বাংলাদেশ
ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে স্থাপন করা হবে ব্রডগেজ রেললাইন
২০২৭ সালের মধ্যে ঢাকা - চট্টগ্রাম রুটে মিটারগেজ রেললাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে। এর ফলে এই রুটে আগের চাইতে বেড়ে যাবে ট্রেনের গতি, সেই সাথে কমবে দূরত্ব আর সময়।
প্রকল্পটির আওতায় কুমিল্লার লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম এবং টঙ্গী থেকে আখাউড়া পর্যন্ত মিটারগেজ রেললাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এডিবি এর অর্থায়নে চলছে এই রেললাইন রূপান্তরের কাজ। এতে আনুমানিক ৩০ হাজার ২০৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশের পূর্বাঞ্চলের রেলে ব্রডগেজ লাইন স্থাপন করা হলে, পশ্চিমাঞ্চলে রাজশাহী ও দক্ষিণাঞ্চলে খুলনার সঙ্গে চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে। এর দ্বারা দেশের ৩ অঞ্চলের ৩ টি প্রধান বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে রেল যোগাযোগ সহজতর হবে।
পশ্চিমাঞ্চলে আগে থেকেই ব্রডগেজে রেললাইন থাকলেও পূর্বাঞ্চলে এখন পর্যন্ত মিটার গেজই রয়ে গেছে। কিন্তু ঢাকা - চট্টগ্রাম রেললাইন দেশের অন্যতম ব্যস্ত রুট।
তাছাড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতেও সড়ক ও বিমানের পাশাপাশি অধিকাংশ যাত্রীই এখনও রেলের উপরই ভরসা করেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিকল্পনায় সারা দেশেই রেল নেটওয়ার্কের কম বেশী সংস্কার করা হবে। পর্যায়েক্রমে দেশের সকল স্থানেই মিটারগেজ বাদ দিয়ে ব্রডগেজ রেল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এরমধ্যে সঙ্গত কারণেই ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
রূপান্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা - চট্টগ্রাম রুটে রেলের গতি যেমন বাড়বে তেমনি আগের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে। আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যেতে প্রায় এক ঘন্টা সময় কমে যাবে।
এই প্রকল্পের আওতায় ৩ ভাগে রেললাইন রূপান্তরের কাজ চলবে। টঙ্গী থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পর্যন্ত ৯৩ কিলোমিটার পথে মিটারগেজের পরিবর্তে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন করা হচ্ছে।
এরপর আখাউড়া থেকে কুমিল্লার লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন স্থাপন করা হচ্ছে। যাতে মিটার ও ব্রড উভয় রেলই চলতে পারবে। ৩য় ভাগে লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মিটারগেজকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে।
এই সম্পূর্ণ রূপান্তর প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। ২০২৭ সাল নাগাদ সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
প্রকল্পে শুধু ঢাকা - চট্টগ্রামই নয়, তাদের সাথে নতুন কর্ড লাইনের মাধ্যমে যুক্ত হবে সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারও।
ঢাকা - চট্টগ্রামের পাশাপাশি কক্সবাজার অবধিও চলাচল করবে এই ব্রডগেজ ট্রেন। চট্টগ্রামের সাথে কক্সবাজার রেললাইনকে যুক্ত করতে পাহাড়তলী থেকে দোহাজারী এবং দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলে কর্ড লাইন নির্মাণ করা হবে।
এর মাধ্যমে রাজধানীর সাথে দেশের পূর্বাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা আগের তুলনায় আরও উন্নত হবে। ঢাকা থেকে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব দুটোই কমে যাবে।
কক্সবাজার পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন হয়ে গেলে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সাথে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনে আর কোন বাধা থাকবে না।
আর এই ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সাথে যুক্ত হতে পারলে একাধারে চীন, পাকিস্তান, ভারত ও মিয়ানমারের সাথেও রেলপথে যুক্ত হতে পারবে বাংলাদেশ।
রেলওয়ের এই উন্নয়নমূলক প্রকল্প আগামী দিনগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সম্প্রসারণে এবং পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
জনপ্রিয়
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
জানুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৫৪৬ প্রাণ, ৩৭ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা
বিদায়ী জানুয়ারি মাসে দেশের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র ছিল উদ্বেগজনক। মাসজুড়ে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত এবং ১ হাজার ২০৪ জন আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনার প্রায় ৩৭ দশমিক ৮৬ শতাংশই ঘটেছে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে।

আজ দুই ঘণ্টা কিছু গ্রাহকের মোবাইল নেটওয়ার্কে সাময়িক বিঘ্ন হতে পারে, কারণ জানাল অ্যামটব
দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিছু গ্রাহকের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের কারণেই এ ধরনের সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।
.jpg)
বসুন্ধরায় দেড় কোটি টাকায় কেনা ফ্ল্যাটে ‘লুটের’ অভিযোগ প্রবাসী তানিয়া রহমানের
দশ বছর ইংল্যান্ডে প্রবাসজীবন কাটিয়ে স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরেন তানিয়া রহমান। লক্ষ্য ছিল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে উঠবেন, নতুন করে শুরু করবেন জীবনের অধ্যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে।

৪৬ কোটির বরাদ্দ, পাঁচ বছরে ব্যয় প্রায় ১৮৮ কোটি- তবু অভিযান চললেও মরছে না মশা
রাজধানীতে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। মশা নিধন সিটি করপোরেশনের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কার্যকারিতা নিয়ে। এমন প্রেক্ষাপটে ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
.jpg)
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)

.jpg)