

নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারে গড়ে উঠেছে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্ছল। সে ইকোনমিক জোনে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে চায় ভিনদেশিরা। আগ্রহীদের তালিকায় রয়েছে জাপান , আমেরিকা সহ আরো সাতটি দেশের ৪০ টি কোম্পানি। ইতিমধ্যেই সমঝোতা হয়েছে তিনটি কোম্পানির সাথে। অর্থনৈতিক অঞ্ছল কতৃপক্ষের তথ্যমতে চলতি বছরের ডিসেম্বরে হবে আনুষ্টানিক চুক্তি। তবে এই সব বিনিয়োগ প্রস্তাবকে চুড়ান্ত রুপ দিতে এখনো করতে হবে অনেক কাজ।বিশেষ জোনটিতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ- গ্যাস এবং অবকাঠামো সেবা নিশ্চিতে সার্বক্ষনিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রন কারী কতৃপক্ষ।ঢাকা - সিলেট মহাসড়কের প্রবেশমুখে নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার। এই অঞ্ছলে প্রবেশ করলেই দেখা মেলে বিশাল এলাকা জুড়ে চলছে কর্মযজ্ঞ। এখানে প্রায় ১ হাজার একর জমির উপর নির্মিত হচ্ছে দেশে বিনিয়োগ আগ্রহী জাপানিদের জন্যে বিশেষ ইকোনমিক জোন।পরিকল্পনা মোতাবেক ৬২০ একর জমি অধিগ্রহন করে উন্নয়ন কাজের শুরু হয় ২০২০ সালের শেষ দিকে। করোনাকালীন সময় হলেও থেমে থাকেনি কাজ।পরবর্তীতে আরো ৩৮০ একর সম্প্রসারন করা হয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্ছলটির পরিধি। দুই বছরের ব্যবধানে কারখানা স্থাপনে প্রস্তত হয়েছে প্রায় ২০০ একর জমি। ২০২৩ সালের জুন নাগাদ শেষ হবে প্রথম কিস্তির কাজ। এরপরে শুরু হবে বাকি ৩৮০ একর জমি উন্নয়নের কাজ।প্রকল্পটির বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে চলেছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। এই অঞ্ছলের ভেতরে নির্মান করা হচ্ছে বিশেষ ইন্ডাস্ট্রি ফ্রেন্ডলি সড়ক। সে সড়ক প্রস্থে ১৭৮ ফিট এবং লম্বায় প্রায় সাড়ে চারশ মিটার। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতের লক্ষ্যে নির্মান করা হচ্ছে অবকাঠামো।পুরো ইকোনমিক জোনকে কেন্দ্র করে ভেতরেই নির্মান হবে ২৩০ কিলো ভোল্টের একটি সাব স্টেশন। যা সংযুক্ত থাকবে পাওয়ার গ্রিডের সাথে।ফলে কখনোই বিদ্যুৎ যাবে না ইকোনমিক জোনটিতে। এছাড়া পুরো অঞ্ছলের জন্যে নির্মান হচ্ছে বিশেষ বর্জ্য এবং পয়নিষ্কাষন ব্যবস্থা। নির্মান হচ্ছে একটি স্থায়ী অফিস ভবনও। এছাড়া শিল্পাঞ্ছলটিতে সার্বক্ষনিক গ্যাস সেবা নিশ্চিতকরনে ১০০ এমএম সেফটির গ্যাস সিজিএস নির্মানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।কতৃপক্ষের তথ্য মতে এই গ্যাস লাইনের জন্যে ইতিমধ্যেই টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। নির্মান চলমান থাকলেও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে কারখানা স্থাপনের কাজ।জাপান ইকোনমিক জোনে প্রথম কারখানা স্থাপন শুরু করেছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। তারা অধিগ্রহন করেছে প্রায় ৩৩ একর জমি। দেশে ইকোনমিক জোন স্থাপনে দায়িত্ব প্রাপ্ত বেজা জানায় নতুন এই অঞ্ছলে বিনিয়োগ করতে আলোচনা করছে জাপানের ত্রিশটি কোম্পানি।এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ভারত, তুরষ্ক অস্ট্রেলিয়া এবং তাইওয়ানের দশটি কোম্পানি কারখানা করার আগ্রহ দেখিয়েছে। এবছরের মধ্যেই জমি বরাদ্দ পেতে পারে রাসয়ানিক ও টয়লেট্রিজ খাতে জাপান ও জার্মানির তিনটি কোম্পানি। তবে জানা যায়নি কোম্পানি গুলোর নাম।বিপুল অর্থ খরচ করে নির্মান করা এই বিশেষ ইকোনমিক জোনে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চত করতে চায় সরকার। যেখানে কর্মসংস্থান হবে এক লাখের বেশি মানুষের। বিশ্লেষকেরা বলছেন এই প্রকল্পের পুর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে দেশের ইকোনমিতে বিশাল অবদান রাখবে। এছাড়াও আশেপাশের এলাকার আর্থ সামাজিক পরিবেশের ব্যপক পরিবর্তন ঘটবে। স্থানীয়দের পাশাপাশি উপকৃত হবে পুরো দেশ।



