বাংলাদেশ


দেশে প্রতিদিন চোরা পথে আসছে ২০০ কোটি টাকার স্বর্ণের ভার!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৮ আগস্ট ২০২২, ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

দেশে প্রতিদিন চোরা পথে আসছে ২০০ কোটি টাকার স্বর্ণের ভার!

প্রতিদিন চোরাই পথে দেশে আসছে ২০০ কোটি টাকার স্বর্ণ। যা বছরে ৭৩ হাজার কোটির টাকার কম নয়। এমনটাই দাবি করছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন।

এতে করে দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় এবং অপব্যবহার হচ্ছে। রেমিট্যান্স কমে যাচ্ছে,  রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ছে না। 

বাংলাদেশে স্বর্ণের চোরাচালান নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বিদেশ থেকে। যারা স্বর্ণ চোরাচালান করে তারা খুব শক্তিশালী সিন্ডিকেট। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থান করে স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে এইসব গডফাদাররা।

দেশে স্বর্ণ চোরাচালানের জন্য বেশ কয়েকটি চ্যানেল রয়েছে। যারা আলাদা আলাদাভাবে ভিন্ন ভিন্ন লোক দিয়ে বিদেশ থেকে স্বর্ণ এনে পৌঁছে দেয় নির্দিষ্ট গন্তব্যে। 

যেখানে এক চ্যানেলের লোক জানে না অন্য চ্যানেলে কে কাজ করে। এমনকি স্বর্ণ কার কাছ থেকে এসেছে, কোথায় যাবে বা কার কাছে যাবে, এসব ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানে না বাহকরা। 

ফলে তাদের আটকের পর কারা চোরাচালানের পেছনে রয়েছে তা শনাক্ত করা বেশ কঠিন। অনেক ক্ষেত্রেই তা খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই মূলহোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। 

গোয়েন্দাদের অভিযোগ, স্বর্ণ চোরাচালানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিমানের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মাধ্যমেই নির্বিঘ্নে স্বর্ণ পাচার করা হচ্ছে। 

কারন বিমানকর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ খুলে স্বর্ণ লুকিয়ে রেখে পাচার করা সম্ভব নয়।

তবে মাঝে মধ্যে ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হলে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধরা পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যে কারণে জেলও হয়েছে অনেকের। 

গোয়েন্দা তথ্যানুসারে দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে ৩০টি সিন্ডিকেট স্বর্ণ পাচার করে থাকে। এর মধ্যে সাতটি বিদেশি সিন্ডিকেট রয়েছে। 

দেশের ২৩টি সিন্ডিকেটের মধ্যে ১১টি সরাসরি আর ১২টি মানি এক্সচেঞ্জের আড়ালে চোরাচালানের করে থাকে। 

সরাসরি স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত ১১টি দেশি সিন্ডিকেটের মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরেই রয়েছে সাতটি। 

বাকি চারটির মধ্যে তিনটি চট্টগ্রামের শাহআমানত বিমানবন্দর ও একটি রয়েছে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরকে ঘিরে ।

বাংলাদেশে অবৈধভাবে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ আসে দুবাই থেকে। কিছু স্বর্ণ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। বাকিটা পাচার হয়ে যায় ভারতে।

বলা হচ্ছে স্বর্ণ চোরাচালানের রুট হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। এ কারণে চোরাচালানের সঙ্গে ভারতের কিছু ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারির যোগসূত্র রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ ভারত। 
কিন্তু স্বর্ণ আমদানিতে দেশটিতে শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় চোরাচালানে আগ্রহ বেড়েছে তাদের। 

এই সুযোগে বেশি লাভের আশায় চোরাচালান চক্র গড়ে তুলেছে বাংলাদেশিরা। সীমান্ত পার করে দিলেই স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তি পেয়ে যায় মোটা অংকের টাকা। 

আকারে ছোট হওয়ায় লুকানো সহজ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় থামানো যাচ্ছে না এর চোরাচালান। অল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় অনেকে জড়িয়ে পড়ছে চোরাচালান চক্রের সাথে। 

তবে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দাবি, স্বর্ণ চোরাচালানকারীদের চিহ্নিত করে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সীমান্তে প্রায়ই স্বর্ণসহ ধরা পড়ছে এই চক্রের সদস্যরা।



জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

হামে শিশুমৃত্যু ৫১২, একদিনে মারা গেছে আরও ১৩ শিশু

দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ১৩২ শিশু। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পল্লবীতে শিশু হত্যা: সামাজিক মাধ্যমে কেন আলোচনায় ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’?

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি যখন তুঙ্গে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৫ সালের বহুল আলোচিত অস্ট্রেলিয়ান স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’ (The Disappearance of Willie Bingham)। মাত্র ১২ মিনিটের এই মনস্তাত্ত্বিক সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ম্যাথু রিচার্ড।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল জামায়াতে ইসলামী

ধর্ষকের প্রকাশ্য শাস্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

রাত বাড়লেই সুনামগঞ্জ শহরে চুরির আতঙ্ক, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

সুনামগঞ্জ শহরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে চুরির ঘটনা। বাসাবাড়ির পাশাপাশি সরকারি, আধাসরকারি ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানেও হানা দিচ্ছে চোরচক্র। চিহ্নিত চিচকে চোরদের দৌরাত্ম্যে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।