বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় আবারো শীর্ষ পাচে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।
অপরদিকে ভারতের রাজধানী দিল্লী দখল করেছে প্রথম স্থান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর কলকাতা।
বর্তমানে ঢাকার বায়ুতে প্রতি ঘনমিটারে পিএম-২.৫ এর বার্ষিক গড় ৭১ দশমিক ৪ মাইক্রোগ্রাম এবং এনও২ এর বার্ষিক গড় প্রতি ঘনমিটারে ২৩ দশমিক ৬ মাইক্রোগ্রাম।
ভারতের রাজধানী শহরের বায়ুতে পিএম২.৫ এর গড় বার্ষিক ঘনত্ব ১১০ মাইক্রোগ্রাম। কলকাতায় যা প্রতি ঘনমিটারে ৮৪ মাইক্রোগ্রাম।
বাংলাদেশ ভারত ছাড়াও শীর্ষ পাচে জায়গা করে নেয়া অন্য দুটি দেশ হলো নাইজেরিয়া এবং পেরু।
যার মধ্যে নাইজেরিয়ার কানো শহরের অবস্থান তৃতীয় স্থানে।
শহরটিতে বায়ুকণা পিএম২.৫-এর গড় বার্ষিক ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৮৩.৬ মাইক্রোগ্রাম।
চতুর্থ স্থানে থাকা পেরুর রাজধানী "লিমার" বায়ুকণায় পিএম২.৫-এর গড় বার্ষিক ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৭৩.২।
পিএম-২.৫ এর বার্ষিক গড় ঘনত্ব ৭১ দশমিক ৪ মাইক্রোগ্রাম নিয়ে ঢাকা আছে পঞ্চম স্থানে।
অথচ ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের বায়ুমান নির্দেশক গাইডলাইন অনুযায়ী এটির গড় বার্ষিক ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয়। তবে এরচেয়েও কম ঘনত্ব উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
পিএম-২.৫ হল বাতাসে থাকা একধরনের বিপজ্জনক বস্তুকনা, যা সবধরনের কঠিন এবং তরল পদার্থের সমন্বয়ে তৈরি হয়।
এছাড়া এনও২ প্রধানত পুরোনো যানবাহন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প স্থাপনা, আবাসিক এলাকায় রান্না, তাপদাহ এবং জ্বালানি পোড়ানোর কারণে তৈরি হয়।
বায়ু দূষণকারী প্রধান এই দুই উপাদান বিভিন্নভাবে শহরগুলোতে দূষণ সৃষ্টি করেছে। ফলে মানুষ নানারকম রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি কমে আসছে গড় আয়ু।
সম্প্রতি বিশ্বের সাত হাজারের বেশি শহরের বায়ুদূষণ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সংস্থা।
শহরগুলোর ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের বায়ু মানের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন।
সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম কিছু শহর এবং নগরাঞ্চলে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশের সংখ্যাই বেশি।
অন্যদিকে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোর পাশাপাশি নিম্ন এবং মধ্যম-আয়ের দেশের শহরেও এনও২’র উপস্থিতি বেশি পরিমানে রয়েছে।
২০১৯ সালে বিশ্বের ৭ হাজারের বেশি শহরের মধ্যে মোট ৮৬ শতাংশ শহরের প্রতি ঘনমিটারে পিএম-২.৫ এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া সীমার চেয়ে কয়েক গুন বেশি ছিল।
যা বিশ্বের ২৬০ কোটি মানুষকে প্রভাবিত করেছে।
স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শুধু বায়ুদূষণের কারণে প্রত্যেক বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ু দূষণের কারণে ২০১৯ সালে ঢাকায় ২২ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।
রাজধানীর বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারন চলমান উন্নয়ন কাজ। খোলা অবস্থায় নির্মান সামগ্রী ফেলে রাখা এবং ভারী যানবাহন চলাচলের কারনে ধুলোর পরিমান প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।
এই দূষনের ৬০ শতাংশই হয় রাতের বেলা। বাকি ৪০ ভাগ দূষন ঘটে দিনে। এর কারন রাতের বেলা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পন্যবাহী ট্রাক ঢাকায় প্রবেশ করে। অন্যদিকে উচ্চগতিতে চলা আন্তঃনগর বাস গুলো এ সময় শহর ছেড়ে যায়।
দিনের বেলা কম গতিতে বাস চলাচলের কারণে ধুলাগুলো কম উড়ে। রাতে দ্রুত গতিতে চলাচলের কারণে সেই পরিমান অনেকাংশে বেড়ে যায়।
আবার রাত ১১ টার পর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রাস্তা ঝাড়ু দেয়। বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা পোড়ানো হয়। এসব কারণে প্রচুর দূষণ হয়।