বাংলাদেশ


বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায় চল্লিশটি বিদেশি কোম্পানি


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৪ অক্টোবর ২০২২, ১২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায় চল্লিশটি বিদেশি কোম্পানি

নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারে গড়ে উঠেছে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্ছল। সে ইকোনমিক জোনে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে চায় ভিনদেশিরা। 

আগ্রহীদের তালিকায় রয়েছে জাপান , আমেরিকা সহ আরো সাতটি দেশের ৪০ টি কোম্পানি। ইতিমধ্যেই সমঝোতা হয়েছে তিনটি কোম্পানির সাথে। 

অর্থনৈতিক অঞ্ছল কতৃপক্ষের তথ্যমতে  চলতি বছরের ডিসেম্বরে হবে আনুষ্টানিক চুক্তি। তবে এই সব বিনিয়োগ প্রস্তাবকে চুড়ান্ত রুপ দিতে এখনো করতে হবে অনেক কাজ।

বিশেষ জোনটিতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ- গ্যাস এবং অবকাঠামো সেবা নিশ্চিতে সার্বক্ষনিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রন কারী কতৃপক্ষ।

ঢাকা - সিলেট মহাসড়কের প্রবেশমুখে নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার। এই অঞ্ছলে প্রবেশ করলেই দেখা মেলে বিশাল এলাকা জুড়ে চলছে কর্মযজ্ঞ। 

এখানে প্রায় ১ হাজার একর জমির উপর নির্মিত হচ্ছে দেশে বিনিয়োগ আগ্রহী জাপানিদের জন্যে বিশেষ ইকোনমিক জোন।

পরিকল্পনা মোতাবেক ৬২০ একর জমি অধিগ্রহন করে উন্নয়ন কাজের শুরু হয় ২০২০ সালের শেষ দিকে। করোনাকালীন সময় হলেও থেমে থাকেনি কাজ।

পরবর্তীতে আরো ৩৮০ একর সম্প্রসারন করা হয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্ছলটির পরিধি। দুই বছরের ব্যবধানে কারখানা স্থাপনে প্রস্তত হয়েছে প্রায় ২০০ একর জমি। 

২০২৩ সালের জুন নাগাদ শেষ হবে প্রথম কিস্তির কাজ। এরপরে শুরু হবে বাকি ৩৮০ একর জমি উন্নয়নের কাজ।

প্রকল্পটির বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে চলেছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। এই অঞ্ছলের ভেতরে নির্মান করা হচ্ছে বিশেষ ইন্ডাস্ট্রি ফ্রেন্ডলি সড়ক। 

সে সড়ক প্রস্থে ১৭৮ ফিট এবং লম্বায় প্রায় সাড়ে চারশ মিটার। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতের লক্ষ্যে নির্মান করা হচ্ছে অবকাঠামো।

পুরো ইকোনমিক জোনকে কেন্দ্র করে ভেতরেই নির্মান হবে ২৩০ কিলো ভোল্টের একটি সাব স্টেশন। যা সংযুক্ত থাকবে পাওয়ার গ্রিডের সাথে।

ফলে কখনোই বিদ্যুৎ যাবে না ইকোনমিক জোনটিতে। এছাড়া পুরো অঞ্ছলের জন্যে নির্মান হচ্ছে বিশেষ বর্জ্য এবং পয়নিষ্কাষন ব্যবস্থা। নির্মান হচ্ছে একটি স্থায়ী অফিস ভবনও। 

এছাড়া শিল্পাঞ্ছলটিতে সার্বক্ষনিক গ্যাস সেবা নিশ্চিতকরনে ১০০ এমএম সেফটির গ্যাস সিজিএস নির্মানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কতৃপক্ষের তথ্য মতে এই গ্যাস লাইনের জন্যে ইতিমধ্যেই টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। নির্মান চলমান থাকলেও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে কারখানা স্থাপনের কাজ।

জাপান ইকোনমিক জোনে প্রথম কারখানা স্থাপন শুরু করেছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। তারা অধিগ্রহন করেছে প্রায় ৩৩ একর জমি। 

দেশে ইকোনমিক জোন স্থাপনে দায়িত্ব প্রাপ্ত বেজা জানায় নতুন এই অঞ্ছলে বিনিয়োগ করতে আলোচনা করছে জাপানের ত্রিশটি কোম্পানি।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ভারত, তুরষ্ক অস্ট্রেলিয়া এবং তাইওয়ানের দশটি কোম্পানি কারখানা করার আগ্রহ দেখিয়েছে। 

এবছরের মধ্যেই জমি বরাদ্দ পেতে পারে রাসয়ানিক ও টয়লেট্রিজ খাতে জাপান ও জার্মানির তিনটি কোম্পানি। তবে জানা যায়নি কোম্পানি গুলোর নাম।

বিপুল অর্থ খরচ করে নির্মান করা এই বিশেষ ইকোনমিক জোনে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চত করতে  চায় সরকার। 

যেখানে কর্মসংস্থান হবে এক লাখের বেশি মানুষের। বিশ্লেষকেরা বলছেন এই প্রকল্পের পুর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে দেশের ইকোনমিতে বিশাল অবদান রাখবে। 

এছাড়াও আশেপাশের এলাকার আর্থ সামাজিক পরিবেশের ব্যপক পরিবর্তন ঘটবে। স্থানীয়দের পাশাপাশি উপকৃত হবে পুরো দেশ।



জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

জানুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৫৪৬ প্রাণ, ৩৭ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

বিদায়ী জানুয়ারি মাসে দেশের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র ছিল উদ্বেগজনক। মাসজুড়ে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত এবং ১ হাজার ২০৪ জন আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনার প্রায় ৩৭ দশমিক ৮৬ শতাংশই ঘটেছে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে।

আজ দুই ঘণ্টা কিছু গ্রাহকের মোবাইল নেটওয়ার্কে সাময়িক বিঘ্ন হতে পারে, কারণ জানাল অ্যামটব

দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিছু গ্রাহকের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের কারণেই এ ধরনের সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

বসুন্ধরায় দেড় কোটি টাকায় কেনা ফ্ল্যাটে ‘লুটের’ অভিযোগ প্রবাসী তানিয়া রহমানের

দশ বছর ইংল্যান্ডে প্রবাসজীবন কাটিয়ে স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরেন তানিয়া রহমান। লক্ষ্য ছিল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে উঠবেন, নতুন করে শুরু করবেন জীবনের অধ্যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে।

৪৬ কোটির বরাদ্দ, পাঁচ বছরে ব্যয় প্রায় ১৮৮ কোটি- তবু অভিযান চললেও মরছে না মশা

রাজধানীতে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। মশা নিধন সিটি করপোরেশনের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কার্যকারিতা নিয়ে। এমন প্রেক্ষাপটে ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।