বাংলাদেশ
শেষ হলো ম্যাজিক বাউলিয়ানা ২০২৫, চ্যাম্পিয়ন গাজীপুরের সোহাগ নূরী

সুরের মায়াজাল আর বাউলিয়ানার জাদুতে মুখর ছিল সাভারের আশুলিয়ার এইজিস (AEGIS) ট্রেনিং সেন্টারের প্রাঙ্গণ। সান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড-এর পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয় দেশের সবচেয়ে বড় ফোক রিয়েলিটি শো, ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা ২০২৫’-এর জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালে।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীতের বিশুদ্ধতা রক্ষা, এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে এই সুরের ধারাকে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো ম্যাজিক বাউলিয়ানা আয়োজিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আয়োজিত হয়েছে এর ৫ম আসর, ম্যাজিক বাউলিয়ানা ২০২৫।
২০২৫-এর আগস্টে শুরু হওয়া এই আসরের অনলাইন ও অফলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন প্রায় ৪০ হাজার প্রতিযোগী। সেখান থেকে বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে সেরা ৫ জন গ্র্যান্ড ফিনালেতে লড়ার সুযোগ পান। আর চূড়ান্ত পর্বে সবাইকে ছাপিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন গাজীপুরের সোহাগ নূরী। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আসরে, প্রথম রানার-আপ হয়েছেন জামালপুরের মেহজাবিন মোবাশ্বেরা এবং দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছেন নওগাঁর এনামুল হক মধু। এছাড়াও সেরা পাঁচের বাকি দুইজন প্রতিযোগী, চুয়াডাঙ্গার রজনী খাতুন ও গোপালগঞ্জের আঁখি আক্তার ঝর্ণা যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন।
চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিজয়ী পেয়েছেন ৫ লক্ষ টাকার চেক। এছাড়াও প্রথম রানার-আপ ৩ লক্ষ এবং দ্বিতীয় রানার-আপ পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ২ লক্ষ টাকার চেক। বাকি দু’জন ফাইনালিস্টের প্রত্যেকে, বিশেষ উৎসাহ পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকার চেক। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মাননীয় তিন বিচারক বাউল শফি মন্ডল, নিগার সুলতানা সুমি ও পার্থ বড়ুয়া, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড-এর সিইও, মালিক মোহাম্মদ সাঈদ এবং মিডিয়াকম লিমিটেড-এর সিইও ও মাছরাঙা টেলিভিশন-এর নির্বাহী পরিচালক অজয় কুমার কুণ্ডু।
আয়োজনের শুরুতেই সেরা ১০ প্রতিযোগীর কণ্ঠে থিম সং পরিবেশনা পুরো মঞ্চকে উজ্জীবিত করে। এরপর একে একে মঞ্চ মাতান সেরা ৫ প্রতিযোগী-আঁখি আক্তার ঝর্ণা, মেহজাবিন মোবাশ্বেরা, রজনী খাতুন, এনামুল হক মধু এবং সোহাগ নূরী।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল লালনকন্যা ফরিদা পারভীনের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন। মেন্টরদের পরিবেশনার পাশাপাশি বিচারক শফি মন্ডল, নিগার সুলতানা সুমি এবং পার্থ বড়ুয়ার বিশেষ পরিবেশনা ‘তিন পাগলের মেলা’ দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়া বিগত আসরগুলোর চ্যাম্পিয়ন ও জনপ্রিয় শিল্পীদের (শিবলী সাদিক, আয়েশা জেবিন দীপা, পাখি বাউলিয়ানা ও শফিউল বাদশা) যৌথ পরিবেশনা বাউলিয়ানার দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক অনন্য নজির স্থাপন করে।
অনুষ্ঠানে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড-এর সিইও মালিক মোহাম্মদ সাঈদ জানান, যেকোনো দেশের সংস্কৃতির একদম কেন্দ্রে থাকে লোকগান। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম না। বাংলার লোকগানের যে ভিন্নতা, গভীরতা, সেটা এতোটাই ব্যপক যে শতবছর আগেকার লেখা গান এখনো প্রাসঙ্গিক। এই ঐতিহ্যকে, তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া ও সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় যারা পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।
‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা ২০২৫’-এর এই বিশাল আয়োজনে ক্রিয়েটিভ ও ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিল মিডিয়াকম লিমিটেড। ওয়ারড্রোব পার্টনার বিশ্বরঙ এবং আয়োজনে ছিল মাছরাঙা টেলিভিশন। দর্শকদের সুবিধার্থে ম্যাজিক বাউলিয়ানার এ পর্যন্ত প্রচারিত সব কটি পর্বই ইউটিউবে নিজস্ব চ্যানেলে সংরক্ষণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
জনপ্রিয়
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
হামে শিশুমৃত্যু ৫১২, একদিনে মারা গেছে আরও ১৩ শিশু
দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ১৩২ শিশু। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পল্লবীতে শিশু হত্যা: সামাজিক মাধ্যমে কেন আলোচনায় ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’?
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি যখন তুঙ্গে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৫ সালের বহুল আলোচিত অস্ট্রেলিয়ান স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’ (The Disappearance of Willie Bingham)। মাত্র ১২ মিনিটের এই মনস্তাত্ত্বিক সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ম্যাথু রিচার্ড।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল জামায়াতে ইসলামী
ধর্ষকের প্রকাশ্য শাস্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

রাত বাড়লেই সুনামগঞ্জ শহরে চুরির আতঙ্ক, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা
সুনামগঞ্জ শহরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে চুরির ঘটনা। বাসাবাড়ির পাশাপাশি সরকারি, আধাসরকারি ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানেও হানা দিচ্ছে চোরচক্র। চিহ্নিত চিচকে চোরদের দৌরাত্ম্যে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।









