্যে। যেখানে এক চ্যানেলের লোক জানে না অন্য চ্যানেলে কে কাজ করে। এমনকি স্বর্ণ কার কাছ থেকে এসেছে, কোথায় যাবে বা কার কাছে যাবে, এসব ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানে না বাহকরা। ফলে তাদের আটকের পর কারা চোরাচালানের পেছনে রয়েছে তা শনাক্ত করা বেশ কঠিন। অনেক ক্ষেত্রেই তা খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই মূলহোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। গোয়েন্দাদের অভিযোগ, স্বর্ণ চোরাচালানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিমানের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মাধ্যমেই নির্বিঘ্নে স্বর্ণ পাচার করা হচ্ছে। কারন বিমানকর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ খুলে স্বর্ণ লুকিয়ে রেখে পাচার করা সম্ভব নয়।তবে মাঝে মধ্যে ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হলে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধরা পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যে কারণে জেলও হয়েছে অনেকের। গোয়েন্দা তথ্যানুসারে দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে ৩০টি সিন্ডিকেট স্বর্ণ পাচার করে থাকে। এর মধ্যে সাতটি বিদেশি সিন্ডিকেট রয়েছে। দেশের ২৩টি সিন্ডিকেটের মধ্যে ১১টি সরাসরি আর ১২টি মানি এক্সচেঞ্জের আড়ালে চোরাচালানের করে থাকে। সরাসরি স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত ১১টি দেশি সিন্ডিকেটের মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরেই রয়েছে সাতটি। বাকি চারটির মধ্যে তিনটি চট্টগ্রামের শাহআমানত বিমানবন্দর ও একটি রয়েছে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরকে ঘিরে ।বাংলাদেশে অবৈধভাবে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ আসে দুবাই থেকে। কিছু স্বর্ণ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। বাকিটা পাচার হয়ে যায় ভারতে।বলা হচ্ছে স্বর্ণ চোরাচালানের রুট হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। এ কারণে চোরাচালানের সঙ্গে ভারতের কিছু ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারির যোগসূত্র রয়েছে।বিশ্বের অন্যতম স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ ভারত। কিন্তু স্বর্ণ আমদানিতে দেশটিতে শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় চোরাচালানে আগ্রহ বেড়েছে তাদের। এই সুযোগে বেশি লাভের আশায় চোরাচালান চক্র গড়ে তুলেছে বাংলাদেশিরা। সীমান্ত পার করে দিলেই স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তি পেয়ে যায় মোটা অংকের টাকা। আকারে ছোট হওয়ায় লুকানো সহজ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় থামানো যাচ্ছে না এর চোরাচালান। অল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় অনেকে জড়িয়ে পড়ছে চোরাচালান চক্রের সাথে। তবে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দাবি, স্বর্ণ চোরাচালানকারীদের চিহ্নিত করে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সীমান্তে প্রায়ই স্বর্ণসহ ধরা পড়ছে এই চক্রের সদস্যরা।



