বাংলাদেশ


পল্লবীতে শিশু হত্যা: সামাজিক মাধ্যমে কেন আলোচনায় ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’?


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২২ মে ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার

পল্লবীতে শিশু হত্যা: সামাজিক মাধ্যমে কেন আলোচনায় ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’?

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি যখন তুঙ্গে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৫ সালের বহুল আলোচিত অস্ট্রেলিয়ান স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’ (The Disappearance of Willie Bingham)। মাত্র ১২ মিনিটের এই মনস্তাত্ত্বিক সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ম্যাথু রিচার্ড।

 

চলচ্চিত্রটির মূল ভাবনা এবং এর নির্মম শাস্তিপ্রক্রিয়া বর্তমান বাস্তবতায় অপরাধের বিচার ও প্রতিশোধের ধরন নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে এক গভীর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

অপরাধ ও আদালতের অভূতপূর্ব রায়

 

সিনেমার গল্পটি আবর্তিত হয়েছে উইলি বিংহাম নামের এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে, যে একটি নিরীহ শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। সংশ্লিষ্ট দেশে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় আদালত তাকে এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ শাস্তি দেয়, যার আইনি নাম ‘প্রগ্রেসিভ অ্যাম্পুটেশন’ বা পর্যায়ক্রমিক অঙ্গচ্ছেদ।

 

এই শাস্তি প্রক্রিয়ার মূল শর্ত হলো— ধাপে ধাপে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপরাধীর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে ফেলা হবে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই শাস্তি কতদিন ধরে চলবে এবং কতটা যন্ত্রণাদায়ক হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের ইচ্ছার ওপর।

ধাপে ধাপে অঙ্গচ্ছেদ ও চরম নির্মমতা

 

চলচ্চিত্রে দেখানো হয়, রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে ও চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে একে একে উইলি বিংহামের হাত, পা, একটি কিডনি, ফুসফুসের অংশ, যৌনাঙ্গ, কান, নাক এবং জিহ্বার অগ্রভাগ কেটে ফেলা হয়। সময়ের সাথে সাথে এই নির্মম দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে ভুক্তভোগী পরিবারের অন্য সদস্যরা একপর্যায়ে পিছু হটেন। তবে নিহত শিশুটির বাবা ছিলেন পাথরের মতো অবিচল। তিনি প্রতিবারই নির্বিকার চিত্তে পরবর্তী অঙ্গচ্ছেদের অনুমতিপত্রে স্বাক্ষর করতে থাকেন।

 

সিনেমার সেই চূড়ান্ত মোড় এবং নৈতিক প্রশ্ন

 

‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’ চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে শক্তিশালী ও মস্তিষ্ক আলোড়নকারী মোড় আসে একদম শেষ দৃশ্যে। চূড়ান্ত অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকরা উইলিকে চিরতরে মুক্তি দেওয়ার (মৃত্যু ঘটানোর) সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বিধি বাম; নিহত শিশুর বাবা সেই ফাইলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।

 

"মৃত্যু তো সহজ মুক্তি, কিন্তু অপরাধের শাস্তি হওয়া উচিত জীবন্ত নরক।" — চলচ্চিত্রের এই অন্তর্নিহিত বার্তাটি ফুটিয়ে তুলতেই বাবা উইলিকে মৃত্যুর সুযোগ না দিয়ে, এই পঙ্গু ও যন্ত্রণাময় শরীর নিয়েই বেঁচে থাকতে বাধ্য করেন।

সামাজিক মাধ্যমে নতুন বিতর্ক

 

পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই এই সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। অপরাধীর চরম শাস্তির দাবিতে অনেকেই বলছেন, কিছু অপরাধের তীব্রতা এতই বেশি যে সাধারণ মৃত্যুদণ্ডও সেখানে কম মনে হয়।

 

তবে চলচ্চিত্রটি একই সাথে বিশ্বজুড়ে বিচার, প্রতিশোধের সীমা এবং মানবিকতার এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্নও ছুড়ে দেয়। অপরাধের শাস্তি কি কেবলই অপরাধীকে শেষ করে দেওয়া, নাকি তাকে তিলে তিলে তার অপরাধের ভয়াবহতা অনুধাবন করানো? পল্লবীর ঘটনার আবহে ‘উইলি বিংহাম’ যেন সমাজের সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই এক রূপক প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।


সম্পর্কিত

রাজধানীপল্লবীদ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল জামায়াতে ইসলামী

ধর্ষকের প্রকাশ্য শাস্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

রাত বাড়লেই সুনামগঞ্জ শহরে চুরির আতঙ্ক, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

সুনামগঞ্জ শহরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে চুরির ঘটনা। বাসাবাড়ির পাশাপাশি সরকারি, আধাসরকারি ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানেও হানা দিচ্ছে চোরচক্র। চিহ্নিত চিচকে চোরদের দৌরাত্ম্যে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।

ফেসবুক মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে রাকসু জিএস সালাহ উদ্দীন আম্মার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহ উদ্দীন আম্মারের একটি ফেসবুক মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি এক নারীর পোস্টে অশোভন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা পরে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

বোনকে প্রেমের প্রস্তাবের জেরে বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা করলো ভাই

শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় এলাকায় প্রেমঘটিত বিরোধ ও অপমানের জেরে আলামিন নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে সংস্থাটি।