জাপানের আদলে এবার বাংলাদেশের মেট্রোরেলেও সংযুক্ত হচ্ছে স্টেশন প্লাজা
হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া


জাপানের আদলে এবার বাংলাদেশের মেট্রোরেলেও সংযুক্ত হচ্ছে স্টেশন প্লাজা। সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ী পার্কিংয়ে রাখতে পারবেন যাত্রীরা।এছাড়াও থাকবে বেশ কয়েকটি বিপণিবিতান এবং বিনোদন কেন্দ্র। সময় কাটানোর জন্য থাকবে কফি শপ, হোটেল।অসুস্থ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকবে এস্কেলেটর। স্টেশন চত্বরে থাকবে পর্যাপ্ত জায়গা।উত্তরা,কমলাপুর, ফার্মগেট এবং আগারগাঁও -এই ৪টি স্টেশনে প্লাজা তৈরী করা হবে।এর মধ্যে উত্তরা এবং কমলাপুর স্টেশনে নির্ধারিত হারে টাকা দিয়ে বেশি সময়ের জন্য গাড়ি পার্ক করা যাবে।এই দু’টি স্টেশনেই মাটির নিচে আন্ডারগ্রাউন্ড এবং মাটির উপরে বহুতল পার্কিং নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গণপরিবহনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা স্টেশনের কাছে এসে নামতে পারবেন।মেট্রোরেল শুরুর জায়গা উত্তরার পাশেই রয়েছে ডিপো। ডিএমটিসিএল এর নিজস্ব জমি রয়েছে সেখানে। ঐ জমির উপরেই বাস, বেবিট্যাক্সি, সিএনজির জন্য টার্মিনাল নির্মাণ করা হবেসেখান থেকেই গণপরিবহনে যাত্রী ওঠা নামা করানো হবে। একই ব্যবস্থা থাকছে কমলাপুর রেল স্টেশনেওপাশাপাশি হাল্কা নাস্তার ব্যবস্থাও থাকছে স্টেশন প্লাজায়। যাত্রা বিরতির সময় কোনোপ্রকার ঝামেলা ছাড়াই এখান থেকে খাবার কিনে খেতে পারবেন যাত্রীরা। থাকবে রেস্টু্রেন্টের মত বসে খাবার খাওয়ার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ।উত্তরা এবং কমলাপুর স্টেশনের মাঝখানে আগারগাঁও এবং ফার্মগেটে আপাতত টার্মিনাল নির্মাণ করা হবেনা। এই দুটি স্টেশনে শুধুমাত্র প্লাজা নির্মাণ করা হবে। আগারগাঁওয়ে স্টেশন প্লাজা নির্মাণের জন্য বিমানবাহিনীর যে নার্সারি আছে, সেই জায়গা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফার্মগেট আনোয়ারা পার্কে স্টেশন প্লাজার নির্মাণকাজ শুরু হয়ে গেছে।উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের ১৭ টি স্টেশন হবে। যার ৯টি তে প্রথম দফায় চলবে মেট্রোরেলএবছরের ১৬ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও স্টেশনে চালু হবে মেট্রোরেল সার্ভিস। বর্তমানে এই রুটে টেস্টিং রান চলছে।উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে সরকার মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার মেট্রোরেল সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।প্রথম দিকে মেট্রোরেলের প্রকল্পব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। স্টেশন প্লাজা নির্মাণ, পথ সম্প্রসারণ, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি সহ বেশ কিছু কারণে আরও সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা বাজেট বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।সরকারের পাশাপাশি এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকা। সর্বশেষ যে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে জাইকা দেবে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। সরকার খরচ করবে ১৩ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।মেট্রো ভ্রমণের জন্য দুই ধরণের কার্ড কিনতে পারবেন সাধারণ মানুষ। একটি কার্ডের মেয়াদ থাকবে আজীবন। এটি ব্যবহার করে যখন যেখানে খুশি মেট্রো সার্ভিস নেয়া যাবে।অপর কার্ডটি ব্যবহার করে কেবলমাত্র একবার মেট্রো সার্ভিস নেয়া যাবে। এর মধ্যে সিংগেল জার্নির কার্ডটি পাওয়া যাবে বিনামূল্যেআর লাইফটাইম সার্ভিস কার্ডটি কিনতে কিছু পরিমাণ টাকা খরচ করতে হবে। যাত্রীরা তাদের পছন্দমতো যেকোনো একটি কার্ড নিতে পারবেন।২০২৪ সালের জুনে মেট্রোরেল প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিএমটিসিএল।



