বাংলাদেশ


ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকসের আগ্রাসনে জনস্বাস্থ্যের হুমকি, শুল্ক বৃদ্ধি ও কঠোর নজরদারির জোর দাবি


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার

ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকসের আগ্রাসনে জনস্বাস্থ্যের হুমকি, শুল্ক বৃদ্ধি ও কঠোর নজরদারির জোর দাবি

ছবি: দূরবিন নিউজ


দেশে ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকস, হোমকেয়ার এবং স্কিনকেয়ার পণ্যের আগ্রাসন দিন দিন বেড়ে চলেছে, যা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

 

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি) এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনার “ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের আগ্রাসন: ভোক্তার সুরক্ষায় প্রয়োজন কঠোর নীতিমালা” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেমিনারটি ডিএনসিআরপি ও অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (ASBMEIB) যৌথভাবে আয়োজন করে।

 

সেমিনারের প্রধান অতিথি, ডিএনসিআরপি মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ বলেন, “ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের আগ্রাসন রোধে ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্ম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে হালাল পণ্যের বৈশ্বিক বাজারের সুযোগ কাজে লাগানো যাবে না।”

 

মূল প্রবন্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, “দেশে কসমেটিকস খাত অনেকাংশে উপেক্ষিত। অথচ এটি শুধু সাজসজ্জার জন্য নয়, জনস্বাস্থ্য, সামাজিক কল্যাণ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ভেজাল পণ্যের প্রভাবে দেশীয় শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

 

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ইসহাকুল হোসেন বলেন, কসমেটিকস শিল্পের কাঁচামাল আমদানি শুল্ক বর্তমানে ১২৭.৭২ শতাংশ, যা স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হ্রাস করছে। তিনি শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে টেকসই ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করার আহ্বান জানান।

 

আইবিএফবির সহসভাপতি এম এস সিদ্দিকী ভোক্তাদের সচেতন থাকার গুরুত্বের উপর জোর দেন। বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সাহিদ হোসেন বলেন, “ভেজাল পণ্যের বিস্তার রোধ ও দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাঁচামাল আমদানির শুল্ক কমানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে, আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা যেতে পারে।”

 

এসএমই ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আলী জামান দেশীয় শিল্পের টেকসই বিকাশের স্বার্থে লাগেজ পার্টি বা অনানুষ্ঠানিক আমদানি বন্ধ করার ওপর জোর দেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শারমিনা হক ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকস ব্যবহারের ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরেন, যা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যহানি ও হতাশা সৃষ্টি করছে।

 

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুল ইসলাম, উপ-পরিচালক আতিয়া সুলতান, বিএসটিআই উপ-পরিচালক আলাউদ্দিন হুসাইন এবং সিনিয়র সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন। বক্তারা সকলের প্রতি আহ্বান জানান, ভোক্তা সচেতনতা ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।


সম্পর্কিত

ভেজালজনস্বাস্থ্যের হুমকি

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

হামে শিশুমৃত্যু ৫১২, একদিনে মারা গেছে আরও ১৩ শিশু

দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ১৩২ শিশু। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পল্লবীতে শিশু হত্যা: সামাজিক মাধ্যমে কেন আলোচনায় ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’?

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি যখন তুঙ্গে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৫ সালের বহুল আলোচিত অস্ট্রেলিয়ান স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’ (The Disappearance of Willie Bingham)। মাত্র ১২ মিনিটের এই মনস্তাত্ত্বিক সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ম্যাথু রিচার্ড।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল জামায়াতে ইসলামী

ধর্ষকের প্রকাশ্য শাস্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

রাত বাড়লেই সুনামগঞ্জ শহরে চুরির আতঙ্ক, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

সুনামগঞ্জ শহরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে চুরির ঘটনা। বাসাবাড়ির পাশাপাশি সরকারি, আধাসরকারি ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানেও হানা দিচ্ছে চোরচক্র। চিহ্নিত চিচকে চোরদের দৌরাত্ম্যে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।