-2175.jpg&w=3840&q=75)

এবার পদ্মাসেতুর টোল প্লাজার সামনে চলছে গাড়ির ওজন মাপার যন্ত্র বসানোর কাজ। অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যান ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরেই যন্ত্র দিয়ে গাড়ির ওজন মাপা হবে বলে জানিয়েছে সেতু কতৃপক্ষ। সে লক্ষেই দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে কাজ। ২৬ জুন সকাল থেকে পদ্মাসেতুতে যান চলাচল শুরু হয়। সেতু উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৭ হাজারেরও বেশি গাড়ি পারাপার হচ্ছে। বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দর এবং মোংলা সমুদ্রবন্দর সহ বিভিন্ন জেলার পণ্যবাহী গাড়ি পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করছে। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে পদ্মা সেতুতে ২৭ টনের বেশি ওজনের যানবাহন পারাপার হতে পারবে না। ওজন মাপার যন্ত্র না থাকায় এ নিষেধাজ্ঞা মানছেন না পণ্যবাহী গাড়ির চালকেরা। তাঁরা অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই করে বেশি ওজনের গাড়ি নিয়ে নির্বিগ্নে সেতু পারাপার হচ্ছেন। যন্ত্র প্রস্তুত হয়ে গেলে টোল প্লাজায় প্রবেশ করার আগে পণ্যবাহী গাড়িগুলো ওয়ে স্কেলে যাবে।পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় টোল দেওয়ার জন্য রয়েছে ছয়টি লেন। যার দুটি পণ্যবাহী গাড়ির জন্য ব্যবহার করা হয়। গাড়ির ওজন করার পর ২৭ টনের কম হলে সেগুলো টোল প্লাজার পাশে সবুজ জোনে যাবে। এরপর তা টোল প্রদান করে টোল প্লাজা অতিক্রম করে সেতুতে উঠবে। আর যে গাড়ির ওজন বেশি হবে, তা রেড জোনে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই গাড়িগুলো টোল প্লাজার পেছনে স্টকইয়ার্ডে গিয়ে পণ্য নামিয়ে রেখে আবার ওয়ে স্কেলে আসতে পারবে।তাছাড়া ৫.৭ মিটারের চেয়ে বেশি উচ্চতার মালবাহী কোনো গাড়িও সেতু পার হতে পারবে না বলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে ওজন মাপার যন্ত্র দুটি বসানোর কাজ করছে।এখন প্রত্যেকেটি বুথে দুজন করে কর্মী সার্বক্ষণিক থাকছেন। একজন চেয়ারে বসে, আরেকজন বেশিরভাগ সময় দাঁড়িয়ে কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন থাকলে করে দিচ্ছেন। এছাড়া শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা লোকজন কোনো গাড়ি লাইন ভাঙলে তাকে সারিবদ্ধভাবে আসার জন্য বলছেন।অন্যদিকে কোনো গাড়ি বুথের সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটা স্ট্যান্ড সামনের রাস্তা আটকে দেয়। বুথে থাকা কর্মীর কাছে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা দেওয়ার পর ভেতরে থাকা মনিটর ও সামনে থাকা ডিসপ্লে বোর্ডে তা ভেসে ওঠে। পরে মেশিন থেকে টোল পরিশোধের রশিদ বের হলে চালকের হাতে তুলে দিয়ে কাজ শেষ করা হয়।তবে একসঙ্গে বেশি গাড়ি এলে বুথে থাকা কর্মীদের দম ফেলানোর সুযোগ থাকে না। এসব বিষয় দেখার জন্য অবশ্য সেতুর টোল প্লাজার পাশের স্থাপনায় দায়িত্বশীলরা পালাক্রমে অবস্থান করেন। ওজন স্কেল ছাড়াও সেতুর দুই প্রান্তে নজরদারি ও অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বসানো হয়েছে পিটিজেড কন্ট্রোল ক্যামেরা। এছাড়া সেতুর জাজিরা ও মাওয়া প্রান্তে আরও ৩৪টি ডোম ক্যামেরা বসানো হয়েছে।এগুলো ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত চারদিকে সমানভাবে ঘুরতে পারে। এছাড়াও দুই পাড়ের টোল প্লাজার ভিতরে নিরাপত্তার জন্য ক্যাশ বুথ ও বিভিন্ন জায়গায় আরও ৩৪টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।পদ্মা সেতু এলাকায় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটলে সহজেই ক্যামেরায় তা ধরা পড়বে। দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটেছে সেটিও সহজেই শনাক্ত করতে পারবে এই ক্যামেরা।



