বাংলাদেশ


নেপাল থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনছে বাংলাদেশ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার

নেপাল থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনছে বাংলাদেশ

নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে চলেছে বাংলাদেশ। প্রাথমিকভাবে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করবে সরকার।

নেপালের ৯০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন আপার কার্নালি জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই জ্বালানি কেনা হবে। ভারতের জিএমআর গ্রুপ এর নির্মাতা। 

এখান থেকে মোট ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। এই মাসেই চুক্তির বিষয় চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন করা হবে।

ক্রয় করা জ্বালানি প্রথমে নেপাল থেকে ভারতে আসবে। এরপর ভারত থেকে  কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। 

প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০ মেগাওয়াট জ্বালানি আমদানি করা হবে। এই কাজে সহযোগিতা করার জন্য ভারতকে অনুরোধ করবে বাংলাদেশ ও নেপাল।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-নেপাল জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ ও জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঐ বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশের পক্ষে নেপালে গিয়েছিলেন বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমানের নেতেৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

এছাড়া বৈঠকে নেপালের পক্ষে ছিলেন দেশটির জ্বালানি, পানিসম্পদ ও সেচ বিষয়ক সচিব সুশিল চন্দ্র তেওয়ারি। 

বৈঠক শেষে জানা গিয়েছে বর্তমানে যে লাইন আছে সেটি দিয়েই বিদ্যুৎ আনা সম্ভব। প্রথমে নেপাল ভারতকে সরবরাহ করবে।

তারপর ভেড়ামারা এইচভিডিসি ট্রান্সমিশন লাইন দিয়ে ভারত বাংলাদেশে পাঠাবে। বাংলাদেশ নেপাল সরাসরি সীমান্ত নেই। তাই ভারতের মধ্য দিয়েই আপাতত  বিদ্যুৎ আমদানি করতে হবে।

এছাড়াও ঐ বৈঠকে ৬৮৩ মেগাওয়াটের সানকোশি-৩  প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব সংক্রান্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

ভেড়ামারা-বহরমপুর আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন লাইন উদ্বোধন করা হয় ২০১৩ সালে। 
বাংলাদেশ ভারত দুই দেশ মিলে এটি উদ্বোধন করে।

বর্তমানে এই লাইন দিয়ে ১০০০ মেগাওয়াট জ্বালানি আমদানি করে বাংলাদেশ৷ এই লাইনটি এবার নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আনতে কাজে লাগানো হবে।

এই বিষয়ে জিএমআর কোম্পানির সাথে ২০১৯ সালে চুক্তি করে পিডিবি। জিএমআর নেপালের পক্ষ হয়ে চুক্তি করে, যা এখন চূড়ান্ত করে আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে করা হবে।

নেপাল থেকে সরাসরি না কিনে ভারতীয় কোম্পানির সাথে চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে বেশ সমালোচনা হয়েছে।

মূলত ভারত বিদ্যুৎ আমদানি বিষয়ে কিছু নিয়ম তৈরি করে রেখেছে। এই বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবসা দুটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। 

এছাড়া নেপালের সাথে বাংলাদেশের সরাসরি সীমান্ত নেই। এর কারনে তাদের কাছ থেকে সরাসরি আমদানি করতে পারবে না সরকার।

কিন্তু এভাবে বিদ্যুৎ কেনা হলে তার দাম বেশি হবে কিনা তা নিয়েও আশংকা প্রকাশ করেছেন অনেকে। এই আশংকাকে গুরুতর মনে করছে না কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছেন নেপাল থেকে কেনা বিদ্যুৎ এর দাম কম হবে।

নেপালে জলবিদ্যুৎতের সম্ভবনা প্রবল। তাছাড়া দেশটির জনসংখ্যা কম। তাই নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে গ্রীষ্ম বর্ষা মৌসুমে রপ্তানি করতে পারে তারা।

আমদানির পাশাপাশি  শীতকালে নেপালে বিদ্যুৎ  রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এই সময় দেশীয় চাহিদা কমে যায়। তাই চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত অংশ বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। 

এর আগে শুধু মাত্র ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতো বাংলাদেশ। এবার আরো একটি প্রতিবেশি দেশ সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে।

এদিকে সম্প্রতি নেপাল-বাংলাদেশের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য তিন দেশের ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে চেষ্টা করতে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।




জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সীমান্তে আবার ও বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আলী হোসেন (৪০) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার ধবলগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল গফুরের ছেলে।

রাত পোহালেই শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে সরঞ্জাম

রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের সকল সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি।

অসহায় সামিয়ার পাশে দাঁড়ালো স্বপ্ন

লালমাই উপজেলার ২ নং বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার ১২ বছর বয়সী অসহায় মেয়ে সামিয়া আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সামিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নগদের ক্যাম্পেইনে হেলিকপ্টার ভ্রমণের স্বপ্ন সত্যি হলো ইমন ও আফজালের

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নগদ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়, যেখানে কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা হেলিকপ্টার ভ্রমণের আকর্ষণীয় পুরস্কার জিততে পারতেন। এই ক্যাম্পেইনের মূল বিজয়ী হয়েছেন ঢাকার দুই গ্রাহক কাজী ইমন ও আফজাল হোসেন।