বাংলাদেশকে ঘিরে বৃহৎ পরিসরে পরিকল্পনা করছে জ্বালানি খাতের কোম্পানি শেভরন। দক্ষিন এশিয়ার দেশটিতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায় তারা।
বর্তমানে শেভরন দেশের ১ লাখ ৮৬ হাজার একর এলাকাজুড়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য দেশের ভূভাগে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে শেভরন। তাই কোম্পানিটি আরো কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রে উত্তোলন কার্যক্রম চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বড় পরিসরে গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা শেভরনের লক্ষ্য। বাংলাদেশকে জ্বালানি সুরক্ষায় সহায়তা দিতে তাঁরা সবসময় কাজ করে বলে জানিয়েছে শেভরন কতৃপক্ষ।
শেভরন এখন দেশের ভূভাগের ১১টি ব্লকের হাই প্রেশার জোনে অনুসন্ধান চালাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রশিদপুর ও ছাতকে নাইকোর ফেলে যাওয়া কূপে উত্তোলন কার্যক্রম চালাতে চায় কোম্পানিটি।
কোনো অংশীদারিত্ব চুক্তি বা দরপত্র ছাড়াই গ্যাসক্ষেত্র দুইটিতে কাজ পেতে তৎপর শেভরন। পেট্রোবাংলার কাছে এসব সম্পর্কিত কিছু প্রস্তাবও দিয়েছে তারা। যদিও এই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি পেট্রোবাংলা।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে শেভরন। বর্তমানে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহকৃত গ্যাসের ৬০ শতাংশই আসছে শেভরনের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে।
পেট্রোবাংলার সহযোগী হিসেবে বিবিয়ানা, মৌলভীবাজার ও জালালাবাদ গ্যাসফিল্ডে গ্যাস উত্তোলন এবং সরবরাহের কাজে নিয়োজিত রয়েছে কোম্পানিটি।
আরো পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায় বিক্রি করে চলে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল জ্বালানি খাতের বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন।
তবে পরবর্তী সময়ে সে পরিকল্পনা থেকে সরে আসে তারা। অবশ্য বাংলাদেশের আশেপাশের দেশগুলোতে নিজেদের ব্যবসায় বন্ধ করে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে শেভরন কাজ করছে বাংলাদেশের বিবিয়ানা, জালালাবাদ ও মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্রে ইতোমধ্যে শেভরনের চুক্তিভিত্তিক উত্তোলন কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
শেভরন ও পেট্রোবাংলার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, জালালাবাদে ২০২৪ সাল, মৌলভীবাজারে ২০২৮ ও বিবিয়ানায় ২০৩৪ সাল পর্যন্ত উত্তোলন কার্যক্রম চালাবে আমেরিকান প্রতিষ্ঠানটি।
এসব গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস ছাড়াও প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল, ৪ হাজার ব্যারেল কনডেনসেট উত্তোলন হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে জ্বালানি তেলের উৎপাদন আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। আবার এর বিপরীতে গ্যাস ও কনডেনসেট উত্তোলন বেড়েছে।
শেভরনের নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্যাসক্ষেত্রগুলো অনশোর ব্লক ১২, ১৩ ও ১৪-এর অধীনে। এসব ব্লকের অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রেও অনুসন্ধান চালাতে পরিকল্পনা তৈরি করেছে শেভরন।
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে এই মুহূর্তে শেভরন প্রধান ভূমিকায় আছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় পর্যায়ে মোট সরবরাহের অর্ধেকই আসছে শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে। কোম্পানিটির পরিচালনাধীন গ্যাসক্ষেত্রগুলোর কূপ সংস্কারের কারণে গ্যাসের সরবরাহও বাড়ছে।
বর্তমানে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বড় একটি সক্ষমতা বন্ধ রাখতে হয়েছে গ্যাসের অভাবে।
এই সংকটময় সময়ে নিজেদের কার্যক্রম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে শেভরন। তাই তাদের আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
তাদের ভাষ্যমতে, দেশে গ্যাস উৎপাদনের যে চিত্র তাতে এই মুহূর্তে উত্তোলন কার্যক্রমে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ দরকার, যাতে জাতীয় গ্রিডে আরো দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়।