বাংলাদেশ


চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্ত হলো ৩০০ কোটির ৪ ক্রেন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৯ আগস্ট ২০২২, ০৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার

চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্ত হলো ৩০০ কোটির ৪ ক্রেন

চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্ত হলো আরো চারটি অত্যাধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন। মোট তিনশো কোটি টাকা মূল্যে এগুলো চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে।

নতুন চারটিসহ এ নিয়ে মোট আঠারোটি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হয়েছে বন্দরের বহরে। ফলে আগে যেখানে কন্টেইনারবাহী একটি জাহাজ খালি করতে চার দিন সময় লাগতো, সেটা এখন কমে এক দিনে নেমে এসেছে।

ক্রেন গুলো গত মাসেই দুটি বিশেষ জাহাজে করে চীন থেকে নিয়ে আসা হয়েছিলো। পরে সেগুলো বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে স্থাপন করা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরেই স্থাপন করা গ্যান্ট্রি ক্রেন গুলো দিয়ে পরিক্ষামূলক ভাবে কন্টেইনার উঠানো নামানো হয়েছে।

পরে গত রবিবার সকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করা হয়েছে সেগুলোর কার্যক্রম। সেদিন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকালে ঢাকা থেক চট্টগ্রাম আসেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জনাব খালিদ মাহমুদ চৌধুরি।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দর ও নির্মানাধীন মাতারবাড়ি সমুদ্র বন্দর নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর রিজিওনাল বন্দর হবে।

অন্যদিকে মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে সেটি প্রতিবেশি দেশ গুলোর জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।

ইতোমধ্যে ভারতসহ কয়েকটি দেশকে চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্টের সুযোগ দেয়া নিয়ে আলোচনা চলার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে গত বছরই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি কেনার কাজ শুরু হয়।

চলতি বছরে বন্দরের বহরে এক হাজার কোটি টাকার মোট একশো চারটি কনটেইনার হ্যান্ডেলিং ও কার্গো হ্যান্ডেলিং ইকুইপমেন্ট যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

যার অংশ হিসেবে আনা হয়েছে চীনের বিখ্যাত সাংহাই জেনহু হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি এই চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন।

বিগত এক দশ আগেও চট্টগ্রাম বন্দর ছিল গিয়ার ভেসেল ভিত্তিক বন্দর। পৃথিবীর সব বন্দরই যখন গ্যান্ট্রি ক্রেন ব্যবহার করে পন্য খালাস করতো, তখন জাহাজের ক্রেন দিয়েই কন্টেইনার ওঠা নামা করা হতো এখানে।

তবে দিন দিন নতুন নতুন যন্তপাতির সংযোজনের ফলে অবস্থার পরিবর্ত হয়ে এখন ফুল অটোমেটেড বন্দররে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। নতুন নতুন যন্ত্রপাতি বৃদ্ধি করেছে বন্দরের গতি।

চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি টার্মিনালের ভিতর, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ও চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনালের পরিচালনার কাজ করছে সাইফ পাওয়ারটেক।

প্রতিষ্ঠানটির সিওই ক্যাপ্টেন তানভীর হোসেন জানান, গ্যান্ট্রি ক্রেন আসার পর আশি থেকে নব্বই শতাংশ জাহাজ আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে শিপমেন্ট সম্পন্ন হচ্ছে। যেটা অনেক বেশি কিছু টার্ন ওভারের জন্য।

আগে পন্য ওঠানামা করার জন্য জাহাজকে অপেক্ষা করতে হতো দিনের পর দিন। বেশি সময় ব্যয় হওয়ায় ডেমারেজ দিতে হতো শিপিং এজেন্টদের।

একটি জাহাজ বন্দরে নির্ধারিত সময়ের একদিন বেশি সময় থাকলে জাহাজের ভাড়া বাবত দশ থেকে পনেরো হাজার ডলার ডেমারেজ দিতে হতো তাদের।

যার ফলে প্রভাবিত হতো আমদানি পন্যের মূল্য। তবে বর্তমানে জাহাজ গুলোকে পন্য ওঠানামা করার জন্য আর অপেক্ষা করতে হয় না।

নতুন যন্ত্রপাতির সংযোজনের ফলে বন্দরের গতি বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের সক্ষমতাও।

বর্তমানে বছরে চট্টগ্রাম বন্দর প্রায় বত্রিশ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করে। যার ফলে বিশ্বের ব্যস্ততম একশোটি বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর চৌষট্টিতম স্থানে অবস্থান করছে।



জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

হামে শিশুমৃত্যু ৫১২, একদিনে মারা গেছে আরও ১৩ শিশু

দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ১৩২ শিশু। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পল্লবীতে শিশু হত্যা: সামাজিক মাধ্যমে কেন আলোচনায় ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’?

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি যখন তুঙ্গে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৫ সালের বহুল আলোচিত অস্ট্রেলিয়ান স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’ (The Disappearance of Willie Bingham)। মাত্র ১২ মিনিটের এই মনস্তাত্ত্বিক সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ম্যাথু রিচার্ড।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল জামায়াতে ইসলামী

ধর্ষকের প্রকাশ্য শাস্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

রাত বাড়লেই সুনামগঞ্জ শহরে চুরির আতঙ্ক, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

সুনামগঞ্জ শহরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে চুরির ঘটনা। বাসাবাড়ির পাশাপাশি সরকারি, আধাসরকারি ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানেও হানা দিচ্ছে চোরচক্র। চিহ্নিত চিচকে চোরদের দৌরাত্ম্যে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।