বাংলাদেশ


দেশে চিনি সংকট চরমে


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৬ অক্টোবর ২০২২, ১২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার

দেশে চিনি সংকট চরমে
দেশের চিনির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে অবস্থিত দেশের সব চেয়ে বড় পাইকারি  বাজারে অর্থ দিয়েও চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। 

চাহিদা ও জোগানের অসামঞ্জস্যতার কারনে সরবরাহ চেইনে এমন সংকট দেখা দিয়েছে। অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে দাম। মাত্র ১০ দিনের মাঝেই ১ মণ চিনির দাম বেড়েছে ৩০০-৩৫০ টাকা। 

এর কারন হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ কম কম থাকায় এর প্রভাব পড়েছে চিনি উৎপাদনেও। এছাড়া টিসিবিতে যোগান দেয়ার জন্য স্থানীয় বাজার থেকে চিনি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে পন্যটি চাহিদা মতো মিলছে না। 

এছাড়া ডলারের অভাবে আমদানী কম হওয়াও চিনি সংকটের একটি কারন। চিনির যোগান সংকট শুধুমাত্র  ভোক্তা পর্যায়েই সমস্যার সৃষ্টি করছে তা নয়, খাদ্যপণ্য তৈরীতেও খারাপ প্রভাব পড়ছে। 

দেশে চিনির মোট চাহিদা প্রায় বিশ লাখ টন। কিন্তু রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত পনেরটি চিনিকল থেকে আসে ৩০ হাজার টনের চেয়ে কিছুটা কম। তাই বেসরকারি ভাবে বাইরে থেকে আমদানি করার প্রয়োজন পড়ে। 

চিনির পর্যাপ্ত চাহিদা মেটাতে মেঘনা গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, দেশবন্ধু সুগার, আবদুর মোনেম কোম্পানী, এস আলম সুগার ইন্ড্রাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ২২ লাখ টনের মতো অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে। 

এগুলো নিজস্ব কারখানায় পরিশোধন করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। চিনির বর্তমান বাজারে সব চেয়ে বেশি অংশীদারিত্ব রয়েছে সিটি গ্রুপের, যা প্রায় ৪১ শতাংশ। 

৩১ শতাংশ ও ১১ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে  দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মেঘনা গ্রুপ এবং আবদুল মোনেম কোম্পানী। এদিকে ৯ শতাংশ করে অংশীদারিত্ব রয়েছে দেশবন্ধু এবং এস আলম গ্রুপের। 

ডিও ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন টাকা দিয়েও পরিশোধিত চিনি পাচ্ছেন না তারা। ডিও ক্রয় করে কারখানার গেটে অবস্থান করলে তবেই চিনি পাওয়া যাচ্ছে। 

চট্টগ্রামের এস আলমের কারখানা থেকে চিনির সরবরাহ আসতে লাগছে ২ থেকে ৩ দিন। অন্যদিকে মেঘনা ও সিটি গ্রুপের কারখানা থেকে চিনি আসতে ১৫ দিনের মতো সময় লাগে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকট এর মূল কারন। 

বাজারে রেডিমেট চিনির পরিমাণ খুবই কম। ১ থেকে ২ টনের বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। দেশবন্ধু এবং এস আলমের রেডি চিনির  দাম মণ প্রতি যথাক্রমে  ৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং ৩ হাজার ৬৭০ টাকা। 

বাস্তবতা হলো যোগান কম হোক বা বেশি চিনির চাহিদা ক্রমাগত বেড়েই চলে। ফলে সংকট ক্রমেই বাড়ছে। আগে ঢাকার প্রত্যেক মিল দিনে ২শ গাড়ি করে চিনি ডেলিভারি দিতো। এখন তারা ৫০ গাড়িও দিতে পারছে না।

কারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা চিনির উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। এছাড়া বৈশ্বিক কারন হিসেবে ডলার সংকট ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চিনির বাজার আরো অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

তবে জনগনের কথা বিবেচনা করে গত সোমবার থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি কেজি প্রতি ৫৫ টাকায় চিনি বিক্রি করছে। 

ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু স্থান থেকে চিনি সংগ্রহ করতে পারবেন ক্রেতারা। এ ক্ষেত্রে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড ব্যতীত পাওয়া যাবে স্বল্পমূল্যের চিনি। 

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর ১ টা থেকে চিনি বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়াও বাজার স্থিতিশীল রাখতে  ১ লাখ টন চিনি আমদানি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। 



জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

জানুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৫৪৬ প্রাণ, ৩৭ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

বিদায়ী জানুয়ারি মাসে দেশের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র ছিল উদ্বেগজনক। মাসজুড়ে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত এবং ১ হাজার ২০৪ জন আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনার প্রায় ৩৭ দশমিক ৮৬ শতাংশই ঘটেছে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে।

আজ দুই ঘণ্টা কিছু গ্রাহকের মোবাইল নেটওয়ার্কে সাময়িক বিঘ্ন হতে পারে, কারণ জানাল অ্যামটব

দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিছু গ্রাহকের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের কারণেই এ ধরনের সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

বসুন্ধরায় দেড় কোটি টাকায় কেনা ফ্ল্যাটে ‘লুটের’ অভিযোগ প্রবাসী তানিয়া রহমানের

দশ বছর ইংল্যান্ডে প্রবাসজীবন কাটিয়ে স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরেন তানিয়া রহমান। লক্ষ্য ছিল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে উঠবেন, নতুন করে শুরু করবেন জীবনের অধ্যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে।

৪৬ কোটির বরাদ্দ, পাঁচ বছরে ব্যয় প্রায় ১৮৮ কোটি- তবু অভিযান চললেও মরছে না মশা

রাজধানীতে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। মশা নিধন সিটি করপোরেশনের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কার্যকারিতা নিয়ে। এমন প্রেক্ষাপটে ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।