বাংলাদেশ
পল্লবীতে শিশু হত্যা: সামাজিক মাধ্যমে কেন আলোচনায় ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’?

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি যখন তুঙ্গে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৫ সালের বহুল আলোচিত অস্ট্রেলিয়ান স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’ (The Disappearance of Willie Bingham)। মাত্র ১২ মিনিটের এই মনস্তাত্ত্বিক সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ম্যাথু রিচার্ড।
চলচ্চিত্রটির মূল ভাবনা এবং এর নির্মম শাস্তিপ্রক্রিয়া বর্তমান বাস্তবতায় অপরাধের বিচার ও প্রতিশোধের ধরন নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে এক গভীর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অপরাধ ও আদালতের অভূতপূর্ব রায়
সিনেমার গল্পটি আবর্তিত হয়েছে উইলি বিংহাম নামের এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে, যে একটি নিরীহ শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। সংশ্লিষ্ট দেশে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় আদালত তাকে এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ শাস্তি দেয়, যার আইনি নাম ‘প্রগ্রেসিভ অ্যাম্পুটেশন’ বা পর্যায়ক্রমিক অঙ্গচ্ছেদ।
এই শাস্তি প্রক্রিয়ার মূল শর্ত হলো— ধাপে ধাপে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপরাধীর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে ফেলা হবে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই শাস্তি কতদিন ধরে চলবে এবং কতটা যন্ত্রণাদায়ক হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের ইচ্ছার ওপর।
ধাপে ধাপে অঙ্গচ্ছেদ ও চরম নির্মমতা
চলচ্চিত্রে দেখানো হয়, রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে ও চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে একে একে উইলি বিংহামের হাত, পা, একটি কিডনি, ফুসফুসের অংশ, যৌনাঙ্গ, কান, নাক এবং জিহ্বার অগ্রভাগ কেটে ফেলা হয়। সময়ের সাথে সাথে এই নির্মম দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে ভুক্তভোগী পরিবারের অন্য সদস্যরা একপর্যায়ে পিছু হটেন। তবে নিহত শিশুটির বাবা ছিলেন পাথরের মতো অবিচল। তিনি প্রতিবারই নির্বিকার চিত্তে পরবর্তী অঙ্গচ্ছেদের অনুমতিপত্রে স্বাক্ষর করতে থাকেন।
সিনেমার সেই চূড়ান্ত মোড় এবং নৈতিক প্রশ্ন
‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’ চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে শক্তিশালী ও মস্তিষ্ক আলোড়নকারী মোড় আসে একদম শেষ দৃশ্যে। চূড়ান্ত অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকরা উইলিকে চিরতরে মুক্তি দেওয়ার (মৃত্যু ঘটানোর) সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বিধি বাম; নিহত শিশুর বাবা সেই ফাইলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।
"মৃত্যু তো সহজ মুক্তি, কিন্তু অপরাধের শাস্তি হওয়া উচিত জীবন্ত নরক।" — চলচ্চিত্রের এই অন্তর্নিহিত বার্তাটি ফুটিয়ে তুলতেই বাবা উইলিকে মৃত্যুর সুযোগ না দিয়ে, এই পঙ্গু ও যন্ত্রণাময় শরীর নিয়েই বেঁচে থাকতে বাধ্য করেন।
সামাজিক মাধ্যমে নতুন বিতর্ক
পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই এই সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। অপরাধীর চরম শাস্তির দাবিতে অনেকেই বলছেন, কিছু অপরাধের তীব্রতা এতই বেশি যে সাধারণ মৃত্যুদণ্ডও সেখানে কম মনে হয়।
তবে চলচ্চিত্রটি একই সাথে বিশ্বজুড়ে বিচার, প্রতিশোধের সীমা এবং মানবিকতার এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্নও ছুড়ে দেয়। অপরাধের শাস্তি কি কেবলই অপরাধীকে শেষ করে দেওয়া, নাকি তাকে তিলে তিলে তার অপরাধের ভয়াবহতা অনুধাবন করানো? পল্লবীর ঘটনার আবহে ‘উইলি বিংহাম’ যেন সমাজের সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই এক রূপক প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।
জনপ্রিয়
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগে ‘ঘরের বাজার’কে ৭.৮৭ লাখ টাকা জরিমানা
আয়কর সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে দেশের পরিচিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘ঘরের বাজার’-কে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫১৪ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কিছু পণ্যের মান ও বিপণন পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোক্তাদের একাংশ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন।

বিএসটিআই পরীক্ষায় হায়ারের ২ টনের এসিতে কম কুলিং ক্ষমতার অভিযোগ
রাজধানীর গুলশানে পরিচালিত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) এক অভিযানে অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রির দায়ে হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেডকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে জব্দ করা দুটি ২ টনের এয়ার কন্ডিশনার (এসি) পরীক্ষার পর ঘোষিত কুলিং ক্ষমতার সঙ্গে প্রকৃত সক্ষমতার অমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

অনুমোদনহীন খাদ্যপণ্য বিক্রি, আগোরাকে এক লাখ টাকা জরিমানা
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর অনুমোদন ছাড়াই বেকিং পাউডার, আইসিং সুগার ও কাস্টার্ড পাউডার বিক্রির অভিযোগে দেশের অন্যতম রিটেইল সুপারস্টোর চেইন আগোরা লিমিটেডকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শিত মেসির স্বাক্ষরিত জার্সি, ভিড় করছেন ফুটবলপ্রেমীরা
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসির স্বাক্ষর করা আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের একটি জার্সি এখন প্রদর্শিত হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে। বিরল এই স্মারকটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। বিশেষ করে মেসি-ভক্ত ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে জার্সিটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।







