

চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্ত হলো আরো চারটি অত্যাধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন। মোট তিনশো কোটি টাকা মূল্যে এগুলো চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে।নতুন চারটিসহ এ নিয়ে মোট আঠারোটি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হয়েছে বন্দরের বহরে। ফলে আগে যেখানে কন্টেইনারবাহী একটি জাহাজ খালি করতে চার দিন সময় লাগতো, সেটা এখন কমে এক দিনে নেমে এসেছে।ক্রেন গুলো গত মাসেই দুটি বিশেষ জাহাজে করে চীন থেকে নিয়ে আসা হয়েছিলো। পরে সেগুলো বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে স্থাপন করা হয়েছে।গত কয়েকদিন ধরেই স্থাপন করা গ্যান্ট্রি ক্রেন গুলো দিয়ে পরিক্ষামূলক ভাবে কন্টেইনার উঠানো নামানো হয়েছে।পরে গত রবিবার সকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করা হয়েছে সেগুলোর কার্যক্রম। সেদিন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকালে ঢাকা থেক চট্টগ্রাম আসেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জনাব খালিদ মাহমুদ চৌধুরি।অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দর ও নির্মানাধীন মাতারবাড়ি সমুদ্র বন্দর নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর রিজিওনাল বন্দর হবে।অন্যদিকে মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে সেটি প্রতিবেশি দেশ গুলোর জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।ইতোমধ্যে ভারতসহ কয়েকটি দেশকে চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্টের সুযোগ দেয়া নিয়ে আলোচনা চলার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে গত বছরই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি কেনার কাজ শুরু হয়।চলতি বছরে বন্দরের বহরে এক হাজার কোটি টাকার মোট একশো চারটি কনটেইনার হ্যান্ডেলিং ও কার্গো হ্যান্ডেলিং ইকুইপমেন্ট যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।যার অংশ হিসেবে আনা হয়েছে চীনের বিখ্যাত সাংহাই জেনহু হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি এই চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন।বিগত এক দশ আগেও চট্টগ্রাম বন্দর ছিল গিয়ার ভেসেল ভিত্তিক বন্দর। পৃথিবীর সব বন্দরই যখন গ্যান্ট্রি ক্রেন ব্যবহার করে পন্য খালাস করতো, তখন জাহাজের ক্রেন দিয়েই কন্টেইনার ওঠা নামা করা হতো এখানে।তবে দিন দিন নতুন নতুন যন্তপাতির সংযোজনের ফলে অবস্থার পরিবর্ত হয়ে এখন ফুল অটোমেটেড বন্দররে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। নতুন নতুন যন্ত্রপাতি বৃদ্ধি করেছে বন্দরের গতি।চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি টার্মিনালের ভিতর, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ও চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনালের পরিচালনার কাজ করছে সাইফ পাওয়ারটেক।প্রতিষ্ঠানটির সিওই ক্যাপ্টেন তানভীর হোসেন জানান, গ্যান্ট্রি ক্রেন আসার পর আশি থেকে নব্বই শতাংশ জাহাজ আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে শিপমেন্ট সম্পন্ন হচ্ছে। যেটা অনেক বেশি কিছু টার্ন ওভারের জন্য।আগে পন্য ওঠানামা করার জন্য জাহাজকে অপেক্ষা করতে হতো দিনের পর দিন। বেশি সময় ব্যয় হওয়ায় ডেমারেজ দিতে হতো শিপিং এজেন্টদের।একটি জাহাজ বন্দরে নির্ধারিত সময়ের একদিন বেশি সময় থাকলে জাহাজের ভাড়া বাবত দশ থেকে পনেরো হাজার ডলার ডেমারেজ দিতে হতো তাদের।যার ফলে প্রভাবিত হতো আমদানি পন্যের মূল্য। তবে বর্তমানে জাহাজ গুলোকে পন্য ওঠানামা করার জন্য আর অপেক্ষা করতে হয় না।নতুন যন্ত্রপাতির সংযোজনের ফলে বন্দরের গতি বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের সক্ষমতাও।বর্তমানে বছরে চট্টগ্রাম বন্দর প্রায় বত্রিশ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করে। যার ফলে বিশ্বের ব্যস্ততম একশোটি বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর চৌষট্টিতম স্থানে অবস্থান করছে।



