বাংলাদেশ


স্কুলে শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ ভিডিও: ট্রমায় চার বছরের শিশু, মামলা করে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

স্কুলে শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ ভিডিও: ট্রমায় চার বছরের শিশু, মামলা করে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার

রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি বেসরকারি স্কুলে চার বছরের কম বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনের শিকার শিশুটি এখন চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। ঘুমের মধ্যেও সে চিৎকার করে উঠে বলছে, মুখ সেলাই করে দিও না, স্কুলে আর যাব না।

 

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পল্টন থানায় মামলা দায়েরের পর ভুক্তভোগী শিশুটির মা এসব কথা জানান। তিনি বলেন, সন্তানের নিরাপত্তাহীনতায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। শিশুটি এখন বাবা-মায়ের সঙ্গেও থাকতে চাইছে না, ভয়ে নানাবাড়িতে চলে গেছে।

 

ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ জানুয়ারি নয়াপল্টনের মসজিদ রোডে অবস্থিত ‘শারমিন একাডেমি’ নামের একটি স্কুলে। শিশুটি সেখানে প্রি-প্লে শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল মাত্র এক সপ্তাহ আগে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্কুলের একটি অফিস কক্ষে শিশুটিকে এক নারী ও এক পুরুষ শারীরিকভাবে নির্যাতন করছেন। কখনো চড়, কখনো গলা ও মুখ চেপে ধরা, এমনকি শিশুকে ভয় দেখানোর দৃশ্যও ধরা পড়ে ভিডিওতে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওতে থাকা নারী হলেন স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং পুরুষটি স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার। তারা স্বামী-স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে দুজনই পলাতক রয়েছেন।

 

শিশুটির বাবা জানান, নির্যাতনের পর শিশুটি বারবার বলছিল “আংকেল বলেছে, বাসায় বললে গলায় পারা দেবে, মুখ সেলাই করে দেবে।” এসব কথা শুনে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

আজ দুপুরে শিশুটির মা বাদী হয়ে পল্টন থানায় শিশু আইন ২০১৩-এর ৭০ ধারায় মামলা করেন। এ ধারায় শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (মতিঝিল জোন) হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী জানান, নির্যাতনের ভিডিওতে ঘটনার সত্যতা স্পষ্ট। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

পল্টন থানার ওসি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান বলেন, শুরুতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতার কারণে মামলা করতে সাহস পাচ্ছিল না। তবে আইনগত সহায়তা ও আশ্বাসের পর তারা মামলা করতে সম্মত হন।

 

এদিকে আজ সকালে স্কুলটিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। সেখানে জড়ো হওয়া অভিভাবকেরা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অনেকেই সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের কথা জানান।

 

শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সমাজসেবা অধিদপ্তরের চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটির মানসিক পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন তাদের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এ ধরনের অপরাধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে শিশু সুরক্ষা ঝুঁকিতে থেকেই যাবে।

 

ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষার নামে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও জবাবদিহি কতটা কার্যকর?


সম্পর্কিত

বাংলাদেশন্যায়বিচার

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সীমান্তে আবার ও বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আলী হোসেন (৪০) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার ধবলগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল গফুরের ছেলে।

রাত পোহালেই শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে সরঞ্জাম

রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের সকল সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি।

অসহায় সামিয়ার পাশে দাঁড়ালো স্বপ্ন

লালমাই উপজেলার ২ নং বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার ১২ বছর বয়সী অসহায় মেয়ে সামিয়া আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সামিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নগদের ক্যাম্পেইনে হেলিকপ্টার ভ্রমণের স্বপ্ন সত্যি হলো ইমন ও আফজালের

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নগদ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়, যেখানে কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা হেলিকপ্টার ভ্রমণের আকর্ষণীয় পুরস্কার জিততে পারতেন। এই ক্যাম্পেইনের মূল বিজয়ী হয়েছেন ঢাকার দুই গ্রাহক কাজী ইমন ও আফজাল হোসেন।